জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর রশিদের পুনরায় জেরা করতে প্রধান আসামি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আবেদন মঞ্জুর করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ ০৮ সেপ্টেম্বর এ আদেশ দেন। মামলাটির ৩২তম ও শেষ সাক্ষী হিসেবে বিচারিক আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা হারুন-অর রশিদ। এ আদেশের ফলে তাকে ফের জেরা করার সুযোগ পাবেন খালেদার আইনজীবীরা। তবে জেরার সময় মাত্র তিনটি প্রশ্ন করতে পারবেন আইনজীবীরা। সেগুলো হলো- ১. ট্রাস্টি বোর্ডের কোনো সম্পত্তি অপব্যবহার হইলে বোর্ড অব ট্রাস্টি দায়ী কি-না? ২. হলফকারী হিসেবে আপনি হলফ করে কি বলেছেন? এবং ৩. আপনাকে ২০০৫ সালে দুদক থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে? তারপর থেকে আপনি কিভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন? আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী। দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।
পরে খুরশীদ আলম খান জানান, চারটি প্রশ্নে জেরা চেয়ে তারা আবেদন জানিয়েছিলেন। আদালত পযবেক্ষণসহ সে আবেদনের নিষ্পত্তি করেছেন। তবে চারটি নয়, মামলার পরবর্তী নির্ধারিত দিনে তিনটি প্রশ্নে জেরা শেষ করতে হবে। আর কেস ডকেটের বিষয়ে আদালত বলেছেন, বিচারিক আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে খালেদার আইনজীবীরা তা দেখতে পারবেন। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা দু’টি মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলছে রাজধানীর বকশিবাজারে কারা অধিদফতরের প্যারেড মাঠে স্থাপিত তৃতীয় বিশেষ জজ আবু আহমেদ জমাদারের অস্থায়ী আদালতে।
গত ১৭ এপ্রিল বিচারিক আদালতে তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর রশিদের পুনরায় সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরার দু’টি পৃথক আবেদন করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। আবেদন দু’টির পক্ষে শুনানি করেন খালেদার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী। শুনানি শেষে আবেদন দু’টি খারিজ করে দেন আদালত। এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করেন খালেদা জিয়া। ওই আবেদনে মামলার কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশও চাওয়া হয়। গত ১৫ মে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি আমির হোসেনের বেঞ্চ শুনানি নিয়ে আবেদন দু’টি খারিজ করে দেন।
এর পর গত ৩১ মে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন খালেদার আইনজীবী ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী। ১৬ জুন) চেম্বার বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দারের আদালত আপিলের অনুমতি দিয়ে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান।
বিচারিক আদালতে আগামী ০৬ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৩৪২ ধারায় খালেদার আত্মপক্ষ সমর্থনের দিন ধার্য রয়েছে। ওইদিন খালেদা জিয়াকে হাজির থাকতে ও হাজিরা নিশ্চিত করতে তার আইনজীবীদের নির্দেশও দিয়েছেন আদালত। অন্যদিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাক্ষীদের জেরা ও পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর।




