আদালত প্রতিনিধিঃ (বিডি সময় ২৪ ডটকম)
মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ ঘোষণার পর আসামির কাঠগড়ায় থাকা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ দাঁড়িয়ে যান। উচ্চ স্বরে তিনি বলেন, ‘রং জাজমেন্ট। আমি মুক্তিযুদ্ধকালে ফরিদপুরে যাইনি। ইসলামী আন্দোলন করাই আমার অপরাধ। আমার সঙ্গে হান্ডেড পারসেন্ট ইনজাজটিস।’
এ ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মুজাহিদকে আসামির কাঠগড়া থেকে দ্রুত ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় নিয়ে যান। রায় ঘোষণার পর মুজাহিদ যখন ট্রাইব্যুনালের উদ্দেশে উচ্চ স্বরে কথা বলছিলেন, তখন সেখানে উপস্থিত ভুক্তভোগী, মুক্তিযোদ্ধা, আইনজীবী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা সমস্বরে তাঁকে চুপ থাকতে বলেন।
মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মুজাহিদকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আজ বুধবার এ রায় ঘোষণা করেন।
মুজাহিদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাতটির মধ্যে পাঁচটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
রায়ে বলা হয়েছে, প্রথম, তৃতীয়, পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এই অভিযোগগুলোর মধ্যে এক, ছয় ও সাত নম্বর অভিযোগে মুজাহিদকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল-২। তিন নম্বর অভিযোগে মুজাহিদকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ নম্বর অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় ও চতুর্থ অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি রাষ্ট্রপক্ষ। এই দুটি অভিযোগ থেকে মুজাহিদকে খালাস দেওয়া হয়েছে।




