রবিবার, আগস্ট ১৬, ২০২৬
প্রচ্ছদচট্রগ্রাম প্রতিদিননগরের নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ চরমে

নগরের নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ চরমে

ভারী বৃষ্টিতে নগরের নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এতে নগরের বাকলিয়া, চকবাজার, বাদুরতলা, মুরাদপুর, ২ নম্বর গেইট, খাতুনগঞ্জ, আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিকসহ বিভিন্ন নিচু এলাকায় হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি উঠেছে। এতে দুর্ভোগ চরম পর্যায়ে ঠেকেছে নগরবাসীর।  এদিকে, নগরের আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকায় সড়কে নৌকা চলাচল করতে দেখা গেছে। জলাবদ্ধতার দুঃখ লাঘবে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) নেওয়া ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকায় মেগা প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। যদিও এখনো কোন অগ্রগতি না হলেও এ মেগা প্রকল্প জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তি দেবে এ আশায় বুক বেঁধে দিনপার করছেন নগরবাসী।

জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ চরম পর্যায়ে ঠেকেছে উল্লেখ করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ৮ নম্বর পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এম আশরাফুল আলম বলেন, ‘মুরাদপুর, ২ নম্বর গেইট এলাকার মূল সড়কসহ অলিগলিতে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। বৃষ্টি ও জোয়ারের পানি বাসা-বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়েছে। কিছুদিন আগে জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান মেগা প্রকল্পের অধীনে বির্জা ও চাকতাই খালের কিছু অংশ পরিষ্কার করেছিলো সিডিএ। বির্জা খালের কিছু কিছু অংশ এবং চাকতাই খালের কিছু অংশ পরিষ্কার করেছিলো। এখন কাজ বন্ধ রেখেছে। যেই অংশে কাজ করেছে, কোথাও গভীর আর কোথাও সামান্য খনন করেছে। খালের যেই অংশে গভীরভাবে খনন করেছে, সেই খালের পাড়ে থাকা বেশ কয়েকটি দেওয়াল ভেঙে পড়েছে বলে আমার কাছে অভিযোগ এসেছে। সেই খালের পাড় দিয়ে এখন পানি ঢুকে পড়ছে।’

জলাবদ্ধতা নিরসনে নেওয়া এ প্রকল্পের কাজ পরিকল্পনা অনুযায়ী সঠিকভাবে হলে আমরা জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবো। যোগ করেন কাউন্সিলর এম আশরাফুল আলম। জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ আমাদের নিত্য দিনের উল্লেখ করে নগরের ২৭ নম্বর দক্ষিণ আগ্রাবাদ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এইচ এম সোহেল বলেন, ‘আমার ওয়ার্ডে প্রায় চার লাখ বাসিন্দা। শুধু বর্ষাকালে নয় আগ্রাবাদে জলাবদ্ধতার দুঃখ এখন নিত্যদিনের। শুধু বর্ষার পানিতে এখানে পানি উঠে না, জোয়ারের পানিতেও আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিকসহ বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি উঠে। এখানে দুর্ভোগের শেষ নেই। এ জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি দিতে সরকার মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে। আর প্রকল্পের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সিডিএর ছালাম সাহেবকে। তিনি আগ্রাবাদের মহেশখাল ও আবেদিনপাড়ার নাছিরখালে কিছু খনন কাজ করেছেন। খাল খননের সময় সেখানে খালপাড়ের দেওয়াল ভেঙে গেছে। সেই ভাঙা খালপাড় দিয়ে এখন আরও বেশি জোয়ারের পানি ঢুকছে। ভারী বৃষ্টি আর জোয়ারের পানিতে আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকা জুড়ে এখন হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি। আগ্রাবাদ এলাকার অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যক্তি পর্যায়ে নৌকা ক্রয় করে সড়ক পারাপার করছেন।

ক্ষোভ প্রকাশ করে কাউন্সিলর এইচ এম সোহেল আরও বলেন, ‘সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বারবার আগ্রাবাদের সিডিএ আবাসিক এলাকার জলাবদ্ধতাকে গুরুত্ব দিয়েছেন। এখানে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি দিতে নানান উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু সরকার জলাবদ্ধতা প্রকল্পটি সিডিএকে দেওয়ায় আমরা আরও দুর্ভোগে পড়ে গেছি। যেহেতু এখানে জোয়ারের পানি ঢুকে, সেহেতু এ এলাকাকে প্রাধান্য দেওয়ার জন্য সিডিএ’কে বলা হয়েছে। ওনারা আগ্রাবাদের মহেশখাল ও নাছির খালের কিছু অংশ খনন করে, এখন কাজ বন্ধ রেখেছে। জোয়ারের পানি ঠেকাতে পারলে আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকাকে জলাবদ্ধতা থেকে রোধ করা যাবে। আগে মহেশখালের মুখে স্লুইস গেইট নির্মাণ করতে হবে। স্লুইস গেইট নির্মিত হলে শুধু আগ্রাবাদ নয়, এখানকার ৩৬, ৩৭, ৩৮ ও ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারাও এর সুবিধা পাবেন।

আগ্রাবাদের সিডিএ আবাসিক এলাকার নিত্যদিনের দুর্ভোগ কমাতে হলে জলাবদ্ধতা প্রকল্পে মহেশখালের মুখে স্লুইস গেইট নির্মাণকে প্রাধান্য দিতে হবে বলেও মত প্রকাশ করেন তিনি। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগ নেওয়ারও দাবি জানান এ জনপ্রতিনিধি।

জলাবদ্ধতা প্রকল্পের অধীনে খাল পরিষ্কার এখনো ১ ভাগ হয়েছে উল্লেখ করে সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসনে সিডিএর মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে মাত্র এক মাস আগে। এখন তো বর্ষাকাল। সেনাবাহিনী ও সিডিএর যৌথ উদ্যোগে প্রকল্পের অধীনে কয়েকটি খাল পরিষ্কার করা হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে বর্তমান সরকারের নেওয়া মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে, এ ধারণাটা নগরবাসীকে দেওয়ার জন্য কাজ শুরু করা হয়েছে। বর্ষাকালে তো আর পরিষ্কার ও খনন কাজ করা সম্ভব নয়। এরপরেও মানুষের দুর্ভোগের বিষয় চিন্তা করে কাজ শুরু করেছি। এ মেগা প্রকল্পের মেয়াদ আরও তিন বছর রয়েছে। আমরা সফল হবোই।

নগরবাসীর জন্য এ মেগা প্রকল্প জানিয়ে সিডিএ চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘নগরবাসী ও সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা ছাড়া সেনাবাহিনী ও সিডিএর পক্ষে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নগরবাসী সুফল পাবে। সেহেতু অবশ্যই নগরবাসীকে সহযোগিতা ও ধৈর্য ধরতে হবে। খাল পরিষ্কারের সময় খালপাড়ে থাকা যেসব দেওয়াল ভেঙে যাওয়ার কথা বলা হচ্ছে, সেক্ষেত্রে সেইসব দেওয়াল নির্মাণ করে দেওয়া হবে। তবে কারো ব্যক্তিগত দেওয়াল নয়।’ যোগ করেন আবদুচ ছালাম।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ডিউটি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার প্রদীপ কান্তি রায় জানান, ২৪ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ১২১ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও দমকা হাওয়াসহ ভারী (৪৪-৮৮ মিলিমিটার) থেকে অতিভারী (৮৯ মিলিমিটারের বেশি) বর্ষণ হতে পারে। মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় ভারী বর্ষণ হচ্ছে। এর কারণে সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমি ধসের আশঙ্কা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ