আজ থেকে শুরু হয়েছে বাঙ্গালি জাতির শোকের মাস। ১৯৭৫ সালে এই মাসেই বাঙ্গালি হারিয়েছে তাদের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে প্রতিটি বছরই আগস্ট এলেই শোকাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে গোটা বাঙালি জাতি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া দলটির সহযোগী সংগঠনগুলো প্রতিবছর এই মাসটি শোকের মাস হিসেবে পালন করে আসছে।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কতিপয় বিপথগামী সেনার হাতে নিহত হন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ওই দিনে ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, তাদের হাতে প্রাণ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর বড় ছেলে শেখ কামাল, মেজ ছেলে শেখ জামাল, ছোট ছেলে শেখ রাসেল, বঙ্গবন্ধুর ভাই শেখ নাসের, শেখ কামালের স্ত্রী সুলতানা কামাল, শেখ জামালের স্ত্রী রোজী জামাল, আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মণি, তার স্ত্রী বেগম আরজু মণি, বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, তার ছোট মেয়ে বেবী সেরনিয়াবাত, ছোট ছেলে আরিফ সেরনিয়াবাত, নাতি সুকান্ত আবদুল্লাহ বাবু, শহীদ সেরনিয়াবাত, আব্দুল নঈম খান রিন্টু, বঙ্গবন্ধুর প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা কর্নেল জামিল উদ্দিন আহমেদ।
১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ সরকার দিবসটিকে জাতীয় শোক দিবস হিসাবে ঘোষণা করেছে। এই মাসে আওয়ামী লীগসহ দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন মাসব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করে। মাসটি উপলক্ষে গতকাল রাত ১২টা ১ মিনিটে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়ক ধরে আলোর মিছিল দিয়ে কর্মসূচির সূচনা হয়েছে। এতে কেন্দ্রীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা অংশ নেন।
আজ সকালে শিল্পকলা একাডেমিতে মাসব্যাপী বঙ্গবন্ধুর জীবনভিত্তিক সংবাদচিত্র প্রদর্শনী শুরু হবে। দুপুরে বনানী কবরস্থানে কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে তাঁতি লীগ। বিকেলে ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি নিয়েছে কৃষক লীগ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ কর্মসূচি উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।
১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে ঢাকা, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিসহ সারা দেশে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করা হবে। এর বাইরে পুরো আগস্ট মাসের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আলোচনা সভা, মানববন্ধন, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, শোক মিছিল ইত্যাদি। আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলো এসব কর্মসূচি পালন করবে।
বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত এই নেতা বেঁচে আছেন বাঙালির অন্তরে অন্তরে। পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামক দেশটি যতোদিন থাকবে ততোদিন বাঙালি হৃদয়ে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের নাম।




