ডেস্ক রিপোর্ট (বিডি সময় ২৪ ডটকম)
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরোধীদলের প্রতি আগামী সংসদ অধিবেশনে যোগদান এবং আসন্ন নির্বাচন ও নির্বাচনকালীন সরকার বিষয়ে তাদের প্রস্তাব উত্থাপনের আহবান জানিয়েছেন। আগামী নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। আজ সকালে ঢাকা থেকে ফোনে জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব বান কি মুনের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘বিরোধীদলের যে কোনো প্রস্তাবকে আমরা স্বাগত জানাবো যদি তা জাতীয় সংসদের আসন্ন অধিবেশনে দেয়া হয়।’ তিনি আরো বলেন, তিনি নিজে এবং তার সরকার সব সময়ই আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে যেকোনো সমস্যার সমাধানে বিশ্বাসী। প্রধানমন্ত্রীর গণমাধ্যম উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী এ খবর জানান। ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, ‘টেলিফোনে কথা বলার সময় প্রধানমন্ত্রী বান কি মুনকে আগামী সাধারণ নির্বাচন ও চলতি রাজনৈতিক পরিস্থিতি অবহিত করেন। শেখ হাসিনা জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবকে জানিয়েছেন যে, তিনি ইতোপূর্বে বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সমস্যা সমাধানে সংলাপে বসার প্রস্তাব দিয়েছেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘ওই প্রস্তাবের কোনো জবাব না দিয়ে তিনি (খালেদা জিয়া) সরকারকে ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেন এবং পরবর্তীতে বিরোধীদল সরকারের পতনের লক্ষ্যে সহিংসতা, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যকর কার্যকলাপের মাধ্যমে দেশের শান্তি ও রাজনৈতিক পরিবেশ বিনষ্ট করে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার শান্তি চায় এবং অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ হস্তান্তর দেখতে চায়। আগামী সাধারণ নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে এবং জনগণ কোনো বাধা-বিপত্তি ছাড়াই তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে বলে শেখ হাসিনা দৃঢ় আস্থা প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধীদল নির্বাচনকালীন সরকার সম্পর্কে সংসদে একটি মুলতবী প্রস্তাব এনেছিল এবং সরকারি দল এই মুলতবী প্রস্তাব নিয়ে সংসদে আলোচনা করতে সম্মতি দিয়েছিল। তিনি বলেন, ‘কিন্তু বিরোধীদল সমস্যার সমাধান চায়না বলে তিন ঘণ্টার মধ্যেই তাদের মুলতবী প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করে নিয়েছিল।’ শেখ হাসিনা বলেন, সরকারি দল আলোচনা, সংলাপ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশের মাধ্যমে রাজনৈতিক ইস্যুর সমাধান চায় বলেই জাতীয় সংসদে ইস্যুটিনিয়ে আলোচনা করতে চেয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায় অনুযায়ী সংবিধানে পঞ্চদশ সংশোধনী সন্নিবেশিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, সর্বোচ্চ আদালত সংবিধানের ১৩তম সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করেছে এবং যেকোন অনির্বাচিত সরকার সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক। আদালত বলেছে, ‘কেবলমাত্র নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই দেশ চালাবে।’ শেখ হাসিনা বলেন, সুশীল সমাজ এবং মিডিয়া প্রতিনিধিসহ সকল অংশীদারদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর সংসদীয় বিশেষ কমিটি সংবিধানের এই সংশোধনী আনে। তিনি বলেন, ‘এই বিশেষ কমিটি আইন প্রণেতাবৃন্দ ছাড়াও সকল মহলের সঙ্গে আলোচনা করেছে এবং সংসদের ইতিহাসে অতীতে এতো দীর্ঘ সময় ধরে কখনো আলোচনা করা হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ বলেন, জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব বেলা প্রায় সাড়ে ১১টায় ফোন করেন এবং ফোনে এই আলাপ-চারিতা প্রায় ৩০ মিনিট স্থায়ী হয়। জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং এমডিজি’র ল্যসমূহ অর্জনে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব সাফল্যের প্রশংসা করেছেন। বিশ্বে শেখ হাসিনার মতো নেতার প্রয়োজন রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেয়ায় আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।’ জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি-মুন আশা প্রকাশ করেছেন যে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গণতন্ত্র, অর্থনীতি এবং জঙ্গিবাদ বিরোধী কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশের অগ্রগতি অব্যাহত থাকবে। জাতিসংঘ মহাসচিব আগামী মাসে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানান। প্রধানমন্ত্রী এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করে বলেন, জাতিসংঘ অধিবেশনে তার যোগদান নির্ভর করবে জাতীয় সংসদের অধিবেশন পরিস্থিতির ওপর। কেননা এ সময় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলবে। প্রধানমন্ত্রী সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরে আসার জন্য জাতিসংঘ মহাসচিবকে আমন্ত্রণ জানান। বান কি-মুন ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যের হত্যাকাণ্ড এবং ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আওয়ামী লীগের ২৪ জন নেতা-কর্মীর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা স্মরণ করে শেখ হাসিনার প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেন। সূত্র : বাসস।




