বুধবার, অক্টোবর ২৮, ২০২৬
প্রচ্ছদচট্রগ্রাম প্রতিদিনচট্টগ্রামে মহিষের চাহিদা বেশি

চট্টগ্রামে মহিষের চাহিদা বেশি

আর দুই দিন পরেই কোরবানি ঈদ। সবাই এখন কোরবানির পশু কেনায় ব্যস্ত। তবে কোরবানির জন্য দেশে গরু তালিকার প্রথমে থাকলেও মহিষের চাহিদাও কিন্তু কম নয়। গরুর পাশাপাশি মহিষের ব্যাপক চাহিদা আছে চট্টগ্রামে। বিশেষ করে দক্ষিণ চট্টগ্রামে কোরবানির জন্য অনেকেই গরুর বিকল্প মহিষকে বেছে নেন। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার যাওয়ার পথে ৩য় কর্ণফুলী ব্রিজ পার হলেই এই মইজ্জারটেক বাজার। সাধারণত মহিষের মাংস কিংবা মহিষ বিক্রির জন্য এই বাজার বিখ্যাত। স্থানীয়

দের মতে, বাংলাদেশের সবচাইতে বড় মহিষের বাজার এই মইজ্জার টেক। কেননা বাংলাদেশের অন্যান্য জায়গার তুলনায় দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষ মহিষের মাংস পছন্দ করে। এজন্য মহিষের বিক্রিও এখানে বেশী হয়। এছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে বোয়ালখালি, পটিয়া, চন্দনাইশ, লোহাগড়া ও সাতকানিয়া অঞ্চলে মহিষের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

মইজ্জারটেকের বিশাল গরু ছাগলের হাটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এই বাজারে গরুর পাশাপাশি মহিষের বিক্রি তুলনামূলক কম নয়। তবে এই মহিষ গুলো বেশিরভাগ ভারত থেকে বিক্রির জন্য আনা হয়েছে বলে জানান ব্যাপা

রীরা। মহিষের দাম সম্পর্কে সরোজমিন গিয়ে দেখা গেছে, ১০ থেকে ১১ মণ ওজনের  মহিষ ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা, ৮ থেকে সাড়ে ৯ মণ ওজনের মহিষ দাম ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, ৬ থেকে সাড়ে ৭ মণ ওজনের মহিষ বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১ লাখ  টাকার মধ্যে। মইজ্জার টেকের মহিষের ব্যাপারী পটিয়ার শান্তির হাটের ইউসুফ সওদাগর অর্থসূচককে বলেন, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে এই বাজারে ২৫০টি গরু মহিষ এনেছি। তবে মহিষের পরিমান একটু বেশি আনলেও গতবার থেকে কম এনেছি। আমি যে মহিষ এনেছি তাদের ওজন কমপক্ষে ৮

থেকে ১০ মণ মতো হবে।

দাম সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, এবছর দাম একটু কম। গত বছর মহিষ ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা বিক্রি করলেও এবার কম দামে বিক্রি করছি। মহিষ এনেছেন কোন জায়গা থেকে জানতে চাইলে তিনি জানান, মহিষগুলো কুষ্টিয়া, পাবনা, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আনা হয়েছে। তবে কিছু ভারতীয়। কারণ হিসেবে জানালেন দেশি মহিষে ৫ থেকে সাড়ে ৫ মণের বেশী ওজন হয় না। মহিষের বিক্রি এখানে এত বেশী কেন জানতে চাইলে মইজ্জার টেকের রায়হান ডেইরি ফার্মের মালিক হাজি আলম সওদাগর জানান, শুধু কোরবানির ঈদ উপলক্ষে নয় এখানে সারা বছর মহিষ বিক্রি করা হয়। কারণ বাংলাদেশের মধ্যে দক্ষিণ চট্টগ্রাম ছাড়াও চট্টগ্রামের অনেক এলাকার মানুষ মহিষের মাংস বেশি পছন্দ করেন।

তাছাড়া চট্টগ্রাম এলাকায় শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীর সংখ্যা অন্যান্য জায়গার তুলনায় বেশী হবার কারণে কোরবানির সময় গরিব মানুষের কথা চিন্তা করে অনেকে মহিষ কোরবানি করেন। অনেক শিল্পপতি রা আছেন যারা এই ঈদে ৪ থেকে ৫ টি মহিষ কেনেন ঈদের দিন মাংস বিতরণ করার জন্য। তাছাড়া মহিষ গরুর থেকে দামে সস্তা আবার মাংসও বেশী।

পটিয়ার ব্যবসায়ী হামিদুল্লাহ শহীদ জানান, পরিবারের জন্য কোরবানীর গরু কিনেছি। এখন দুইটা মহিষ কিনেছি। ঈদ হল সবাইকে নিয়ে একসাথে অংশ গ্রহণ করা। যাদের কোরবানি দেওয়ার সামর্থ্য নাই তাদের এই মহিষের মাংস সম্পূর্ণ বিতরণ করা হবে। আল্লাহ আমাকে অনেক দিয়েছেন। আশা করি সামনের বার আরও পশু মানুষের জন্য কোরবানি করতে পারবো। মইজ্জারটেকের এই বাজারে মহিষ ছাড়াও ছোট বড় গরু, ছাগল বিক্রি হচ্ছে। তবে শুধু কোরবানি উপলক্ষে এই হাট নয় এখানে প্রায় ১০ টি গরু, মহিষের ডেইরি ফার্ম আছে আছে যারা সারা বছর মহিষ ও গরু বিক্রি করে।

মইজ্জারটেকের এই হাটটি ইজারা পেয়েছেন আবদুল করিম ফোরকান। তিনি বলেন, এই বাজারটি আমি ৩৩ লাখ টাকায় ইজারা নিয়েছি। সড়কের পাশে যে টিনের ছাউনিগুলো দেওয়া হয়েছে সেগুলোও হাটের অন্তর্ভুক্ত। সড়কে যাতে যানজট তৈরি না হয় সেজন্য স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

ইজারাদার আরও জানান, গত শনিবার থেকে এই হাটের যাত্রা শুরু হলেও গত সোমবার থেকে বাজার মহিষ, গরু, ছাগলের পরিমান বাড়ছে। ঈদের দিন ভোর পর্যন্ত এখানে এই বাজার চলবে। পশু বিক্রির টাকা আদায়ে প্রায় ১০টি টোল ঘর আছে এবং হাসিলের মূল্য তালিকা লাগানো হয়েছে পশু যে দামে ব্যাপারীদের কাছ থেকে ক্রেতারা কিনছেন তার ৫ শতাংশ করে আমরা আদায় করছি।

এদিকে বোয়ালখালি গরু বাজারের ব্যবসায়ী মো. সাদ্দাম হোসেন হলেন, এই অঞ্চলে গরুর পাশাপাশি মহিষের বিক্রি কম নয়। গত বছর মহিষ বিক্রি না করলেও এই বছর ২০ টি মহিষ এনেছি। তবে তার মধ্যে ৯ টি বিক্রি করে ফেলেছি। গরুর বিক্রিও ভালো। তবে এবারের বাজারের সামগ্রিক পশুর দাম গতবার থেকে একটু কম।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ