শনিবার, অক্টোবর ২৪, ২০২৬
প্রচ্ছদচট্রগ্রাম প্রতিদিনআ' লীগের দুই গ্রুপে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর বাঁশখালী থমথমে পরিস্থিতি

আ’ লীগের দুই গ্রুপে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর বাঁশখালী থমথমে পরিস্থিতি

আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর বাঁশখালী উপজেলায় এখনো থমথমে পরিস্থিতি এখনো বিরাজ করছে। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন আছে।  তবে চট্টগ্রাম-বাঁশখালী সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। সংঘাতে কমপক্ষে ২৩ জন আহতের তথ্য পাওয়া গেছে।  এদের মধ্যে অধিকাংশই গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১৭ জন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি আছেন।  তাদের ০৯ নভেম্বর রাত ৮টার পর হাসপাতালে আনা হয়েছে জানিয়েছেন চমেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই শীলব্রত বড়ুয়া। বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬ জন ভর্তি আছেন বলে জানিয়েছেন ওসি আলমগীর হোসেন। এএসআই শীলাব্রত জানিয়েছেন, বাঁশখালী থেকে আসা ১৭ জনের মধ্যে প্রায় সবাই গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এসেছেন।  এদের মধ্যে জামাল নামে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

বৃহস্পতিবার (০৯ নভেম্বর) বিকেলে বাঁশখালী পৌর সদরের অদূরে সরল ইউনিয়নের পাইরাং এলাকায় সংঘাতের ঘটনা ঘটে। বাঁশখালীর সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান এবং মনোনয়ন প্রত্যাশী আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল্লাহ কবির লিটনের অনুসারীদের মধ্যে এই সংঘাতের ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) একেএম এমরান ভূঁইয়া বলেন, পৌরসভার সামনে গ্রীণপার্ক কমিউনিটি সেন্টারে প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর স্মরণসভার আয়োজন করেছিলেন আবদুল্লাহ কবির লিটন।  তিনি নেতাকর্মীদের নিয়ে যাওয়ার পথে এমপির অনুসারীরা সড়ক অবরোধ করে আটকে দেয়।  এসময় দুই পক্ষে পাল্ট‍াপাল্টি গুলিবিনিময় হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আবদুল্লাহ কবির লিটনকে ঠেকাতে বাঁশখালীর প্রধান সড়কের পাইরাং এলাকায় দেলাইয়ার দোকানের সামনে সড়ক অবরোধ করেন এমপির অনুসারীরা। দেলাইয়ার দোকানের সামনে লিটন আটকে পড়ার খবর পেয়ে তার অনুসারীরা অলি মিয়ার দোকানের সামনে জড়ো হন। এসময় গুলিবিনিময় শুরু হয়। চলে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ এবং ধাওয়া পাল্টা ধাওয়াও। এসময় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।  আতঙ্কে লোকজন দ্বিগবিদিক ছুটতে থাকে।  প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে চট্টগ্রাম-বাঁশখালী সড়কে। সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানের প্রায় তিন শতাধিক অনুসারী দা, কিরিচসহ দেশীয় অস্ত্র এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সড়কে অবস্থান নেয়।  অন্যদিকে লিটনের অনুসারীরাও সড়কে অবস্থান নেয়। পরে পুলিশ প্রহরায় আবদুল্লাহ কবির লিটনকে সভাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়।  রাত ৮টায় সভা শেষ করে লিটনকে আবারো পুলিশ প্রহরায় ‍চট্টগ্রাম শহরের দিকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

বাঁশখালী থানার ওসি আলমগীর হোসেন বলেন, সভা শেষ হওয়ার আগেই এমপির অনুসারীরা চলে গেছেন।  সভা শেষ করে আমরা লিটন সাহেবও শহরের দিকে চলে গেছেন।  সংঘর্ষের কারণে কিছুক্ষণ যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকলেও আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হয়ে যাচ্ছে। তবে সংঘর্ষের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া দোকানপাট-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আর খোলেনি।  রাস্তাঘাটে, স্থানীয় বাজারে লোকজন কমে গেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। গুলিবিদ্ধ মো. জামাল স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য এবং উপজেলা তাঁতী লীগের সভাপতি। আহতদের মধ্যে আরো আছেন, আহমদ হোসেন (৪৫) সাইফুল্লাহ মোহাম্মদ ফাহিম (১৭) মাঈনুদ্দিন (২৭) আবদুল্লাহ (১৭) অমিত চৌধুরী (২৮), হোসেন আহমদ(৩০) সাইফুল ইসলাম (১৮), মামুনুর রশিদ (৩৭), নিকন দেব(২২) আনোয়ার (২৮), গোপাল দাশ (৫০), শতদল বড়–য়া (৩৫) মাহমুদুল ইসলাম বদি, মো. রাশেদ ও মো. বাদশা।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ