শুক্রবার, আগস্ট ১৪, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়সাঈদীর আপিল মামলা কার্যতালিকায়

সাঈদীর আপিল মামলা কার্যতালিকায়

আদালত প্রতিনিধিঃ (বিডি সময় ২৪ ডটকম)

জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়ে দেওয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল আবেদনের শুনানি শুরুর তারিখ নির্ধারণের জন্য মঙ্গলবারের কার্যতালিকায় রাখা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মঙ্গলবারের কার্যতালিকায় আপিল মামলাটি (দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী বনাম চিফ প্রসিকিউটর, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল) ১ নম্বর ক্রমিকে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বাংলানিউজকে জানান, শুনানি শুরুর তারিখ নির্ধারণের জন্য কার্যতালিকায় রাখা হয়েছে।

প্রধান বিচারপতি মো. মোজ্জাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ৫ সদস্যের বেঞ্চে সরকারপক্ষ ও আসামিপক্ষের করা পৃথক দু’টি আপিলের শুনানি একসঙ্গে শুরু হতে যাচ্ছে। এ বেঞ্চের অপর চার বিচারপতি হলেন-বিচারপতি এসকে সিনহা, বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী।

এর আগে ২ মে থেকে আপিল শুনানি শুরুর দিন ধার্য থাকলেও কাদের মোল্লার আপিল মামলা চলমান থাকায় তা শুরু হয়নি।

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। এ রায়ের বিরুদ্ধে ২৮ মার্চ সাঈদী ও সরকারপক্ষ পৃথক দু’টি আপিল(আপিল নম্বর: ৩৯ ও ৪০) দাখিল করেন। গত ৩ এপ্রিল আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল আবেদনের সারসংক্ষেপ জমা দেন সরকারপক্ষ। ১৬ এপ্রিল সারসংক্ষেপ জমা দেন আসামিপক্ষ।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যা, হত্যা, ধর্ষণের মতো আটটি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ার প্রেক্ষিতে এর মধ্যে দু’টি অপরাধে সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

সাঈদীর বিরুদ্ধে গঠন করা অভিযোগে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিন হাজারেরও বেশি নিরস্ত্র ব্যক্তিকে হত্যা বা হত্যায় সহযোগিতা, নয়জনেরও বেশি নারীকে ধর্ষণ, বিভিন্ন বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাট, ভাঙচুর এবং ১০০ থেকে ১৫০ হিন্দুকে ধর্মান্তরে বাধ্য করার ২০টি ঘটনার অভিযোগ আনা হয়েছিল।

এগুলোর মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে ৮টি অভিযোগই প্রমাণ করতে পারায় সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। এর মধ্যে দু’টি অভিযোগে অর্থাৎ ৮ ও ১০ নং অপরাধে সাঈদীর মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। এছাড়া ৬, ৭, ১১, ১৪, ১৬ ও ১৯নং অভিযোগ প্রমাণিত হলেও এগুলোতে কোনো সাজার কথা ঘোষণা করেননি ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনাল জানান, দুই অভিযোগে সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়ায় বাকিগুলোতে আর সাজা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আর বাকি ১২টি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় সেগুলোতেও কোনো সাজা দেননি ট্রাইব্যুনাল।

সাঈদীর মামলার রায়ে সেসব অভিযোগ প্রমাণিত হলেও সাঈদীকে ট্রাইব্যুনাল-১ শাস্তি দেননি, সেই ৬টি অভিযোগে শাস্তির আরজি জানিয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আর সাঈদীর ফাঁসির আদেশ থেকে খালাস চেয়ে আসামিপক্ষ আপিল করেছেন। আপিল আবেদনের শুনানিতে নেতৃত্ব দেবেন ট্রাইব্যুনালে সাঈদীর প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক। আর রাষ্ট্রপক্ষে নেতৃত্ব দেবেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন’১৯৭৩ এর বিধান অনুসারে, রায় ঘোষণার এক মাসের মধ্যে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে। সে হিসেবে ২৮ মার্চ আপিলের শেষ দিনটিতেই উভয়পক্ষ আপিল আবেদন করেন। অন্যদিকে আইন অনুযায়ী ৬০ দিনের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তির বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

এর ফলে মানবতাবিরোধী অপরাধ বিচারের আরো একটি মামলা যাচ্ছে সুপ্রিম কোর্টে। সাঈদীর পক্ষে-বিপক্ষে এ আপিলের মধ্য দিয়ে সুপ্রিম কোর্টে উঠতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দ্বিতীয় মামলা।

এর আগে ট্রাইব্যুনাল-২ এর রায়ে যাবজ্জীবন দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লার রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করেন রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষ। রাষ্ট্রপক্ষ কাদের মোল্লার দণ্ড বাড়িয়ে সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি আর আসামিপক্ষ যাবজ্জীবন দণ্ডাদেশ থেকে খালাসের আর্জি জানিয়ে আপিল করেন। গত ১ এপ্রিল শুরু হয়ে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগে ২৩ জুলাই শেষ হয়েছে উভয় আপিলের শুনানি। বর্তমানে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে।

অন্যদিকে ট্রাইব্যুনাল-২ এর দেওয়া ফাঁসির আদেশ থেকে খালাস চেয়ে গত ৬ জুন আপিল করেন কামারুজ্জামান। তবে কামারুজ্জামানের দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করেননি রাষ্ট্রপক্ষ।সরকারপক্ষ থেকে এ আপিল মামলার সারসংক্ষেপ জমা দেওয়া হয়েছে। আর ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আসামিপক্ষকে সারসংক্ষেপ জমা দিতে বলেছেন আপিল বিভাগ।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ