সড়ক দুর্ঘটনায় মিশুক-তারেকের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষতিপূরণ আদায়ের মামলা প্রত্যাহারসহ তিন দফা দাবিতে খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় পরিবহন ধর্মঘট চলছে। ১৫ মে ভোর ৬টা থেকে ৪৮ ঘণ্টার এ পরিবহন ধর্মঘট পালন করছে সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল কমিটি। ধর্মঘটের ফলে দূরপল্লার সব যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। আর এতে বেশ ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
ধর্মঘট শুরু হওয়ার পর খুলনা বিভাগের সর্ববৃহৎ বাস টার্মিনাল সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড থেকে ঢাকাসহ দূরপাল্লার কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। অনেক যাত্রীকে স্ট্যান্ডে এসে ফিরে যেতেও দেখা গেছে। নয়ন নামের এক যাত্রী জানান, নগরীর বৈকালী এলাকায় ধর্মঘটের সমর্থনকারীরা গণপরিবহনও চলাচলে বাধা দিচ্ছেন। তিনি যে গাড়িতে উঠেছিলেন তা লাঠি-সোটা নিয়ে তা চালাতে দেয়নি ধর্মঘট সমর্থনকারীরা। পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল কমিটির সদস্য সচিব আব্দুর রহিম বকস দুদু বলেন, সর্বাত্মকভাবে খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় পরিবহন ধর্মঘট পালিত হচ্ছে। ‘ধর্মঘটের ফলে বাস-ট্রাক, ট্যাংক-লরি, কাভার্ড ভ্যানসহ সব ধরনের যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে,’ দাবি করেন তিনি। তাদের এ দাবির সঙ্গে একমত হয়ে ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও গোপালগঞ্জ জেলায়ও পরিবহন ধর্মঘট পালন করছেন সেখানকার শ্রমিক নেতারা। এর আগে শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিন দফা দাবিতে এ ধর্মঘটের ঘোষণা দেন পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় কমিটি।
দাবিগুলো হচ্ছে- সড়ক দুর্ঘটনায় তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরসহ ৫ জন নিহতের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার বিচার কাজ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে শেষ করতে হবে। নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ চেয়ে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। ওই মামলায় ৭ কোটি ৭৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। মামলা বর্তমানে হাইকোর্টে বিচারাধীন। এছাড়াও গ্রিন লাইন পরিবহনের বিরুদ্ধে সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতে দায়ের করা মামলাটি প্রত্যাহার করতে হবে।




