লেখাপড়া শিখে, মানুষের মতো মানুষ হয়ে আগামীর জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে শিশু-কিশোরদের উপদেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে শনিবার (২৬ মার্চ) সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে জাতীয় শিশু-কিশোর সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। ‘আজকের ছাত্র-ছাত্রী, শিশুরাই আগামী দিনে জাতির কর্ণধার’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তোমরাই তো এদেশের কর্ণধার হবে। তোমরাই তো এদেশ পরিচালনা করবে। তোমরাই তো আমাদের মতো মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী হবে। তোমরাই তো দেশ চালাবে। তোমাদের সেভাবে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। লেখাপড়া শিখতে হবে। অভিভাবকের কথা শুনতে হবে। খেলাধূলা, সাংস্কৃতিক চর্চা থেকে শুরু করে সবকিছুতে মনোনিবেশ করতে হবে। যেনো মানুষের মতো মানুষ হতে পারো,’ বলেন প্রধানমন্ত্রী।
বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে মন্তব্য করে শিশু-কিশোরদের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ছোট্ট সোনামণিরা তোমাদের মনে রাখতে হবে যে, আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে বিজয় অর্জন করেছি, আমরা বিজয়ী জাতি। কোন দিক থেকে আমরা পিছিয়ে থাকবো না। আমরা এগিয়ে যাবো। বিশ্বে যেনো আমাদের আবস্থান আরো সুদৃঢ় হয়, আত্মমর্যাদাশীল হয়- সেভাবে আমরা আমাদের দেশকে গড়বো।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরাই এই দেশকে গড়ে তুলবো। স্বাধীনতার ৪৫ বছর আজ। আমরা আর পিছিয়ে থাকবো না। আমরা এগিয়ে যাবো। আমরা ২০৪১ সালে উন্নত দেশ হবো। তাই আজকে যারা শিশু তোমরাও তোমাদের সেভাবে গড়ে তুলবে। চলুন সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশটাকে গড়ে তুলি,’ দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। পাকহানাদার বাহিনীর বর্বরতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বাঙালি জাতি সব সময় শোষণ বঞ্চনার শিকার হতাম। আমাদের দেশে ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করতে পারতো না। স্কুল ছিলো না। কলেজ ছিলো না। উচ্চশিক্ষা নিতে পারতো না। রোগে চিকিৎসা পেতো না। দু’বেলা পেট ভরে খেতে পারতো না। পরনে জারাজীর্ণ কাপড়। বাসস্থান নেই, কুড়ে ঘর। বা, রাস্তায় ঠাঁই পেতে হতো। তিনি বলেন, এই দূর্দশার মধ্যে দিয়ে দেশের মানুষ জীবনযাপন করতো। কষ্টের মধ্যে দিয়ে জীবন চালাতো। আর, যারা শাসক গোষ্ঠি ছিলো, এদেরকে শোষন করতো। আমাদের অর্থ সম্পদ লুট করে নেওয়া হতো।
বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বঙ্গবন্ধুর অবদানের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনাতর সংগ্রাম। জয় বাংলা’ এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সমগ্র বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে গেরিলা যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২৬শে মার্চ প্রথম প্রহরে জাতির পিতা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। আর, স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষণার পরপরই তাকে গ্রেফতার করা হয়। বাংলাদেশের মানুষকে তিনি আগেই প্রস্তুত করে রেখেছিলেন। তার আহবানে বাংলার মানুষ অস্ত্র তুলে নেয়। যুদ্ধ করে, দেশ স্বাধীন করে। ১৬ই ডিসেম্বর দেশ শত্রু মুক্ত হয়। সকাল ৭ টা ৫৭ মিনিটে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে আসেন প্রধানমন্ত্রী। এসেই তিনি ‘টাইগার ক্যারাভ্যান’ পরিদর্শন করেন। এরপর মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তেলন করেন। এ সময় প্যারেড কমান্ডার ইসরাত জাহান মিলির নেতৃত্বে সালাম ও জাতীয় পতাকার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয়।




