মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অ্যান্থনি কেনেডি অবসর নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে লেখা পদত্যাগপত্রে আগামী ৩১ জুলাই বিচারপতির পদ থেকে অব্যাহতি নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। বিবিসির খবরে বলা হয়, ৮১ বছর বয়স্ক অ্যান্থনি কেনেডি মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের ৯ সদস্যের বিচারপতির প্যানেলে দ্বিতীয় জ্যেষ্ঠ। সমলিঙ্গ বিবাহ ও গর্ভপাতের অধিকারের মতো আলোচিত বিষয়গুলোতে গুরুত্বপূর্ণ ভোট দিয়েছেন তিনি। তবে রিপাবলিকান পার্টি মনোনীত হলেও তিনি উদারপন্থী হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং তার দেওয়া অনেক ভোটই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির প্রত্যাশার বিপরীতে ছিল। এই পদত্যাগের ফলে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে নিজ দলের বিচারপতিদের মধ্যে দলীয় আধিপত্য নিশ্চিত করার সুযোগ পেলেন। বর্তমানে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে ৯ জন বিচারপতির মধ্যে রিপাবলিকান পার্টি মনোনীত বিচারপতির সংখ্যা ৫ জন, বিপরীতে ডেমোক্রেট পার্টি মনোনীত বিচারপতির সংখ্যা ৪ জন। এর মধ্যে অ্যান্থনি কেনেডি রিপাবলিকান মনোনীত হলেও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে তার অবস্থান ছিল উদারনৈতিক।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে লেখা চিঠিতে অ্যান্থনি কেনেডি বলেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালতে নিয়োজিত থাকতে পেরে তিনি ‘গভীরভাবে কৃতজ্ঞ’। চিঠিতে পরিবারকে বেশি সময় দেওয়াকেই বিচারপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। বুধবার (২৭ জুন) তিনি এই চিঠি পাঠান ট্রাম্পের কাছে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে থাকেন সুপ্রিম কোর্ট। বিভিন্ন ধরনের বিতর্কিত ইস্যু, কেন্দ্র সরকারের সাথে বিভিন্ন রাজ্যের বিবাদ এবং যেকোনো ধরনের দণ্ড বহাল বা রহিত হওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ সব সিদ্ধান্তের জন্য শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সবগুলো প্রদেশে সমলিঙ্গ বিয়ের অনুমতি, সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার অভিবাসনের আদেশ রহিত করা ও কার্বন নিঃসরণে সরকারের পরিকল্পনা পিছিয়ে দেওয়ার মতো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সব সিদ্ধান্ত এসেছে সুপ্রিম কোর্ট থেকেই।
অ্যান্থনি কেনেডির পদত্যাগের ঘটনা প্রসঙ্গে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ রিপাবলিকান নেতা মিচ ম্যাককনেল বুধবার বলেন, দায়িত্ব পালনকালে বিচারপতি কেনেডি উদারপন্থী এবং আদালতের ‘সুইং’ ভোট হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন। তার জায়গায় নতুন বিচারপতি নিয়োগের ভোট সেপ্টেম্বর নাগাদ অনুষ্ঠিত হবে।
ক্যালিফোর্নিয়ায় বেড়ে ওঠা অ্যান্থনি কেনেডি বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পান ১৯৮৮ সালে। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান তাকে বিচারপতি হিসেবে মনোনয়ন দেন। নির্বাচনি অর্থ ব্যয়, ভোটের অধিকার ও অস্ত্র রাখার মতো বিষয়ে তিনি রক্ষণশীলদের পক্ষেই ভোট দিয়েছেন। তবে মানবাধিকার বিষয়ক ইস্যুগুলোতে তার অবস্থান ছিল উদারনৈতিক।
বিচারপতি কেনেডি ১৯৯৬ সালে সমকামীদের বৈষম্য থেকে মুক্ত রাখতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের প্রথম বড় কোনো আদেশ দেন। ২০১৫ সালে সমলিঙ্গ বিয়ে নিয়ে তিনি ঐতিহাসিক অভিমত লিখেন। সেখানে কেনেডি লিখেছেন, তারা আইনের চোখে সমান মর্যাদা দাবি করেছে এবং মার্কিন সংবিধান তাদের এই অধিকারকে মঞ্জুর করে। বিচারপতি হিসেবে অ্যান্থনি সবসময় ব্যক্তি স্বাধীনতা ও কেন্দ্র সরকারের ক্ষমতার বিপক্ষেশ অবস্থান নিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার সম্পর্কে বলেছেন, কেনেডি ‘অত্যন্ত দূরদর্শিতা’ দেখিয়েছেন এবং তার রয়েছে একটি ‘বিশাল হৃদয়’।




