শনিবার, আগস্ট ১৫, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়পাহাড়ধস রোধ ও বন রক্ষায় ডিসিদের সহায়তা চান পরিবেশমন্ত্রী

পাহাড়ধস রোধ ও বন রক্ষায় ডিসিদের সহায়তা চান পরিবেশমন্ত্রী

পাহাড়ধস রোধ ও বন রক্ষায় জেলা প্রশাসকদের সহায়তা চাইলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। ২৫ জুলাই সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের প্রথম কার্য-অধিবেশনে এ সহায়তা চান মন্ত্রী। অধিবেশন শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জেলা প্রশাসকদের এ কার্য অধিবেশন হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এতে সভাপতিত্ব করেন।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, পাহাড় কাটা, বনের জমি লিজ নেয়া, বনভূমির অবৈধ দখল, নদী দখল, নদী দূষণ নিয়ে ডিসিদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তারা কিভাবে এগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে সেটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

ডিসিরা কোনো সমস্যার কথা বলেছেন কিনা জানতে চাইলে পরিবেশমন্ত্রী বলেন, বলেছেন, যেমন কক্সবাজারের কথা বলেছেন, যেখানে বনের যথেষ্ট ক্ষতি হয়েছে। বনের প্রায় ৫ হাজার একরের মতো জমির ক্ষতি হয়েছে। সেটা আবার পুনঃবনায়ন করার ব্যাপারে আমরা কী পদক্ষেপ নিচ্ছি, সেগুলো নিয়ে কথা হয়েছে।

‘বান্দরবানের পাহাড় ধস নিয়ে কথা হয়েছে। পাহাড় ধসে মারা যাওয়ার মূল কারণ হচ্ছে- গাছগুলো আমরা কেটে ফেলেছি, অবৈধ স্থাপনাগুলো। অন্যান্য জায়গায় পাহাড়গুলো পাথুরে থাকে, কিন্তু আমাদের এখানে মূলত বালুমাটি। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে না পারলে এই প্রবলেমটা থেকে যাবে।  তিনি বলেন, ৫ হাজার একর বন ধ্বংস হওয়ায় সেখানের পরিবেশ সংকটাপন্ন। ডিসিরা এজন্য পুনরায় বনায়নের কথা বলেছেন।

আনিসুল ইসলাম মাহমুদ আরো বলেন, বর্ষার আরও দু’মাস আছে, এ ব্যাপারে আমাদের সাবধান থাকতে হবে। সেই বিষয়ে ডিসি সাহেবদের বলা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের কারণে কক্সবাজারে বনের ক্ষতির বিষয়ে ডিসিরা কী বলেছেন- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের কারণে যে ক্ষতি হয়েছে তা আমাদের মেনে নিতে হবে। কারণ, আমরা তাদের এখানে আশ্রয় দিয়েছি। জ্বালানির অন্য কোন বন্দোবস্ত করা না গেলে তারা গাছ কাটবেই। সিলিন্ডার দিলে দেখানে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কয়লা দেওয়া হলে গাছের ক্ষতি হবে না।

পাহাড় ধস ও বনভূমি রক্ষায় ডিসিদের কী নির্দেশনা দিয়েছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, কাউকে এককভাবে দোষ দেয়া জায় না। অনেক মানুষ যাদের জমি নেই তারা ওখানে থাকে। অনেকে ওখানে থাকে। এদের উচ্ছেদ করা হলে আবার গিয়ে থাকবে।

তবে কী এর কোন স্থায়ী সমাধান নেই? জবাবে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম এই সদস্য বলেন, স্থায়ী সমাধান আছে। এভাবে চলবে না, ব্যবস্থা হচ্ছে। পারমানেন্ট উচ্ছেদ করা, তাদের অন্য জায়গায় বাসস্থান ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা। এগুলো করতে পারলে এটা বন্ধ হবে। তবে সবচেয়ে বড় জিনিস যেটা দরকার, যেসব জায়গায় আমরা গাছ কেটে ফেলেছি, সেসব জায়গায় গাছ রোপণ করা, তাহলে পাহাড়ধস বন্ধ হবে। পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আরো বলেন, পাহাড়ে উচ্ছেদ কার্যক্রম কন্টিনিউয়াসলি চলছে। আবার তারা এসে বসছে। আমাদের যে অবস্থা এরমধ্যে আমাদের এগুলো ঠিক করে নিতে হবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ