শনিবার, অক্টোবর ২৪, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়৫৭ ধারা বহাল থাকবে কি থাকবে না সিদ্ধান্ত আগস্টে

৫৭ ধারা বহাল থাকবে কি থাকবে না সিদ্ধান্ত আগস্টে

বহুল আলোচিত তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা বহাল থাকবে কি থাকবে না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে। রোববার সচিবালয়ে এক সভা শেষে এ কথা জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। এ ধারা বাতিলের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি জানিয়ে তিনি বলেন, তবে যত দিন এই ধারাটি আছে, তত দিন স্বাভাবিকভাবেই এই ধারায় মামলা হবে।

দুপুরে সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের খসড়া ও আইসিটি অ্যাক্টের ৫৭ ধারা বাতিল’ বিষয়ে এক পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের আইনমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমরা আজকের বৈঠকে দীর্ঘসময় ধরে এই বিষয় পর্যালোচনা করেছি। আগস্টের মাঝামাঝি আবার বসে এ বিষয়ে চূড়ান্ত মতামত জানাব। ৫৭ ধারাকে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক ধারা হিসেবে উল্লেখ করে এর আগেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন আইনমন্ত্রী। সেইসঙ্গে ধারাটি বাতিলের বিষয়ে অঙ্গীকার করেছিলেন তিনি। এ কথা উল্লেখ করে উপস্থিত সাংবাদিকরা জানতে চান, এর পরও প্রায়ই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে উৎসাহের সঙ্গে মামলা দায়ের করছে পুলিশ। এ বিষয়ে মন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গি জানতে চান সাংবাদিকরা। জবাবে মন্ত্রী বলেন, যেহেতু ধারাটি এখনো বলবৎ আছে, সেহেতু এই ধারায় মামলা হবে। তবে মামলা হওয়াই শেষ কথা নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব মামলার তদন্ত যেন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়, সেই বিষয়ে তাঁদের দৃষ্টি থাকবে।

এ ছাড়া আইসিটি অ্যাক্টের ৫৭ ধারা বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হলেও ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের খসড়ার ১৯ ধারার বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, জানতে চান সাংবাদিকরা। কারণ, এ ধারার শাস্তি আরো ভয়াবহ। একটা ধারা বাতিল করে আরেকটি নিবর্তনমূলক ধারার প্রবর্তন করা হচ্ছে কি না—জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বিষয়গুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত করে কিছু বলার সময় হয়নি।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় ইলেকট্রনিক ফর্মে মিথ্যা, অশ্লীল অথবা মানহানিকর তথ্য প্রকাশ-সংক্রান্ত অপরাধ ও এর দণ্ড সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘(এক) কোনো ব্যক্তি যদি ওয়েবসাইটে বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন, যাহা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেহ পড়িলে, দেখিলে বা শুনিলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হইতে উদ্বুদ্ধ হইতে পারেন অথবা যাহার দ্বারা মানহানি ঘটে, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটে বা ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করিতে পারে বা এ ধরনের তথ্যাদির মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উসকানি প্রদান করা হয়, তাহা হইলে তাহার এই কার্য হইবে একটি অপরাধ। (দুই) কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন অপরাধ করিলে তিনি অনধিক চৌদ্দ বছর এবং অন্যূন সাত বৎসর কারাদণ্ডে এবং অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।’

আরও পড়ুন

সর্বশেষ