বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৬
প্রচ্ছদটপসরকারি তহবিলের ১৪ কোটি টাকা আত্মসাতে ডিসি, এডিসি জড়িত!

সরকারি তহবিলের ১৪ কোটি টাকা আত্মসাতে ডিসি, এডিসি জড়িত!

সরকারি তহবিলের ১৪ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় কিশোরগঞ্জ জেলার সাবেক ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা (এলএও) মো. সেতাফুল ইসলাম ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন। জবানবন্দিতে সেতাফুল টাকা আত্মসাতের ঘটনায় জড়িত হিসেবে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. আজিমুদ্দিন বিশ্বাস, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি, রাজস্ব) দুলাল চন্দ্র সূত্রধর এবং সহকারী ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তাসহ আরো কয়েকজন কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করেছেন বলে জানা গেছে। শুক্রবার বিকালে বিচারিক হাকিম তছলিমা আক্তারের খাস কামরায় জবানবন্দি দেন সেতাফুল। বিকাল ৪টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত তিনি জবানবন্দি প্রদান করেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে বিচারকের নির্দেশে সেতাফুলকে পুণরায় কিশোরগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আদালতের একটি সূত্রে জানা যায়, জবানবন্দিতে সেতাফুল ইসলাম জানিয়েছেন যে, জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (রাজস্ব)  কথামতো তারা দুজনসহ  কয়েকজন কর্মকর্তার যোগসাজশে তিনি টাকা আত্মসাৎ করেছেন এবং এই  টাকার বেশির ভাগ তারা নিয়ে গেছেন। কিশোরগঞ্জ জেলার সাবেক ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা (এলএও) সেতাফুল ইসলাম গত ১৭ জানুয়ারি গ্রেপ্তার হন। পরে গত ২৯ জানুয়ারি জেলার মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক আ. ছালাম খান সেতাফুল ইসলামকে জিজ্ঞসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আদালতের আদেশের পরই সেতাফুলকে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নিজেদের হেফাজতে নেয়। গত পাঁচদিনে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ময়মনসিংহ অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমানসহ ঢাকা কেন্দ্রীয় অফিস থেকে আসা দুদকের একটি উচ্চ পর্যায়ের দল সেতাফুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এছাড়া ঢাকা কেন্দ্রীয় অফিস থেকে আসা দুদকের দল জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও বিভিন্ন ব্যাংকের কাগজপত্র পরীক্ষা করেন এবং সংশ্লিষ্ট অনেককেই জিজ্ঞসাবাদ করেন। জিজ্ঞসাবাদের চারদিনের মাথায় সেতাফুল ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ময়মনসিংহ অঞ্চলের একটি দল সেতাফুলকে পিরোজপুর জেলা থেকে আটক করে। ঐদিনই দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ময়মনসিংহ অঞ্চলের সহকারী পরিচালক রাম প্রসাদ মন্ডল বাদী হয়ে সেতাফুলকে একমাত্র আসামি করে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় সেতাফুলের বিরুদ্ধে জাল দলিলের মাধ্যমে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। কিশোরগঞ্জ থেকে বদলীর পর তিনি একই পদে পিরোজপুর জেলায় দায়িত্বরত ছিলেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য কিশোরগঞ্জে কয়েকশ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়। এসব ভূমির মালিককে ক্ষতিপূরণের টাকা দেওয়ার সময় জালিয়াতির আশ্রয় নেন মো. সেতাফুল ইসলাম। জেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য বরাদ্দ করা তহবিল থেকে চেকের মধ্যে সেতাফুল ইসলাম পাঁচ কোটি টাকা আত্মসাত করেন। এছাড়া ঘটনা জানতে পেরে শেষ মুহূর্তে আত্মসাতের প্রক্রিয়ায় থাকা আরো ৯ কোটি টাকার চেক জব্দ করে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসন।

এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন ছাড়াও ভূমি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মির্জা তারিক হিকমতকে প্রধান করে আরেকটি এক সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সব কটি কমিটি এরই মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে  প্রতিবেদন দাখিল করেছে।

ভূমিসচিবের কাছে দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে সেতাফুল ছাড়াও কিশোরগঞ্জে জেলা প্রশাসক, জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা, জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের সুপার ও অডিটর এবং সোনালী ব্যাংক কিশোরগঞ্জ শাখার ম্যানেজার—এ পাঁচজনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। তদন্ত প্রতিবেদনটি পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ