নেপালে বিধ্বস্ত ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের প্লেন দুর্ঘটনা বিষয়ে সম্প্রতি নতুন একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। নেপালি রিপোর্টটিতে পাইলট আবিদ সুলতানকে দায়ী করা হয়েছে। যদিও বিশ্লেষকরা বলছেন, দুর্ঘটনার পর দিন ত্রিভুবন বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কনট্রোলারের সঙ্গে কথোপকথনের যে অংশ ইউটিউবে প্রকাশিত হয়েছিল তাতে পাইলট আবিদ সুলতানের কথা বা আচরণ উদ্বিগ্ন বা বেপরোয়া বলে মনে হয়নি। উড়োজাহাজটি রানওয়ের কোন দিক থেকে অবতরণ করবে সেটিই ছিল তাদের কথোপকথনের বিষয়। তবে তার আগের কথোপকথনকে ভিত্তি ধরে নেপালের এ রিপোর্টটি তৈরি হয়েছে।
পাইলটদের কথোপকথন বিশ্লেষণ করে এতে নিহত পাইলট আবিদ সুলতান প্রচণ্ড মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবেদনটিতে বিধ্বস্ত উড়োজাহাজের যান্ত্রিক ত্রুটি বা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারের ভুল নির্দেশনার কোনো কথা উল্লেখ নেই। দুর্ঘটনার জন্য পুরোপুরিভাবে পাইলটকেই দায়ী করেছেন তারা। রিপোর্টটি অনলাইনে প্রকাশিত হলে অনেকে মন্তব্য করেছেন, মৃত মানুষকে দায়ী করা সহজ। কিন্তু দুর্ঘটনার সঠিক কারণ বের করা সময়ের দাবি।
নেপাল সরকারের তদন্ত প্রতিবেদনটির একাংশ সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে নেপালের কাঠমাণ্ডু পোস্টে। রিপোর্টে দেখা যায়, ককপিটের ভয়েস রেকর্ডারের কথোপকথন বিশ্লেষণ করে জানা গেছে পাইলট প্রচণ্ড রকম মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন। এছাড়াও কম ঘুমের কারণে তাকে অবসাদগ্রস্ত ও ক্লান্ত বলে মনে হয়েছে। ককপিটে বসে তিনি একাধিক বার কান্নাকাটি করেছিলেন বলেও প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে।
ফ্লাইটের সময় পাইলট আবিদ সুলতান ইউএস বাংলার আরেকজন নারী কো-পাইলটের ব্যাপারে আপত্তিকর ভাষায় একাধিকবার কথা তুলেছিলেন। ফ্লাইটের পুরো সময় জুড়েই মূলত তাদের আন্তসম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে কথা হচ্ছিল। তবে ককপিটে থাকা কো-পাইলট পৃথুলা রশিদ এই আলোচনায় শ্রোতার ভূমিকায় ছিলেন বলে প্রতিবেদন উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অডিও রেকর্ড থেকে তদন্তকারীরা বুঝতে পেরেছেন ফ্লাইটের এক পর্যায়ে পাইলট আবিদ সুলতান কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন। পৃথুলা রশিদকে তিনি বলেন, ওই নারী সহকর্মীর আচরণে তিনি ভীষণ মর্মাহত এবং শুধুমাত্র তার কারণেই চাকরি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গত ১২ মার্চ ঢাকা থেকে কাঠমান্ডুগামী বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলার ফ্লাইট বিএস২১১, ৭১ জন আরোহী নিয়ে ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত হয়।
তদন্ত প্রতিবেদন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নেপাল সরকার প্রকাশ করেনি। এমন সময় সম্পূর্ণ দায় পাইলটের ওপর চাপিয়ে রিপোর্ট প্রকাশকে অনেকেই সন্দেহের চোখে দেখছেন। বিশেষ করে বিপজ্জনক তালিকাভুক্ত এয়ারপোর্ট ও কন্ট্রোল টাওয়ারের দোষ ঢাকার চেষ্টা করা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে বিশ্লেষকদের।




