৬ মে ফলাফল প্রকাশের সম্ভ্যাব্য তারিখ। এস.এস.সি পাশ করে কলেজে ভর্তি হয়ে শিক্ষা জীবনের নতুন গন্ডিতে পা রাখবেন এমনটা প্রত্যাশা স্কুল ছাত্র সাকিবের। কিন্তু বাঁধা হয়ে জীবনের স্বপ্ন যাত্রা শুধু নয় বেঁচে থাকাকেও সংশয়ে ফেলে দিয়েছে শারীরিক ব্যাধি।দিনমজুর অসহায় বাবার চেয়ে থাকা ছাড়া যেন আর করার কিছুই নেই। নিজের চোখের সামনেই হাস্যজ্জ্বোল ছেলেটির জীবন প্রদীপ নিভে যাবে তা কল্পনা করেই মা-বাবা দুজনে তাদের নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে অবিরত কেঁদে যাচ্ছেন আর সহায়তা চেয়েছেন বিত্তবানদের। মাত্র ৩/৪ লাখ টাকা হলেই তাদের সন্তানের জীবন বেঁচে যায় এ আশায় ধর্ণাও দিয়েছেন অনেকের কাছে।
চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলার পশ্চিম হাইদ গাঁও গ্রামের ঝিয়ার পাড়া এলাকার বাসিন্দা দিনমজুর কামালের বড় ছেলে ইব্রাহিম উদ্দিন সাকিব।বাবা কামাল ও মা ফেরদৌস আকতারের ঘরে রয়েছে আরো ১ ছেলে ও ১ মেয়ে। ৫জনের সংসার খরচ চালাতেই যেখানে দিনমজুর বাবার হিমশিম খেতে হয় সেখানে বড় ছেলের চিকিৎসার জন্য ৩/৪ লাখ টাকা যোগাড় করা তার পক্ষে একেবারেই অসম্ভব। তাই ছেলের জীবন প্রদীপ নিভে যাওয়ার দৃশ্য দেখা ছাড়া যেন আর করার কিছুই নেই এ মাতা-পিতার।
ইব্রাহিম উদ্দিন সাকিব। বয়স ১৬। চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে হাইদ গাঁও উচ্চ বিদ্যালয় থেকে।সুস্থ স্বাভাবিক ছেলেটির তেমন কোন শারীরিক সমস্যা পরিলক্ষিত হয়নি কোনদিন। কিন্তু এসএসসি পরীক্ষার আগে হঠাৎ ১০ জানুয়ারীর দিকে সে অসুস্থবোধ করে। স্থানীয় অনেক ডাক্তার দেখানোর পরও সুস্থ না হওয়ায় মা-বাবা তাকে নিয়ে আসেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরীক্ষা নিরীক্ষার পর ডাক্তাররা সাকিবের ”হার্টের সমস্যা” চিহ্নিত করেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সাকিবকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে অথবা ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। ডাক্তাররা এও বলেছেন, দেশের বাইরে হলে টাকা বেশী প্রয়োজন কিন্তু ঢাকায় হলে ৩/৪ লাখ টাকার মধ্যে সাকিবের অপারেশন সম্ভব হবে।সাকিবের মা-বাবার সামর্থ্য নেই এ টাকা যোগাড় করে ছেলের চিকিৎসা করানোর।এ অবস্থায় তারা সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা চেয়েছেন।
শারীরিক অসুস্থতা নিয়েই সাকিব এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে এ বছর। চোখে মুখে স্বপ্নবাজ এ কিশোর থেমে যেতে রাজী নয়। জীবনে বহুদুর পথ পাড়ি দেয়ার প্রত্যয়ী দূরন্ত এ কিশোরের মনোবল ও সাহস তাকে পরীক্ষার হলে টেনে নিয়ে গেছে শরীর না চলা অবস্থায়ও। মাত্র ৩/৪ লাখ টাকার অভাবে একটি কিশোরের জীবন এখানেই থেমে যাবে এমনটা কোন মানবিক মানুষ মেনে নিতে পারেন না। সবার সহযোগিতায় সাকিব বেঁচে যাবে এমনটাই প্রত্যাশা সকলের। সমাজের বিত্তবানদের নজরে না আসলেও সাকিবের বন্ধুরা তাঁকে বাঁচাতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছেন সাহায্যের আশায়। বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় তারা বক্স হাতে দাঁড়িয়ে বন্ধুর জীবন ভিক্ষা করছেন কিন্তু তাদের এ প্রয়াস কতটুকু সফল হবে সেটিই প্রশ্ন সাপেক্ষ। কেননা, বক্সে যে টাকা আসছে তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই নগন্য। সাকিবের বন্ধুরা তার সাহায্যের জন্য বড়দের এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন।
দিনমজুর বাবা-মা’র কোন ব্যাংক একাউন্টও নেই। কেউ সাহায্য পাঠাতে চাইলে বিকাশের ০১৮১৫-৫৭১৪৮৯(পারসোনাল) নাম্বারে পাঠাতে পারেন। প্রত্যন্ত গ্রামের অশিক্ষিত দিনমজুর বাবা-মা’র মিডিয়াতেও তেমন কোন পরিচয় নেই। তাই ফলাও করে প্রকাশিত হয়নি এ জীবন যুদ্ধের মানবিক কথন। সেরকম প্রচার হলে হয়তো এতদিনে সাকিবের চিকিৎসার একটা ব্যবস্থা হয়েই যেতো বলে বিশ্বাস তার মা-বাবার ।
সিটিজি সংবাদকে সাকিবের বাবা বলেন, আমার ছেলের জীবন বাঁচাতে বিত্তবানদের একটু সহযোগিতাই যথেষ্ট। আমার ছেলে বাঁচতে চায়। আমার হাসিখুশী ছেলেটাকে হারালে আমি কি নিয়ে বাঁচবো ? এ করুণ আর্তনাদ ছুঁয়ে যাক মানবিক হৃদয়, তেমনটাই প্রত্যাশা আমাদের। তবে এলাকার তার বন্ধুদের অভিমত, বড়দের সহযোগিতা পেলে এ টাকা সংগ্রহ করা তেমন কঠিন কোন ব্যাপার না। এখন পর্যন্ত আমরা ছোটরাই সাকিবকে বাঁচাতে চেষ্টা করে যাচ্ছি, যা বড়দের সহযোগিতা ছাড়া প্রায় অসম্ভব।




