শুক্রবার, অক্টোবর ২৩, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়দেশের ২৩৪ পৌরসভায় আজ একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু

দেশের ২৩৪ পৌরসভায় আজ একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু

দেশের ২৩৪ পৌরসভায় আজ একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। সকাল ৮টা থেকে কোন বিরতি ছাড়া বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ। তবে কোনো কোনো পৌরসভায় ভোট গ্রহণের আগে থেকেই সহিংসতা শুরু হয়েছে। সকাল ৯টায় বরগুনার গগন স্কুল কেন্দ্রে ভোটারদের সঙ্গে যৌথবাহিনীর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। এ সময় ওসি ও সাংবাদিকসহ  ১০জন আহত হয়েছেন। কেন্দ্র দখল ও অনিয়মের অভিযোগে নড়াইলের কালিয়ায় নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী। রাতে ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের ঘটনায় মাদারীপুরের কালকিনি পৌরসভায় ২টি ও কুমিল্লার বড়ুরার এক কেন্দ্র স্থগিত করা হয়েছে।এছাড়া ভোট শুরুর পর চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে ২টি, জামালপুর সদরে ১টি ও সরিষাবাড়িতে ১টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। আধিপত্য বিস্তার ও জালভোটের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোর প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা ভোটগ্রহণ স্থগিত করেন। ভোট শুরু এক ঘন্টা পরই কেন্দ্র দখল নিয়ে মুন্সিগঞ্জের যৌঘিনিঘাট কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ ও স্ততন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি জানান, সকাল ৯টার দিকে  স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল ইসলাম সংগ্রাম ভোট কেন্দ্র যাওয়ার পর তার ওপর আওয়ামী লীগ সমর্থকরা হামলা চালায়। এসময়  রেজাউল ইসলাম সংগ্রামের ৫ সমর্থক আহত হয়। সীতাকুণ্ডে বিএনপি প্রার্থীর ওপর হামলা করেছে প্রতিপক্ষ। এছাড়া পিরোজপুরের স্বরূপকাঠিতে বিএনপির এজেন্টকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। কালকিনি পৌরসভার দুটি কেন্দ্রে অগ্রিম সিল মারার কারণে নৌকা প্রতীকের ১১’শ ৩ টি ব্যালট জব্দ করা হয়েছে। একইসঙ্গে ওই ভোট কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। এদিকে সকাল সাড়ে ৯টায় বিএনপির নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে দলটির যুগ্ম মহাসচিব রুহল কবির রিজভি বিভিন্ন পৌরসভায় রাতেই নৌকা প্রতিকে সিল দেয়া এবং বেশ কয়েকটি কেন্দ্র থেকে বিএনপি এজেন্টদের বের করে দেয়া অভিযোগ করেন।এছাড় অনেক কেন্দ্রে বিএনপির এজেন্টদের কেন্দ্রে ঢুকতে বাধা দেয়া হয়েছে। এবারই প্রথম দলীয় প্রতীকে পৌরসভার মেয়র পদে নির্বাচন হচ্ছে। এ সুযোগে দীর্ঘ ৭ বছর পর নৌকা ও ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মাঠে নেমেছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীরা। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই প্রতীকের সর্বশেষ লড়াই হয়েছিল। মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হলেও কাউন্সিলররা নির্দলীয়ভাবেই নির্বাচন করছেন। ৯ ডিসেম্বর সকাল থেকে প্রচার শুরু হয়েছিল। শেষ হয় ২৮ ডিসেম্বর মধ্য রাতে। আজ সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়েছে ভোট। চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। ৩ হাজার ৫৫৫ কেন্দ্রে ভোট হবে। ৭০ লাখ ৯৯ হাজার ১৪৪ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে নারী ভোটার ৩৫ লাখ ৪৬ হাজার ৮৬০। ভোট শেষে ফল পরিবেশনে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে ইসি। এ লক্ষ্যে একটি পরিপত্র জারি হয়েছে। এতে প্রতি ২ ঘন্টা পরপর ইসিতে ফলাফলের হাল নাগাদ তথ্য দিতে বলা হয়েছে। ভোটগ্রহণের যাবতীয় প্রস্তুতি শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবার সব কেন্দ্রে নির্বাচনী মালামাল পৌঁছে গেছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ইসিকে জানিয়েছেন। এদিকে নিরাপত্তা ঝুঁকি ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশ বিবেচনায় লক্ষাধিক আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ভোট কেন্দ্রগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ ও সাধারণ দু’ভাগে ভাগ করা হয়েছে। উভয় ধরনের কেন্দ্রেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। নির্বাচনী এলাকায় মোবাইল টিম, স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাবসহ অন্যান্য বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সোমবার সকাল থেকেই টহল দিচ্ছেন মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্সের সদস্যরা। এছাড়া ১ হাজার ২০৪ জন নির্বাহী ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে আছেন। তারা আইন ও বিধি লংঘনকারীদের সংক্ষিপ্ত বিচারের মাধ্যমে সাজা দেবেন। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ ১৯টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। কাউন্সিলর পদে নির্বাচন হচ্ছে নির্দলীয়ভাবে। ২৩৪টি মেয়র, ৭৩১টি সংরক্ষিত কাউন্সিলর ও ২ হাজার ১৯৩টি সাধারণ কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১২ হাজার ১৭১ প্রার্থী। এদের মধ্যে মেয়র পদে ৯৪৫, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৮৭৪৬ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর (নারী) পদে ২৪৮০ জন। ক্ষমতাসীন দলের বিদ্রোহী প্রার্থী ৯৮ জন। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আছেন ৩৮ জন। ইতিমধ্যে মাদারগঞ্জ, পিরোজপুর, টুঙ্গীপাড়া, ফেনী, পরশুরাম, চাটখিল ও ছেংগারচর পৌরসভায় ৭ জন মেয়র বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। ৯৪ জন সাধারণ কাউন্সিলর ও ৪০ জন সংরক্ষিত কাউন্সিলরসহ ১৪১ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন। নির্বাচনের নিরাপত্তায় ১ লাখ ১৭ হাজার ৩০৪ জন সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। এর মধ্যে পুলিশ ৪৫ হাজার, বিজিবি ৯ হাজার ৪১৫, র‌্যাব ৮ হাজার ৪২৪, কোস্টগার্ড ২২৫, অঙ্গীভূত আনসার ৪৯ হাজার ৭২৮ এবং ব্যাটালিয়ন আনসার ৪ হাজার ৫১২ জন। ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিটি কেন্দ্রে ৮ অস্ত্রধারীসহ আইনশৃংখলা বাহিনীর ২০ জন সদস্য মোতায়েন থাকবে। আর সাধারণ কেন্দ্রে ৭ অস্ত্রধারীসহ ১৯ জন সদস্য থাকবেন। প্রতিটি পৌরসভায় সোমবার সকাল থেকে পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির মোবাইল টিম টহল শুরু করেছে। নির্বাচনে দুই হাজারের বেশি সন্ত্রাসী সক্রিয় বলে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে সর্বশেষ ২০১১ সালে চার ধাপে পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তখন দলীয় প্রতীকে নির্বাচন না হলেও দলগুলো সরাসরি প্রার্থীদের সমর্থন দিয়েছিল। ওই বছর ১২ থেকে ১৯ জানুয়ারি চার ধাপে ২৪২ পৌরসভায় ভোট হয়। এর মধ্যে তাৎক্ষণিক ফলাফল ঘোষিত ২৩৬টি পৌরসভা। এতে বিদ্রোহীসহ ১০৯টি আওয়ামী লীগ ও ১০৩টিতে বিদ্রোহীসহ বিএনপি প্রার্থীরা জয় পান। এছাড়া জামায়াত ৫টি, জাতীয় পার্টির ২টি, এলডিপির একটি ও ১৬টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী মেয়র নির্বাচিত হন। ভোটার ও ভোটকেন্দ্র : ইসি জানায়, পৌর নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৭০ লাখ ৯৯ হাজার ১৪৪ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ৩৫ লাখ ৫২ হাজার ২৮৪ জন ও মহিলা ৩৫ লাখ ৪৬ হাজার ৮৬০ জন। ৩ হাজার ৫৫৫টি ভোট কেন্দ্রে একযোগে ভোট হবে। এসব ভোট কেন্দ্রে বুথের সংখ্যা ২১ হাজার ৭১টি। নির্বাচনে ৬৬ হাজার ৭৬৮ জন ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ চূড়ান্ত করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। এদের মধ্যে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ৩ হাজার ৫৫৫ জন ও সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ২১ হাজার ৭১ জন, পোলিং কর্মকর্তা ৪২ হাজার ১৪২ জন।
  • বিষয়:
  • top
আরও পড়ুন

সর্বশেষ