চট্টগ্রামের বলুয়ারদীঘি শ্মশানে সোমবার গভীর রাতে উপস্থিত হলেন মহিবুল হাসান নওফেল। উদ্দেশ্য সুবীর দাশ, ঝন্টু দাশ ও রিটন ভট্টাচার্যের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা। কারণ তাঁর বাবা সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দীন চৌধুরীর কুলখানিতে অংশ নিতে এসেই যে পদদলিত হয়ে নিহত হয়েছেন এঁরা। মঙ্গলবার ভোররাতে বলুয়ারদীঘি সিটি কপোরেশন শ্মশানে দাহ করা হয় পদদলিত হয়ে নিহত ১০ জনের মধ্যে তিনজনকে। সে সময় নিহত সুবীর দাশ, ঝন্টু দাশ ও রিটন ভট্টাচার্যের পরিবারের পাশে উপস্থিত থেকে তাঁদের সাহস জুগিয়েছেন ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।
এর আগে গত রাতেই নিহত ১০ জনের মধ্যে নয়জনের লাশ স্বজনদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এই তিনজন ছাড়াও নিহতদের রাঙামাটি, আনোয়ারাসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পদদলনের এই ঘটনায় আহত চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিউতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনার পর রাতে চকবাজার থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছেন নিহত ঝন্টুর ভাই অরুণ। এদিকে ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি সিএমপি কমিশনার আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
সোমবার দুপুর ১২টার দিকে চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর কুলখানিতে পায়ের চাপে পিষ্ট হয়ে ১০ জন নিহত হন। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন ২০ জন। নগরীর জামাল খান রোডের রিমা কনভেনশন সেন্টারে ওই দুর্ঘটনা ঘটে।
হতাহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনা শুনে হাসপাতালে ছুটে আসেন মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। হাসপাতালে এসেই তিনি হতাহত ব্যক্তিদের খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি লাশ দেখতে পান। এরপরই তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি আহাজারিও করতে থাকেন। এরই একপর্যায়ে কিছুক্ষণের জন্য জ্ঞান হারানোর মতো অবস্থা হয়েছিল তাঁর।
হাসপাতালের কর্মী ও অন্যরা নওফেলকে দ্রুত ওই এলাকা থেকে বের করে নিয়ে আসেন। পরে তাঁকে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। নওফেলের স্বজনরা জানান, সেখানে কিছুক্ষণ বিশ্রামের পর নওফেলকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়।




