শনিবার, আগস্ট ১৫, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়জামায়াতের হরতালের কোনো প্রভাব নেই

জামায়াতের হরতালের কোনো প্রভাব নেই

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মীর কাসেম আলীর ফাঁসির প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামীর ডাকা হরতালের প্রভাব রাজধানীতে পড়েনি। জামায়াত বা তাদের ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কোনো পিকেটিং বা কর্মসূচি নেই। হরতালবিরোধীদের কর্মকাণ্ডও সেভাবে নেই। জনজীবন স্বাভাবিক। শনিবার রাতে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে মীর কাসেমের ফাঁসি কার্যকর হয়। ওই দিনই এর প্রতিবাদে জামায়াত সারা দেশে আধা বেলা হরতাল ডাকে। আজ সোমবার বেলা দুইটায় এই হরতাল কর্মসূচি শেষ হবে। সকালে রাজধানীর সড়কগুলোতে অন্যান্য দিনের মতোই যান চলাচল করতে দেখা গেছে। বেশির ভাগ স্কুল-কলেজও খোলা। বড় শপিং মলগুলোও স্বাভাবিক সময়ের মতোই খোলা থাকবে বলে সেখানকার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বা এর আশপাশের এলাকায় হরতালবিরোধী বা হরতালের সমর্থনে কোনো কর্মসূচি দেখা যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ পরীক্ষা, ক্লাস চলছে। দূরপাল্লার লঞ্চ, বাস ও ট্রেনের সময়সূচির কোনো বদল হয়নি। সময়মতোই এগুলো গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা করেছে।

মগবাজারে সিগনালে প্রাইভেট কারের চালক জসিমউদ্দিন বললেন, হরতালে তিনি নিয়মিতই গাড়ি চালাচ্ছেন। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে তাঁর গাড়িটি ভাড়া দেওয়া। ওই প্রতিষ্ঠান হরতালে খোলা আছে। তাঁর মতে, ফাঁসি হলে জামায়াতের হরতাল ডাকা একটা নিয়মে পরিণত হয়েছে। কিন্তু হরতালের কোনো প্রভাব থাকে না। রাজধানীর মগবাজার, মালিবাগ, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, শাহবাগ, গুলিস্তান এলাকায় হরতালের তেমন প্রভাব লক্ষ করা যায়নি। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে সামনে দলের নেতা-কর্মীদের তেমন ভিড় ছিল না।

৫৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা পরিচয় দিয়ে আরিফুল ইসলাম বললেন, হরতালবিরোধী বড় কর্মসূচি করলে হরতালকেই গুরুত্ব দেওয়া হবে। এখন আর কেউ হরতাল পালন করে না। তাই তাঁরাও বড় পরিসরে হরতালবিরোধী অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন না। তিনি জানান, দলের কেন্দ্রীয় নেতারা বেলা ১১টার দিকে অ্যাভিনিউয়ের জিরো পয়েন্টে আসতে পারেন।

পল্টন মোড়ের ফুটপাতের কাপড় ব্যবসায়ী নাজিমুদ্দিন বললেন, সকাল সকাল দোকান খুলতে হয়। কেননা, এই এলাকায় অফিসে লোকজন সকালে আসেন। ঢাকার বাইরে থেকেও লোকজন আসে। হরতাল প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শুনেছি, আজ হরতাল। অনেক দিন ধরে দেখছি, মানুষ এখন আর হরতাল মানে না।’ তবে হরতালে প্রাইভেট কার অন্য সময়ের তুলনায় কম থাকে বলে তিনি মনে করেন। আরও বললেন, ঈদের আগেই তাঁদের বিক্রি বেশি। এ কারণে হরতালে দোকান বন্ধ রাখা যাবে না।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ