শনিবার, অক্টোবর ২৪, ২০২৬
প্রচ্ছদটপ২০১৭ সালে জীবনযাত্রার ব্যয় ৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ বেড়েছে

২০১৭ সালে জীবনযাত্রার ব্যয় ৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ বেড়েছে

২০১৭ সালে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ বেড়েছে। আর পণ্য সেবা সার্ভিসের দাম বেড়েছে ৭ দশমিক ১৭ শতাংশ। ফলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হলেও এর সুফল পাচ্ছেন না নিম্ন আয়ের মানুষ। ০২ জানুয়ারি দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে ‘জীবনযাত্রার ব্যয় ও প্রাসঙ্গিক অন্যান্য বিষয়ে প্রতিবেদন-২০১৭’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এ তথ জানায়।

প্রতিবেদন তুলে ধরে ক্যাবের সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, ২০১৭ সালে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে ৮ দশমিক ৪৪ শতাংশ। পণ্যমূল্য ও সেবা-সার্ভিসের মূল্য ৭ দশমিক ১৭ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৬ সালে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছিল ৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ। বিগত বছরের তুলনায় ২০১৭ সালে প্রায় প্রতিটি খাদ্য পণ্যের দাম বেড়েছে। তার মধ্যে চাল উল্লেখযোগ্য।

‘২০১৬ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে সব ধরনের চালের দাম গড়ে ২০ দশমিক ৪০ শতাংশ বেড়েছে। তবে তুলনামূলকভাবে সরু চালের চেয়ে বেশি বেড়েছে মোটা চালের দাম। তিনি জানান, গত একবছরে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। দেশি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ এবং আমদানি করা চালের দাম ৫৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ বেড়েছে।

‘শাক-সবজিতে গড়ে ২৪ দশমিক ২৮ শতাংশ, তরল দুধে ২০ দশমিক ৩৬, গরুর মাংসে ১৯ দশমিক ৭২, চিনি ও গুড়ের দাম গড়ে ১২ দশমিক ৮, লবণে বেড়েছে ১১ দশমিক ৩, ভোজ্য তেলের দাম ১০ দশমিক ৭৮ শতাংশ বেড়েছে। তিনি বলেন, পাশাপাশি দুই বার্নার চুলার গ্যাসের দাম বেড়েছে ২৩ দশমিক ৮ শতাংশ, আবাসিক খাতে ৬ দশমিক ৪৪, বাণিজ্যিক খাতে ৫ দশমিক ৮৮ এবং বাসা ভাড়া বেড়েছে ৮ দশমিক ১৪ শতাংশ।

‘গত বছরে দাম কমার তালিকায় ছিল দেশীয় মশুর ডালসহ আরও কিছু পণ্য। এরমধ্যে মশুর ডালের দাম কমেছে ৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ, ফার্মের মুরগির ডিমে ৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ, নারিকেল তেলে ৫ দশমিক ৭৮, রসুনে ৪ দশমিক ৩৬ এবং আলুর দাম ৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গেল বছরে সার্বিকভাবে মাছের দাম বাড়লেও সরবরাহ ছিল পর্যাপ্ত। ফলে দেশীয় কৈ মাছের দাম ৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ এবং ইলিশ মাছের দাম ১ দশমিক ৪৯ শতাংশ কমেছে।

এ সময় নিত্যপণ্যের দাম সহনশীল ও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখার বিষয়ে ১০টি সুপারিশ করেছে ক্যাব। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- পণ্যের সরবরাহ পরিস্থিতি সন্তোষজনক পর্যায়ে রাখা ও মূল্য স্থিতিশীল রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পৃথক বিভাগ বা স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় গঠন, প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টার দায়িত্বে তার কার্যালয়ে পৃথক উইং প্রতিষ্ঠার বিবেচনা করা, ধান-চালের মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং কৃষককে উৎপাদিত ফসলের উপযুক্ত মূল্য দেওয়া ইত্যাদি। সংবাদ সম্মেলনে ক্যাবের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ