ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এমপি গতকাল বোয়ালখালীর এক অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি মোছলেম উদ্দিনের তীব্র সমালোচনা করেছেন। ভূমি প্রতিমন্ত্রী বলেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগ যখন গঠিত হয় তখন দলকে সুসংগঠিত করা হবে এই আশায় বুক বেঁধে ছিলেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী পরিবারের নেতা–কর্মীরা। কিন্তু রাজনীতির সব ধারা–উপধারাকে উপড়ে ফেলে এখানে মনোনয়ন বাণিজ্য এবং টাকা নিয়ে মাদক সম্রাট, ডাকাত, চোর, চাঁদাবাজদের পদপদবী দেয়ার বাণিজ্য করছেন দক্ষিণ জেলার সভাপতি। এভাবে তিনি দক্ষিণ চট্টগ্রাম তথা আওয়ামী রাজনীতিকে কলংকিত করেছেন। রাজানীতিকে পকেট স্বার্থে ব্যবহার করতে করতে আজ দক্ষিণ চট্টগ্রাম তথা সারা দেশে তিনি ‘মোছলেম সওদাগর’ নামেই পরিচিত।
শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় বোয়ালখালী উপজেলা পরিষদ চত্বরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪১তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে পৌরসভা আওয়ামীলীগ আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখছিলেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, “বঙ্গবন্ধুর আর্দশকে যারা বুকে ধারণ করে তাদের রাজনীতি ও ব্যক্তি জীবনে সমস্যা হবে না। অপরাজনীতির জন্য বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীন করেননি। তাঁর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল এ দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা। তাঁরই উত্তরসূরী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর সেই লক্ষ্য নিয়ে দেশকে এগিয়ে নেয়ার কাজ করছেন, এমন কঠিন সময়ে এসে রাজনীতিকে পুঁজি করে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন অপরাজনীতির চর্চায় লিপ্ত হয়েছেন। মাদক সম্রাট, ডাকাত, চোর এমনকি জামায়াত–শিবির ও বিএনপির নেতাদের সাথে হাত মিলিয়ে তিনি পকেট বাণিজ্য করে যাচ্ছেন। তিনি লোভী, নিজের স্বার্থে শত্রুদের সাথেও হাত মেলান। ”
সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বলেন, “বীর চট্টলার রাজনৈতিক অভিভাবক মরহুম আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর হাতে গড়া সেই দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগকে নিয়ে এক সময় গর্ব হত। আজ তিনি নেই, কিন্তু এতে ভূঁইপুড় ঢোকে দক্ষিণ জেলার রাজনীতিকে ধ্বংস করে ফেলেছে। এখন সময় এসেছে তার অপরাজনীত ও বাণিজ্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “মানুষ জানে আওয়ামীলীগ সবার, কোনো ব্যক্তির নয়। আপনারা কাজ করে যান।”
বোয়ালখালী পৌরসভা আওয়ামীলীগের আহ্বায়ক মো. জাকারিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি’র বক্তব্য রাখেন মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আবদুল কাদের সুজন, আনোয়ারা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান তৌহিদুল হক, চান্দগাঁও থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের, আওয়ামীলীগ নেতা এডভোকেট সমীর কান্তি, উপজেলা আওয়ামলীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আহম্মদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা এসএম সেলিম, উপজেলা জাসদ সভাপতি মনছফ আলী, রিদুয়ানুল হক টিপু, যুবলীগ সভাপতি মো. সেলিম উদ্দিন।
ভূমি প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বোয়ালখালীতে মরহুম সিরাজুল ইসলাম, আবদুস সোবাহান, সাংসদ মঈন উদ্দিন খান বাদল, আবুল কালামসহ স্বনামধন্য বহু ব্যক্তির জন্ম হয়েছে। তেমনি কলংকিত ব্যক্তির জন্মও হয়েছে। আর সেই কলংকিতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বর্তমান দক্ষিণ জেলার সভাপতি মোছলেম উদ্দিন।”
মন্ত্রী আরো বলেন, “আমি রাজনীতিতে নতুন নই, আমি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। যারা আমাকে নতুন বলেন, তাদের উদ্দেশ্যে বলছি, ১৯৯৩ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে আমার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। আমি পরিবর্তন, নতুনত্বের জন্য রাজনীতিতে এসেছি। কেউ যদি আমার সরলতাকে দুর্বলতা মনে করেন তাহলে ছাড় দেব না। পরিবর্তনের সময় এসেছে। রাজনীতি করি কর্মীদের সন্তুষ্ট করার জন্য, দেশের মানুষের উন্নয়নের জন্য। কিছু লোক আছেন যারা নিজেদের পকেট ভারী করার জন্য রাজনীতি করেন।”
কালুরঘাট সেতুর ব্যাপারে ভূমি প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ সরকারের আমলে চট্টগ্রামে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে যা আগে কখনোই হয়নি। আমি আশ্বস্ত করতে চাই, কর্ণফুলী নদীর উপর রেল কাম সড়ক সেতু হবে ইনশাল্লাহ। এটা প্রধানমন্ত্রীর নজরে আছে। আমি প্রধানমন্ত্রীকে এ বিষয়ে বলেছি এবং আবারও বলব।




