হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে খেলনা ও কম্পিউটার সামগ্রীর মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা ১৫ কেজি ওজনের একটি বিশেষ হেলথ কেয়ার রোবট আটক করা হয়েছে। এছাড়া জব্দ করা হয়েছে অন্যান্য গোয়েন্দা সামগ্রী। সম্প্রতি হযরত শাহজালাল এর এয়ারফ্রেইটের ১ নম্বর গেট থেকে খালাসের সময় এসব মালামাল জব্দ করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। ১৯ সেপ্টেম্বর সকালে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান। ড. মইনুল খান জানান, গত ৮ সেপ্টেম্বর এয়ারফ্রেইটের ১ নম্বর গেট দিয়ে খালাসের সময় গেটের বাইরে থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৩২৫ কেজি ওজনের ২৪টি কার্টন জব্দ করে শুল্ক গোয়েন্দা।
চালানটির মধ্যে ১৫ কেজি ওজনের বিশেষ এ রোবট রয়েছে। খেলনা (টয়) ও কম্পিউটার সামগ্রীর ঘোষণা দিয়ে ৩০ আগস্ট ঢাকা কাস্টমস হাউজে এসব মালামালের বিল অব এন্ট্রি দাখিল করা হয়। আমদানিকারক চট্টগ্রামের শাহ আমানত সিটি কর্পোরেশন মার্কেটের মেসার্স গ্লোবাল কমিউনিকেশন্স সিএন্ডএফ এজেন্ট মেসার্স কুম ট্রেডার্সের মাধ্যমে এই বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে।চালানটি চীন থেকে ইওয়াই ৯৬০ ফ্লাইটে ঢাকায় আসে। সোমবার পরীক্ষা শেষে কার্টনের মধ্যে বিশেষ এ রোবট ও গোয়েন্দা সামগ্রী পাওয়া যায়। আমদানি নীতি অনুযায়ী মেডিকেল ডিভাইস হিসেবে এই রোবট ওষুধ প্রশাসন এবং গোয়েন্দা ও নেটওয়ার্কিং ডিভাইসগুলো বিটিআরসির (টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি অথরিটি) অনুমোদন ব্যতীত আমদানিযোগ্য নয়।
পণ্যটির চালানে ওই বিশেষ রোবট ছাড়াও ১২০টি স্মার্ট ওয়াচ (সিম স্লট সংযুক্ত), ১০টি মিনি ডিজিটাল ও ২৫টি পেন ক্যামেরা (গোয়েন্দা ডিভাইস), ৬৩টি ইথারনেট সুইস, ২৫টি অ্যান্টেনা, ১৯টি বেজ স্টেশনসহ বিভিন্ন ধরনের নেটওয়ার্কিং সামগ্রী পাওয়া যায়। ড. মইনুল খান জানান, রোবটের প্যাকেটের গায়ে ‘হেলথ কেয়ার রোবট’ লেখা। এতে রিমোট কন্ট্রোলসহ ক্যামেরা ও মিউজিক বক্স সংযুক্ত করা আছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এ বিশেষ রোবট উন্নত দেশে মেডিকেল সেবায় ব্যবহার হয়। তবে এর অপব্যবহার রোধে ওষুধ প্রশাসনের অনুমতি নিতে হয়। প্রকৃত ঘোষণা না দিয়ে খালাসের চেষ্টা করায় শুল্ক আইন ভঙ্গ হওয়ায় শুল্ক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান ড. মইনুল।




