আদালত অবমাননার দায়ে সর্বোচ্চ আদালত ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানার দণ্ডাদেশ দেওয়ার পর দুই মন্ত্রীর পদ থাকবে কিনা তা ‘নৈতিকতার সঙ্গে জড়িত’ বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আপিল বিভাগের আদেশের পর ২৭ মার্চ নিজ কার্যালয়ে এ মন্তব্য করেন অ্যাটর্নি জেনারেল। মন্ত্রিত্ব থাকবে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে মাহবুবে আলম বলেন, ‘এটি এই মুহূর্তে আমার পক্ষে বলা সম্ভব নয়। সংবিধানে এ ব্যপারে বিস্তারিত আছে বলে মনে হয় না। তবে বিষয়টি নৈতিকতার সঙ্গে জড়িত। এটার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা’।
আদালতের আদেশের বিষয়ে মাহবুবে আলম বলেন, ‘দুইজন মন্ত্রী নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থানা করেছিলেন। আদালত সংক্ষিপ্ত আদেশে বলেছেন, অপরাধের গুরুত্ব এতোটাই বেশি যে, ক্ষমা প্রার্থনা করে তারা যে দরখাস্ত দিয়েছেন, তা গ্রহণ করতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন’। ‘তাই তাদেরকে দোষী সাব্যস্ত করে দুইজন মন্ত্রীকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছেন। জরিমানার অর্থ আগামী সাতদিনের মধ্যে ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতাল ও লিভার ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশে জমা প্রদান করতে নির্দেশ দিয়েছেন। সাতদিনের মধ্যে জরিমানার অর্থ জমা না দিলে তাদেরকে এক সপ্তাহের জন্য বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে বলে দণ্ডলাভ করতে হবে বলে উল্লেখ করেছেন’।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘ওই বৈঠকে (৫ মার্চ যে সভায় দুই মন্ত্রী মন্তব্য করেছিলেন) অনেকে অনেক মন্তব্য করেছেন। কিন্তু সবার বিরুদ্ধে আদালত কোনো রুল ইস্যু করেননি নানা দিক বিবেচনা করে। দু’জন মন্ত্রী, যেহেতু তারা শপথ নিয়েছেন, সংবিধান ও আইনের শাসন রক্ষা করবেন। সেজন্য যেহেতু তাদের সাংবিধানিক দায়-দায়িত্ব আছে বিচার বিভাগের মর্যাদা রক্ষার জন্য সেজন্য এই দুজনের ওপরে রুল ইস্যু করা হয়েছিল। আজকে দুই জনের ব্যপারে আদেশ দেওয়া হল। আদালত উল্লেখ করেছেন, অতন্তপক্ষে এই আদেশের প্রেক্ষিতে সারা দেশবাসী বুঝতে পারবে, আদালতের মর্যাদা ক্ষুন্ন করা কোনো নাগরিকের পক্ষেই উচিত না’। এই হল ম্যাসেজ যে, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে নিয়োজিত দুজন মাননীয় মন্ত্রী তাদেরকে আদালত কোনো রকম ছাড় দেননি, অন্যান্য নাগরিক যারা আছেন, তাদের পক্ষে এটি বুঝে নেওয়া সম্ভব হবে, আদালত অবমাননার ফল কি হবে ? তা বোঝা যাচ্ছে’ বলেও মন্তব্য করেন অ্যাটর্নি জেনারেল।




