অপশক্তি আর জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ডাক দিয়ে চট্টগ্রামে প্রজ্বলন করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের বিজয়শিখা। মুক্তিযোদ্ধা ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী বিজয়শিখা প্রজ্বলন করে তরুণ প্রজন্মের এক প্রতিনিধির হাতে তুলে দেন। এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের মূল ফটকের সামনে বিজয়শিখা প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হয়েছে গৌরবোজ্জ্বল মুক্তিযুদ্ধের বিজয়মেলা। তবে এর আগে ১ ডিসেম্বর থেকে বিজয়মেলার পণ্যমেলা শুরু হয়েছে। ১০ ডিসেম্বর বিজয়ের আলোচনা সভা ও স্মৃতিচারণের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হল।
বিজয়মেলার উদ্বোধনী মঞ্চে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী নূরুল ইসলাম বিএসসি, চট্টগ্রামের মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন, নগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন, কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড.মোহিত উল আলম, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের জেলা ইউনিটের কমান্ডার সাহাবউদ্দিনসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার নাগরিকরা।
তবে বিজয়শিখা প্রজ্বলনের আগে বক্তব্য দেন শুধু এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। তিনি বলেন, একাত্তর সালে আমরা রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছি। স্বাধীন দেশে আমরা বিজয় উদযাপন করছি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখতেন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে সার্থক করতে নতুন প্রজন্মের সবাইকে একেকজন সোনার মানুষ হতে হবে। ‘জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। আমাদের অপশক্তি জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। নতুন প্রজন্মকে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামতে হবে। ’ বলেন মহিউদ্দিন। এরপর বেলনু উড়ানো হয়। বিজয়শিখা প্রজ্বলন করে মহিউদ্দিন সেটা তুলে দেন তরুণ প্রজন্মের এক প্রতিনিধির হাতে। এসময় আনসার-ভিডিপি সদস্যদের ব্যান্ডের তালে আর জয় বাংলা শ্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে উঠে।
মুক্তিযোদ্ধা ও বিজয়মেলা পরিষদের মহাসচিব মো.ইউনূস ‘মুক্তিযুদ্ধের হাতিয়ার গর্জে উঠুক আরেকবার’ ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ শ্লোগান দেন। অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত ছাত্র, যুবক, শ্রমিক, নারীসহ সবাই একসাথে জয় বাংলা শ্লোগান দিলে পুরো এলাকাজুড়ে ভিন্ন আবহের সৃষ্টি হয়। বিজয়শিখা প্রজ্বলনের পর বিজয় মঞ্চে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে উদ্বোধন করা হয় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। এসময় মন্ত্রী নূরুল ইসলাম বিএসসি ও মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন জাতীয় পতাকা এবং মহিউদ্দিন বিজয়মেলার পতাকা উত্তোলন করেন।
এসময় অন্যান্যের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা অমল মিত্র, মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিষদের কো-চেয়ারম্যান বদিউল আলম, বিজয়মেলার র্যালি উপ কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, নগর যুবলীগের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু ও যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদ মাহমুদ, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আরশেদুল আলম বাচ্চু ও হাবিবুর রহমান তারেক, বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদের মহানগর শাখার সভাপতি শেখ মহিউদ্দিন বাবু, নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু ও সাধারণ সম্পাদক নূরুল আজম রণিসহ পরিষদের সংগঠকরা উপস্থিত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা এবার ২৭ বছরে পা দিয়েছে। বরাবরের চেয়ে ভিন্ন আঙ্গিকে এবার সাজানা হয়েছে মেলা। বিজয় মেলা উপলক্ষে সাতটি স্কোয়াড গঠন করা হয়েছে। চট্টগ্রামকে সবুজ নগরী বানাতে নতুন প্রজন্মেকে দেড় লাখ গাছের চারা দেয়ার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। পথশিশুদের দেয়া হচ্ছে অক্ষর জ্ঞান।




