ইসরাইলী গোয়েন্দা সংস’া ‘মোসাদ’ কানেকশনের অভিযোগে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের নজরদারিতে থাকায় গা ঢাকা দিয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী। শনিবার একাধিকবার তার মোবাইল ফোনে কল করলে রিসিভ করেননি তিনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, ইতোমধ্যে আসলাম চৌধুরীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মোসাদ কানেকশনের উপযুক্ত প্রমাণ পেলে যে কোনো মুহূর্তে গ্রেফতারও হতে পারেন বিএনপির এ নেতা। জানা গেছে, মোসাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার উৎখাত যড়যন্ত্রে আসলামের সঙ্গে বিদেশি যেসব নাগরিক চক্রান্তে জড়িত তাদের ব্যাপারেও খোঁজখবর নিচ্ছে দেশের গোয়েন্দা সংস’াগুলো। এছাড়া সংস’াগুলো বিএনপির এ নেতা ছাড়াও সরকার উৎখাত ষড়যন্ত্রে জড়িত আরও ছয় বাংলাদেশির ব্যাপারেও তদন্ত শুরু করেছে।
বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে সরকার উৎখাত ষড়যন্ত্রের ঘটনা তদন্তের বিষয়টি গত শুক্রবার গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম অঞ্চলের ডিআইজি শফিকুল ইসলাম। গত ৭ মে থেকে নিষেধাজ্ঞা জারির পর দেশের প্রতিটি বিমানবন্দরে ও স’লবন্দরগুলোয় সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে দেশের প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস’া।
এদিকে গতকাল বিকেলে ইসরাইলের কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি বা দলের সঙ্গে বন্ধুত্বকে প্রকারান্তরে ‘রাজনৈতিক আত্মহত্যা’ বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় ফিলিস্তিনি দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ইউসুফ এস রামাদান। ফিলিস্তিনের ঐতিহাসিক নাগবা দিবস উপলক্ষে দূতাবাসে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে রামাদান বলেন, ‘বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি বা দল যদি ইসরাইলের কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি, দল কিংবা গোয়েন্দা সংস’ার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে, তবে তা হবে তাদের রাজনৈতিক আত্মহত্যা।
বিএনপি নেতার সম্পৃৃক্ততার খবর চাউর হতেই ফিলিস্তিনি দূতাবাসে ছুটে যান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি ফিলিস্তিনি দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ইউসুফ এস রামাদানকে বলেন, ‘দল হিসেবে বিএনপির সঙ্গে ইসরাইলের কোনো সংযোগ নেই। তারা সবসময় ফিলিস্তিনের জনগণের পাশে আছে। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ইসরাইলের সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল ডিপ্লোমেসি অ্যান্ড অ্যাডভোকেসির প্রধান মেন্দি এন সাফাদি ভারত সফর করেন। সেখানে বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তির সঙ্গে তার বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশ সম্পর্কে নানা মন্তব্য করেন মেন্দি এন সাফাদি। এতে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীও উপসি’ত ছিলেন। বৈঠক শেষে গ্রুপ ছবি তোলেন সবাই। ওই ছবিতে আসলাম চৌধুরীও রয়েছেন।
মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী শুক্রবার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস’া মোসাদের সঙ্গে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র করলে তা কেউ প্রকাশ করবে না। এটি বানোয়াট তথ্য বলে আমাকে জানিয়েছে আসলাম চৌধুরী। বিএনপিকে ফাঁসানোর জন্য এ তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।’




