আঞ্চলিকতার দৃষ্টিকোণ থেকে চট্টগ্রামকে দেখার সুযোগ নেই। চট্টগ্রামের উন্নয়ন মানে পুরো দেশের উন্নয়ন। তাই দেশের উন্নয়ন মডেল তৈরি করলে চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করেই সেই মডেল তৈরি হতে হবে। শুক্রবার সকাল ১১টায় নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা। ‘উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ : প্রেক্ষিত চট্টগ্রাম’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে সুচিন্তা বাংলাদেশ, চট্টগ্রাম বিভাগ। সেমিনারে মিডিয়া পার্টনার ছিল দেশের শীর্ষস্থানীয় অনলাইন নিউজপোর্টাল বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। মুখ্য আলোচক ছিলেন সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও সুচিন্তা বাংলাদেশের আহ্বায়ক অধ্যাপক মোহাম্মদ এ আরাফাত। এছাড়া সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম, চট্টগ্রামের চেয়ারম্যান এস এম আবু তৈয়ব, কাউন্সিলর তারেক সোলেমান সেলিম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিটি মেয়র বলেন, ‘অর্থনৈতিকভাবে যে সক্ষমতা বাংলাদেশে তৈরি হয়েছে তা চট্টগ্রাম বন্দরেরই অবদান। চট্টগ্রামকে শুধুমাত্র একটা জেলা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সুযোগ নেই সংকীর্ণভাবে দেখারও। চট্টগ্রামের উন্নয়ন না হলে প্রধানমন্ত্রী যে রূপকল্প হাতে নিয়েছেন তা বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছিলেন চট্টগ্রামের উন্নয়নের দায়িত্ব তিনি নেবেন। তিনি তার কথা রেখে চলেছেন। ইকোনমিক জোন স্থাপনের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা বাস্তবায়িত হলে ৩০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হবে। কর্ণফুলী টানেলের কাজও শুরু হবে শীঘ্রই।’
মুখ্য আলোচকের বক্তব্যে অধ্যাপক মোহাম্মদ এ আরাফাত বলেন, ‘দেশের উন্নয়নের পাশাপাশি আমাদের চিন্তাভাবনারও উন্নয়ন ঘটাতে হবে। আঞ্চলিকতার দৃষ্টিকোণ থেকে চট্টগ্রামকে দেখার কোনো সুযোগ নেই। চট্টগ্রামের উন্নয়ন মানে পুরো দেশের উন্নয়ন। আঞ্চলিকভাবে অন্যান্য দেশের সহযোগিতা পেতেও চট্টগ্রামের উন্নয়ন করতে হবে। চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়ন করতে হবে। চট্টগ্রামকে কোনোভাবেই আলাদাভাবে রাখার সুযোগ নেই। ‘বাংলাদেশের উন্নয়নের মডেল তৈরি করলে সেই মডেলে চট্টগ্রামকে কেন্দ্রেই রাখতে হবে। চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করেই সেই মডেল হতে হবে।’
তিনি বলেন, আপনারা সবাই ‘স্বার্থপর’ হয়ে যান। নিজের জন্য যা মঙ্গল তা করেন, পরিবারের উন্নয়ন করুন, বাচ্চাদের শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলুন। মোদ্দকথা আপনারা স্বার্থপর হয়ে যান। তবে তা নৈতিকতার মধ্যে থাকবে। আপনারা ব্যক্তিগতভাবে উন্নয়ন করলেই তো দেশ এগিয়ে যাবে। আপনার স্বার্থেই সঠিক সিদ্ধান্ত নিন, এমন নেতৃত্ব চাইবেন না যারা বাংলাদেশকে পিছিয়ে নিয়ে যাবে। নিজের স্বার্থে উন্নয়নের পক্ষে ভোট দিন। কৌতুকের ছলে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম আসলে ‘ঢাকা’ ছিল। এই ‘ঢাকা’ মানে রাজধানী ঢাকা না, চট্টগ্রাম বিলবোর্ডে ঢাকা ছিল। বর্তমানে সেটি আর নেই।
দেশের সবচেয়ে বেস্ট হোটেলটি চট্টগ্রামে হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘র্যাডিসন হোটেলটি দেশের সবচেয়ে সেরা হোটেল। এটি চট্টগ্রামেই অবস্থিত। কিন্তু এখনও প্রায় ৭৫ শতাংশ ব্যবসা সেখানে হচ্ছে না, তবে ভবিষ্যতে হবে। নিশ্চয় সেটা বিবেচনা করেই এখনই গড়ে তুলেছেন উদ্যোক্তারা। সুচিন্তা বাংলাদেশ, চট্টগ্রাম বিভাগের সমন্বয়ক ড. মো. আশরাফুল ইসলাম সজিবের সভাপতিত্বে ও সদস্য জিন্নাত সোহানা চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার ও বিসিবির বর্তমান পরিচালক আকরাম খান, রোটারি চট্টগ্রামের প্রেসিডেন্ট স্থপতি আশিক ইমরান। এছাড়া অন্যদের মধ্যে ছিলেন সুচিন্তা বাংলাদেশ, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এমদাদুল হক সুজন, শারুন চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিভাগের যুগ্ম সমন্বয়ক আবুল হাসনাত বেলাল, সদস্য দেবাশীষ পাল দেবু, চৌধুরী জহির উদ্দিন মো. বাবর, আবু হাসনাত চৌধুরী, আবুল বশর, প্রণব চৌধুরী, সরফরাজ নেওয়াজ খান রবীন, মোহাম্মদ বোখারী আজম প্রমুখ।




