শনিবার, অক্টোবর ২৪, ২০২৬
প্রচ্ছদচট্রগ্রাম প্রতিদিনপটিয়ার ত্রাস যুবলীগ নেতা বোরহান গ্রেপ্তার

পটিয়ার ত্রাস যুবলীগ নেতা বোরহান গ্রেপ্তার

পটিয়া পৌর সদরের গোবিন্দারখীলের ত্রাস যুবলীগ নেতা মোহাম্মদ বোরহানকে (২৫) পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তিনি ৯নং ওয়ার্ডের হাদু চৌধুরী বাড়ির আবুল বশরের পুত্র। রবিবার সকালে পটিয়া থানার একদল পুলিশ টিএন্ডটি অফিস এলাকা থেকে বোরহানকে গ্রেপ্তার করে। তিনি পটিয়া পৌরসভা যুবলীগের সহ–সম্পাদক। অভিযোগ রয়েছে, কেউ রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় তাকে সালাম না দিলে কোনো কথা ছাড়াই তিনি মারধর শুরু করেন। তার অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। তার বিরুদ্ধে স্থানীয়

কাউন্সিলের অফিস ভাংচুর, হত্যা চেষ্টা, মারামারিসহ থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সকালে দুই কলেজপড়–য়া ছাত্র হেঁটে যাওয়ার সময় বোরহানকে সালাম না দেওয়ায় তিনি বেদম প্রহার করেন। তার ভয়ে এলাকায় কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, যুবলীগের লেভাসে বোরহান এলাকায় একের পর এক ঘটনা করে যাচ্ছে। তার নেতৃত্বে বেশ কিছু যুবক প্রতিদিন মোটরসাইকেল নিয়ে পৌর সদরের ফইল্যাতলী, তালতলা চৌকি, আমির ভা–ার, হাদু চৌধুরী বাড়ি এলাকায় শোডাউন করে থাকে।
স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ জানায়, পটিয়া পৌরসভা যুবলীগ নেতা বোরহান এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করেছেন। গত ৯ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) সকালে বিনা কারণে পটিয়া সরকারি কলেজের ছাত্র মোহাম্মদ আজাদ ও ছালেহ নুর ডিগ্রি কলেজের ছাত্র মো. ফাহিমকে মারধর করে আহত করেন। ঘটনার দিন রাতে এ সংক্রান্তে থানায় একটি অভিযোগ করা হয়। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে মূলত বোরহানকে আটক করা হয়েছে। এর আগে তার বিরুদ্ধে ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শেখ সাইফুল ইসলামের কার্যালয় ভাংচুর, কাউন্সিলরের সহকারী রাজিব ধরকে মারধর, চন্দনাইশ এলাকার এক ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে শ্রীমাই ব্রিজ এলাকায় রক্তাক্ত করা, বড়য়ারটেক এলাকায় জুয়েল নামের অপর যুবককে ছুরিকাঘাত করারও অভিযোগ রয়েছে। প্রতিটি ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

পটিয়া পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শেখ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, যুবলীগের পরিচয় দিয়ে বোরহান একের পর এক ঘটনা করে যাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তাছাড়া স্কুল–কলেজগামী ছাত্রীদের রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে প্রায় সময় উত্ত্যক্ত করে থাকে। বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে দেওয়া হয়েছে। এলাকার আইন–শৃঙ্খলার স্বার্থে কাউন্সিলর প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।

পটিয়া থানার ওসি শেখ মো. নেয়ামত উল্লাহ বলেন, যুবলীগ নেতাকে ‘সালাম’ না দিলে যে বিপদ তা যেন অদ্ভুত এক ঘটনা। একাধিক অভিযোগ পাওয়ার পর ওই যুবলীগ নেতাকে আটক করেছেন বলে জানান।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ