রবিবার, অক্টোবর ২৫, ২০২৬
প্রচ্ছদআরো খবর......শোককে শক্তিতে পরিণত করে সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করতে হবে : প্রধানমন্ত্রীর

শোককে শক্তিতে পরিণত করে সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করতে হবে : প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক রিপোর্ট (বিডি সময় ২৪ ডটকম)

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৫ আগস্টের শোককে শক্তিতে পরিণত করে জাতির জনকের স্বপ্ন সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় আত্মনিয়োগ করতে দেশবাসীর প্রতি আহবান জানিয়েছেন। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বুধবার এক বাণীতে তিনি এ আহবান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বাণীতে বলেন, ‘ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত, শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার এ সংগ্রামে আমাদের অবশ্যই জয়ী হতে হবে। তিনি বলেন, ‘ঘাতকচক্র বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলেও তাঁর স্বপ্ন ও আদর্শের মৃত্যু ঘটাতে পারেনি। বঙ্গবন্ধুর ত্যাগ ও তিতিক্ষার দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনাদর্শ বাঙালি জাতির অন্তরে লিপিবদ্ধ হয়ে আছে।’
প্রধানমন্ত্রী জাতীয় শোক দিবসে মহান আল্লাহ্ তায়ালার দরবারে জাতির পিতাসহ সেদিনের সকল শহীদের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুৃ শেখ মুজিবুর রহমানের দূরদর্শী, সাহসী এবং ঐন্দ্রজালিক নেতৃত্বে বাঙালি জাতি পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে ছিনিয়ে এনেছিল স্বাধীনতার রক্তিম সূর্য। বাঙালি পেয়েছে স্বাধীন রাষ্ট্র, নিজস্ব পতাকা ও জাতীয় সঙ্গীত।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে মানব ইতিহাসের বর্বরতম হত্যাকান্ডের শিকার হন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।’
তিনি বলেন, ঘৃণ্য ঘাতকরা এই দিনে বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব, পুত্র ক্যাপ্টেন শেখ কামাল, লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল, ১০ বছরের শিশু স্কুলছাত্র শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, বঙ্গবন্ধুর সহোদর শেখ নাসের, কৃষকনেতা আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, যুবনেতা শেখ ফজলুল হক মণি ও তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মণি, বেবী সেরনিয়াবাত, সুকান্ত বাবু, আরিফ, আব্দুল নঈম খান রিন্টুসহ পরিবারের ১৮ জন সদস্যকেও হত্যা করে। বঙ্গবন্ধুর সামরিক সচিব কর্নেল জামিলও নিহত হন। ঘাতকদের কামানের গোলার আঘাতে মোহাম্মদপুরে একটি পরিবারের বেশ কয়েকজন হতাহত হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, যুদ্ধবিধ্বস্থ দেশে বঙ্গবন্ধু যখন সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে সোনার বাংলা গড়ার সংগ্রামে নিয়োজিত, তখনই স্বাধীনতাবিরোধী-যুদ্ধাপরাধী চক্র জাতির পিতাকে হত্যা করে। এর মধ্য দিয়ে তারা বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও অগ্রযাত্রাকে স্তব্ধ করার অপপ্রয়াস চালায়। অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের রাষ্ট্র কাঠামোকে ভেঙে ফেলাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য।
তিনি বলেন, ১৫ আগস্টের পর থেকেই এই জঘন্য হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত স্বাধীনতাবিরোধী চক্র হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু করে। ইনডেমনিটি অর্ডিনেন্স জারি করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের পথ বন্ধ করে দেয়।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে। মার্শাল ল’ জারির মাধ্যমে গণতন্ত্র হত্যা করে। সংবিধান ক্ষত-বিক্ষত করে। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের পুরস্কৃত করে। দূতাবাসে চাকুরি দেয়। স্বাধীনতাবিরোধী-যুদ্ধাপরাধীদের নাগরিকত্ব দেয়। রাষ্ট্রক্ষমতার অংশীদার করে। রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে পুনর্বাসিত করে। পরবর্তীতে বিএনপি-জামাত সরকারও একই পথ অনুসরণ করে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামাত জোটের খুন, হত্যা, দুর্নীতি ও দুঃশাসনের অবসান ঘটিয়ে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে জনগণ ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করে। বর্তমান সরকার সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে “রূপকল্প ২০২১” বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। বিশ্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল।
তিনি বলেন, ‘আমরা এবার বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের রায় কার্যকর করেছি। জাতীয় চার নেতা হত্যার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। আমাদের নির্বাচনি প্রতিশ্র“তি অনুযায়ী একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী-মানবতাবিরোধীদের বিচার শুরু হয়েছে। কয়েকজনের বিরুদ্ধে রায়ও এসেছে। ইনশাল্লাহ এই রায়ও কার্যকর করতে পারব। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাকারীদের বিচার কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। আমরা গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে বদ্ধপরিকর। কোনো ষড়যন্ত্রই আমাদের সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না।’

আরও পড়ুন

সর্বশেষ