রবিবার, আগস্ট ১৬, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়পঞ্চম দিনে বৃষ্টি মাথায় রাস্তায় শিক্ষার্থী

পঞ্চম দিনে বৃষ্টি মাথায় রাস্তায় শিক্ষার্থী

স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকলেও পঞ্চম দিনের মতো নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে স্কুল ড্রেস পরা শিক্ষার্থীদের নেমে আসতে দেখা গেছে। তারা গাড়িচালকদের লাইসেন্স পরীক্ষা করে দেখছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে রাজধানীর মৌচাক, আসাদগেট, মতিঝিল, সায়েন্স ল্যাব, নিউমার্কেট, শাহবাগ মোড়, মিরপুর, শনির আখড়া, উত্তরার হাউস বিল্ডিং, বিমানবন্দর এলাকায় শিক্ষার্থীদের রাস্তায় জড়ো হতে দেখা যায়। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যেই শিক্ষার্থীরা রাস্তায় অবস্থান নিয়েছে। তারা স্লোগান দিচ্ছে, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ (আমরা ন্যায়বিচার চাই)।

শিক্ষার্থীদের পাশেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দেখা যাচ্ছে। তবে পুলিশ সদস্যরা বলছেন, তারা শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে রাস্তা থেকে সরানোর চেষ্টা করছেন। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছেন। শিক্ষার্থীরা কোনো যানবাহনে হামলা করছে না। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকেও শিক্ষার্থীদের রাস্তায় নেমে আসার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

বেলা ১১টার দিকে বৃষ্টির মধ্যে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন স্থান থেকে শাহবাগ এলাকায় গিয়ে জড়ো হতে দেখা যায়। তারা স্লোগান দিচ্ছে। তবে এদিন শিক্ষার্থীরা রাস্তায় অবস্থান নিলেও যান চলাচলে বাধা দেয়নি। তারা চালকদের লাইসেন্স দেখে দেখে ছেড়ে দিচ্ছে। এর পাশাপাশি আজ ভাঙচুর ও বিআরটিএর অভিযানের কারণে রাস্তায় গণপরিবহনের সংখ্যা কম। এতে করে সাতসকালেই অফিসমুখী যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। অনেককে দীর্ঘক্ষণ ধরে রাস্তার পাশে বাসের অপেক্ষায় থাকতে দেখা গেছে।

রাজধানীর উত্তরা হাউস বিল্ডিং এলাকায় দেখা গেছে, সকাল ১০টা থেকে সেখানে আশপাশের এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এসে জড়ো হয়েছে। এর কারণে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। হাউস বিল্ডিং, আজমপুর, রাজলক্ষ্মী এলাকায় শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়েছে। মৌচাক এলাকায়ও শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে যানবাহনের চালকদের লাইসেন্স পরীক্ষা করছে। তবে তারা কোনো যানবাহনই আটকে রাখছে না। লাইসেন্স দেখে গাড়ি ছেড়ে দিচ্ছে। এখানে কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, তারা নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলবে। শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়েছে রাজধানীর আসাদগেট এলাকায়ও। সেখানে মোহাম্মদপুর ও আশপাশের এলাকার শিক্ষার্থীরা রাস্তার মাঝখানে এসে অবস্থান নিয়েছে। সেখানে মোহাম্মদপুর থানা ও শেরেবাংলা থানার পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

মতিঝিল এলাকায় শাপলা চত্বর ঘিরে অবস্থান নিয়েছে শিক্ষার্থীরা। তারা সেখানে বৃষ্টির মধ্যে রাস্তায় রয়েছে। এ সময় সেখানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকেও দেখা যায়। অনেকেই শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেন। আবার যানবাহনের ভোগান্তির কথাও বলেন অনেকেই। মিরপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ১০ নম্বর গোলচত্বরে মিরপুরের বিভিন্ন স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা এসে জড়ো হয়েছে। সেখানে তারা নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্লোগান দিচ্ছে। এমনিতে সাধারণ দিনে এখানে প্রচণ্ড যানজট থাকে মেট্রোরেলে কাজের জন্য। কিন্তু আজ রাস্তায় গণপরিহন কম থাকায় সেই যানজট দেখা যায়নি।

মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে শেওড়াপাড়া-কাজীপাড়া হয়ে ফার্মগেটগামী এবং ১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে ২, ১ হয়ে ফার্মগেট বা গাবতলীগামী পরিবহন কম থাকলেও সেগুলোতে যাত্রীদের প্রচণ্ড ভিড় দেখা গেছে। বৃষ্টির মধ্যে মানুষকে যানবাহনের অপেক্ষায় থাকতে দেখা গেছে। এ সময় শিক্ষার্থীরা বলে, ‘আমরা কোনো ভাইবোনের মৃত্যু চাই না। আমরা চাই দেশের মানুষ যাতে নিরাপদ সড়ক পায়। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে থাকবে। যে পর্যন্ত দাবি মানা না হবে, সেই পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা রাস্তা ছেড়ে যাবে না।’

গত ২৯ জুলাই রাজধানীর কুর্মিটোলার বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর পরিবহনের বাসের চাপায় দুই কলেজ শিক্ষার্থী নিহত হয়। এ ছাড়া আহত হয়েছে বেশ কয়েকজন। নিহত শিক্ষার্থীরা হলো শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী দিয়া খানম মিম ও দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম রাজীব।

এদিকে, সাত দফা দাবি আদায়ে আজ সারা দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। রাজধানীর কুর্মিটোলায় বিমানবন্দর সড়কের যে স্থানে শহীদ রমিজ উদ্দিন কলেজের দুই ছাত্রছাত্রী নিহত হয়েছিল, গতকাল সে স্থান থেকে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে ‘সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ছাত্র আন্দোলন’। তারা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও স্কুলগুলোতে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনের ডাক দেয়। সন্ধ্যায় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আজ সারা দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ