কলংকমুক্ত চট্টগ্রামে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় এবং বর্ণাঢ্য বিজয় র্যালি করেছে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিষদ। র্যালিতে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ, শিশু-কিশোরের পাশাপাশি অংশ নিয়েছে ১৪টি সরকারি বাহিনী ও সংস্থার সদস্যরা অংশ নিয়েছেন। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা, বিজয় মেলা পরিষদের গঠন করা বিভিন্ন স্কোয়াড, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও এতে অংশ নেন। ঢোলবাদ্য, ব্যান্ড বাজিয়ে, দেশাত্মবোধক গান গেয়ে হাজার হাজার নারী-পুরুষের অংশগ্রহণ র্যালিকে ভিন্নমাত্রা এনে দেয়। গায়ে কাদা লেপ্টে একদল নকল মেশিনগানের মাথায় পতাকা লাগিয়ে এসেছিল র্যালিতে। এসময় মুক্তিযুুদ্ধের অবিস্মরণীয় ‘জয় বাংলা’ শ্লোগান মুর্হুমুহু ধ্বনিত হতে থাকে র্যালিতে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে। সাবেক মেয়র ও মুক্তিযুদ্ধের বিজয়মেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী র্যালিতে নেতৃত্ব দেন। সঞ্চালনা করেন র্যালি উপ-পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী।
নগরীর এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের মূল ফটকের সামনে প্রজ্জ্বলিত বিজয় শিখা চিরন্তনের নিচে অস্থায়ী মঞ্চে ১৬ ডিসেম্বর সকাল ১০টায় র্যালির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী, নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন, বিজয়মেলা পরিষদের কো-চেয়ারম্যান বদিউল আলম, মহাসচিব মোহাম্মদ ইউনূস, সিএমপি কমিশনার মোহা.আব্দুল জলিল মন্ডল।
র্যালির উদ্বোধন করে মহিউদ্দিন বলেন, সন্ত্রাসী-জঙ্গিরা মাথা তোলার চেষ্টা করছে। তাদের সাবধান করে দিতে চাই। সতর্ক হয়ে যান। আমরা ছাত্র, শ্রমিক, যুব, শিশু-কিশোর, নারী, মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে স্কোয়াড করেছি। স্কোয়াড সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে মাঠে থাকবে। আমরা জঙ্গিবাদ খতম করার জন্য মাঠে নেমেছি। যারা সন্ত্রাস করবে, জঙ্গিবাদি কার্যক্রম চালাবে তাদের জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করা হবে।
এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর বক্তব্যের পর শুরু হয় র্যালি। দু’টি ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে বর্ণিল সাজে কয়েকজন শিশু ছিল র্যালির অগ্রভাগে। ছাত্রছাত্রীরা নেন বিশাল জাতীয় পতাকা। এরপর ব্যান্ড বাজিয়ে নগর পুলিশের একটি চৌকস ব্যান্ডদল র্যালিকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যান। নগর পুলিশের পেছনে ছিল সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি। জেলা পুলিশ, শিল্প পুলিশ, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী, আনসার-ভিডিডি, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের কারারক্ষীরা, ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর, মেরিন ফিশারিজ একাডেমির ক্যাডেট ও অফিসারবৃন্দ, যুব রেড ক্রিসেন্ট, ফায়ার সার্ভিসের অগ্নি নির্বাপক দল, মেরিটাইম ইনস্টিটিউট, বিএনসিসি’র পতাকাবাহী দল, রেডক্রিসেন্টের সদস্যরা র্যালিতে অংশ নেয়। বাংলাদেশ রেলওয়ে, ওয়াসা, বিটিসিএল, পিডিবি’র কর্মকর্তা-কর্মচারিরা পৃথক ট্রাকে করে র্যালিতে অংশ নেয়। আনসার বাহিনীর আলাদা একটি বাদক দলও এতে অংশ নেয়।
সরকারি বাহিনী ও সংস্থার পেছনে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিষদের মূল ব্যানার নিয়ে সংগঠকরা এগিয়ে যান। এর পেছনে ট্রাকে ট্রাকে ছিলেন বিভিন্ন স্কোয়াডের সদস্যরা। আওয়ামী লীগ, জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, ন্যাপসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন, যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও কেউ পায়ে হেঁটে কেউ ট্রাকে করে অংশ নেন। ট্রাকে চড়ে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীরা শ্লোগান ও দেশাত্মবোধক গান গেয়ে ছিলেন র্যালিতে। বিভিন্ন ট্রাকে সাউন্ড সিস্টেম বসিয়ে বাজানো হচ্ছিল দেশাত্মবোধক গান আর বঙ্গবন্ধুর অগ্নিঝরা সাতই মার্চের ভাষণ। র্যালিটি এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের সামনে থেকে শুরু হয়ে কাজির দেউড়ি, জামালখান, চেরাগি পাহাড়, আন্দরকিল্লা, নিউমার্কেট হয়ে আবারও স্টেডিয়ামে এসে শেষ হয়।




