হরতালের ফাঁদে পড়ে তিনদিন নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও একদিনও চাঞ্চল্যকর দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হতে পারেনি। ফলে বারবার দীর্ঘায়িত হচ্ছে এ মামলার অধিকতর তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির চট্টগ্রাম জোনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো.মনিরুজ্জামান চৌধুরীর জেরা কার্যক্রম।
গত সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত তিনদিন এ মামলার সময় নির্ধারণ করেছিলেন চট্টগ্রামের স্পেশাল ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও মহানগর দায়রা জজ এস এম মুজিবুর রহমান।
কিন্তু সাবেক আমির গোলাম আজম এবং সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের মানবতা বিরোধী অপরাধ মামলার রায়কে কেন্দ্র করে তিনদিনই হরতাল কর্মসূচী পালন করে জামায়াত।
চট্টগ্রাম মহানগর আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হরতাল হলে আইনজীবীরা আদালতে যান না। এজন্য বিচারক উপস্থিত থাকলেও হরতালের কারণে জেরা হয়নি।’
পিপি জানান, আদালত আগামী ২৮, ২৯ ও ৩০ জুলাই এ মামলার পরবর্তী কার্যক্রমের সময় নির্ধারণ করেছেন। এর আগে গত ৩ জুলাই ধার্য তারিখেও শিবিরের হরতালের কারণে জেরা অনুষ্ঠিত হয়নি। গত ৬ মে এ মামলায় মনিরুজ্জামানের জবানবন্দি প্রদান শেষ হয়। এরপর থেকে গত ২ জুলাই পর্যন্ত তাকে ১০ দিন জেরা করেছেন আসামীপক্ষের আইনজীবীরা যা এখনও অসমাপ্ত অবস্থায় আছে।
উল্লেখ্য ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা চিটাগং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) জেটিঘাটে দশ ট্রাক অস্ত্রের চালানটি ধরা পড়ে। এ ঘটনায় কর্ণফুলী থানায় অস্ত্র আইনে ও চোরাচালানের অভিযোগে দু’টি মামলা দায়ের হয়। এসব মামলায় ঘাট শ্রমিক, পরিবহন শ্রমিক, স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ প্রায় অর্ধশত লোককে আসামী করা হয়।
মামলা দু’টির সাক্ষ্যগ্রহণ চলাকালে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে রাষ্ট্রপক্ষের তৎকালীন কৌসুলী মহানগর পিপি আহসানুল হক হেনার আবেদনের প্রেক্ষিতে অধিকতর তদন্তের আদেশ দেন আদালত।
প্রায় সাড়ে তিন বছর অধিকতর তদন্তের পর ২০১১ সালের ২৬ জুন নতুনভাবে আরও ১১ আসামীর নাম অন্তর্ভুক্ত করে আদালতে দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেন সিআইডি’র চট্টগ্রাম অঞ্চলের তৎকালীন এএসপি মো.মনিরুজ্জামান।
এরপর ওই বছরের ১৫ নভেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করা হয়। ২০১১ সালের ২৯ নভেম্বর থেকে সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে বিচার।
সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিলের পর থেকে এ মামলায় অধিকতর তদন্তকারী কর্মকর্তা মো.মনিরুজ্জামান চৌধুরীসহ ৩০ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।




