রাজশাহীর গোদাগাড়ীর শেষ সীমান্তে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার আলাতুলী ইউনিয়নের মধ্যপাড়ায় জঙ্গি আস্তানায় ৩ জনের মরদেহ পাওয়া গেছে। তবে এগুলো ছিন্নভিন্ন হয়ে বাড়ির ভেতরে পড়ে আছে। ২৮ নভেম্বর র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মুখপাত্র এবং আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান অভিযান শেষে ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, নিহতেরা জেএমবি সদস্য। তাদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। তবে ডিএনএ টেস্ট করে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা হবে। অভিযানে দুইটি শক্তিশালী বোমা, ২টি বিদেশি পিস্তল, ২টি ম্যাগজিন, ১২টি পাওয়ার জেল, ১২টি ডেটোনেটর, ৩টি আইইডি উদ্ধার করা হয়েছে। দুই দফায় বিস্ফোরকগুলো নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। তিনি এসময় অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, মিরপুরের দারুস সালামে জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের পর এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তারা জানায়, সীমান্তবর্ত ী এলাকায় তাদের সংগঠনকে শক্তিশালী করতে কর্মী সংগ্রহের কাজ চলছে। সেখানে বিস্ফোরক তৈরির কাজও শেখানো হচ্ছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে র্যাবের সদস্যরা চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি শুরু করে। কিছুদিন থেকে আলাতুলী ইউনিয়নের ওই বাথানবাড়িতে কয়েকজন যুবককে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভোর থেকে বাড়িটি ঘেরাও করে র্যাবের সদস্যরা। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করা হয়েছে। আটকেরা হচ্ছেন- ওই বাথানবাড়ির মালিক রাশিকুল ইসলামের স্ত্রী নাজমা বেগম ( ৩৫), তার শ্বশুর খোরশেদ (৬০) ও শাশুড়ি মনিরা বেগম।
মুফতি মাহমুদ ব্রিফিংয়ে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাড়িটি ঘেরাও করে জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয়। এসময় জঙ্গিরা বাড়ির ভেতর থেকে র্যাবকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড নিক্ষেপ ও গুলি করে। এ সময় র্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। এরপর বিস্ফারণে বাড়িটিতে আগুন লেগে যায়। ধারণা করা হচ্ছে বিস্ফোরণের সময় জেএমবি সদস্যরা নিহত হয়েছেন। সকাল ৮টার দিকে বোমা ডিসপোজাল ইউনিট বাড়ির ভেতরে যায়। বেলা ১২টার দিকে তারা বেরিয়ে আসে।
আলাতুলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামাল আহমেদ জানান, আলাতুলী নতুনপাড়া গ্রামে বাগানবাড়ির মালিক রাশিকুলের আসল বাড়ি। সেই বাড়ি থেকে দুই কিলোমিটার দূরে বিলের ভেতর গরু-ছাগল পালনের জন্য ওই বাগানবাড়িটি করা হয়েছিল। বাগানবাড়িটিতে রাশিকুল, তার স্ত্রী, ১৫ বছর বয়সী এক ছেলে এবং তার শ্বশুর থাকতেন।
রাশিকুল ইসলাম ক্যান্সারে আক্রান্ত। বছর চারেক আগে গরু-ছাগল পালনের সুবিধার জন্য তিনি ওই বাগানবাড়িটি বানিয়েছিলেন। তবে নির্জন চরাঞ্চল হওয়ায় বাড়িটিতে জঙ্গি কার্যক্রম চালানোর ব্যাপারে স্থানীয়রা কিছু টের পাননি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আনোয়ার লতিফ খান। বেলা সোয়া ১২টার দিকে তিনি হেলিকপ্টারে করে ঘটনাস্থলে যান।




