উন্নত ও অনুন্নত দেশের মধ্যে থাকা তফাত ই-কমার্সের মাধ্যমে দূর করা সম্ভব বলে মনে করেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। ১৪ মে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে চামড়াজাত পণ্যের ই-কমার্স পোর্টাল www.gooseyours.com এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন স্পিকার। গুজ লিমিটেড এই অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তাদের চামড়াজাত পণ্য অনলাইনে বিক্রি করবে।
ই-কমার্সের সাফল্য লাভে প্রশিক্ষণের উপর গুরুত্ব দিয়ে শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ই-কমার্সের ব্যবসায় সফল হতে হলে দক্ষতা উন্নয়নের প্রশিক্ষণ জরুরি। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ই-কমার্সের গুরুত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মন্ত্রী পর্যায়ের কনফারেন্সে সদস্যরা ই-কমার্সের উপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করিয়ে মান উন্নত করতে হবে। এতে দামও বৃদ্ধি পাবে। ফলে অন্য ব্র্যান্ডের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারবে। বিদেশের যেকোন বাজারে নাম করবে। নারীর ক্ষমতায়নে বর্তমান শেখ হাসিনা সরকার অনেক অনুকূল নীতি গ্রহণ করেছে জানিয়ে স্পিকার বলেন, বিনা জামানতে ঋণ দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই সুযোগগুলো নারীদের মধ্যে প্রচার করতে হবে।
নারী উদ্যোক্তাদের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে স্পিকার বলেন, কোনো ব্যবসা শুরু করতে হলে বাণিজ্যিক শপিংমলে শো রুম নিতে হয়। এজন্য অনেক টাকা-পয়সার দরকার হয়। সে টাকা নারী উদ্যোক্তারা সব সময় জোগাড় করতে পারেন না। সেদিক থেকে ই-কমার্স অনেক সুবিধাজনক একটি প্ল্যাটফর্ম। এটাকে সফল করতে গেলে এবং লাভজনক করতে প্রয়োজন দক্ষতা ও একাগ্রতা।
শিরীন শারমিন বলেন, ই-কমার্স একটি নতুন দিগন্ত। বাংলাদেশ এখন ডিজিটাল। সরকার দেশের মানুষের কাছে সহজে এবং স্বল্প দামে অনলাইন সুবিধা পৌঁছে দিয়েছে। দেশের যেকোনো প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘরে বসে অনলাইনে ঢুকতে পারছেন। যেকোনো মানুষ ঘরে যে কোনো নারী-পুরুষ ই-কর্মাসের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন।
তিনি বলেন, গুজ লিমিটেডকে এমন করে ব্র্যান্ডিং করতে হবে যেন এর পণ্য বিশ্বের নামী ব্র্যান্ড গুচি বা মাইকেল কোরসের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারে। সেক্ষেত্রে পণ্যের দামের সঙ্গে আপস করা যাবে না। বৈশ্বিক মার্কেটে যা দাম আছে সে দামেই বিক্রি করতে হবে। স্থানীয় মার্কেটে ভোক্তাদের সামর্থ্য বিবেচনায় নিয়ে সে অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ করতে হবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রোকেয়া আফজাল রহমান ও ল্যাব এইড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এম শামীম বক্তব্য দেন। পণ্যের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বক্তব্য দেন গুজ লিমিটেডের কর্ণধার মিতা বোষ। গুজের পণ্যের মধ্যে ব্যাগ, মেসেঞ্জার ব্যাগ, স্যাশেল ব্যাগ, ব্যবসা ব্যাগ, ব্যাকপ্যাক, ব্রিফকেস ও ল্যাপটপ ব্যাগ রয়েছে। আর ওয়ালেটের মধ্যে আছে মাঝারি আকারের ওয়ালেট, লম্বা ওয়ালেট, নিয়মিত ওয়ালেট, পাসপোর্ট ওয়ালেট ও মানিব্যাগ ইত্যাদি। এছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন ধরনের বেল্ট।




