রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে তিন দিন ‘অবরুদ্ধ’ থাকার পর সোমবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে বেরিয়ে গেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রিজভী গুলশান কার্যালয় থেকে বেরিয়ে আদালতের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইবেন। এর আগে আইনশৃংখলা বাহিনী যাতে তাকে হয়রানি না করে সেজন্য রোববার আদালতে একটি আবেদন দাখিল করেন রিজভীর আইনজীবীরা। গ্রেফতার এড়াতে শুক্রবার রাত থেকে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে অবস্থান নেন তিনি। রোববার বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, সোমবার নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের জন্য আবেদন করবেন রিজভী আহমেদ। তার যথোপযুক্ত নিরাপত্তা দিতে রোববার মহানগর দায়রা জজ আদালতে একটি পিটিশন দাখিল করা হয়েছে।
এদিকে রিজভী আহমেদ টেলিফোনে জানান, আইনজীবীদের পরামর্শে আজ আদালতে যেতে পারেন তিনি। গত ২৫ জুলাই পল্লবী থানার একটি মামলায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এরপর থেকেই তাকে গ্রেফতারে আইনশৃংখলা বাহিনী তৎপর হয়ে ওঠে। বিষয়টি টের পেয়ে সতর্কভাবে চলাফেরা করেন রিজভী। নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয় নিরাপদ না ভেবে শুক্রবার গুলশানে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।
গুলশানে রিজভীর অবস্থান জানতে পেরে আইনশৃংখলা বাহিনী কার্যালয়ের সামনে ও আশপাশে অবস্থান নেয়। তাই কার্যালয় থেকে আর বের হননি তিনি। তার সঙ্গে বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, সদস্য বেলাল আহমেদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতা সাইফুল ইসলাম পটু, আমিনুল ইসলামও সেখানে ছিলেন। শনিবার রাতে আবদুস সালাম ও বেলাল কার্যালয় থেকে বেরিয়ে গেলেও রিজভী ও আমিনুল সেখানেই ছিলেন।
শনিবার রাতে গুলশান কার্যালয়ে যান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বিষয়টি নিয়ে চেয়ারপারসনের সঙ্গে কথা বলেন রিজভী আহমেদ। এভাবে অবরুদ্ধ না থেকে আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন খালেদা জিয়া। চেয়ারপারসনের এমন নির্দেশনার পর আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করেন তিনি। আইনজীবীদের পরামর্শেই আজ আদালতে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেন রিজভী আহমেদ।




