শুক্রবার, আগস্ট ১৪, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়ফাঁসি কার্যকরের জন্য সাতদিন নয়, আরও আগেই সম্ভব

ফাঁসি কার্যকরের জন্য সাতদিন নয়, আরও আগেই সম্ভব

দেশের দুই শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের সাকা চৌধুরীর ফাঁসি কার্যকরের জন্য সাতদিন নয়, আরও আগেই সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি জানিয়েছেন, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেই যতো দ্রুত পারা যায় এ রায় দু’টি কার্যকর করার চেষ্টা করবে সরকার। বুধবার রাতে রাজধানীর গুলশানে তার নিজ বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। মানবতাবিরোধী অপরাধের ক্ষেত্রে বিশ্বের কোথাও এমন স্বচ্ছতা রেখে বিচার কার্য সম্পাদন করা হয়নি বলেও মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী।

সকালে একাত্তরে বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে মুজাহিদ এবং অধ্যক্ষ নূতন চন্দ্র সিংহকে হত্যাসহ চার হত্যা-গণহত্যার দায়ে সাকা চৌধুরীর ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে মৃত্যুদণ্ডের চূড়ান্ত রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে তাদের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত। এর মধ্য দিয়ে সাকা-মুজাহিদের মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার বিচারিক কার্যক্রম ও আইনি লড়াই শেষ হয়ে গেছে। ফাঁসির দড়ি এড়াতে সর্বশেষ সুযোগ হিসেবে এখন কেবলমাত্র রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইতে পারবেন তারা। প্রাণভিক্ষা না চাইলে বা চাওয়ার পর আবেদন নাকচ হলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে আর কোনো আইনি বাধা থাকবে না। আইন অনুসারে তখন সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যেকোনো সময় মুজাহিদের ফাঁসির রায় কার্যকর করবে কারা কর্তৃপক্ষ। দণ্ডবিধি আইন ও জেলকোড অনুসারে সাধারণত রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইতে সাতদিনের সময় পান মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা। এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, সাতদিনের আগেই ফাঁসি সম্ভব। আর এর মধ্যেই যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

আইনের ব্যাখ্যা দিয়ে আনিসুল হক বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন অনুযায়ী জেলকোড ফলো করতে হবে না। কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকরের সময়ও এ বিষয়টি ফলো করা হয়নি। যদিও জেলকোডের ৯৯১ রুল অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইতে সাতদিন সময় থাকে, কিন্তু এক্ষেত্রে জেলকোড ফলো করা হবে না। ‘জেলকোডের ৯১১ রুলে বলা আছে, হাইকোর্টের রায় হওয়ার পরে সাতদিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমার আবেদন করার জন্য আসামিকে বলা হবে। আবার পাশাপাশি এটাও বলা আছে, যেটা কাদের মোল্লার রায়ে বলা আছে, জেলকোড উইল নট অ্যাপ্লাই ইন দিস কেসেস’- বলেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, কিন্তু তাকে মার্সি পিটিশনের জন্য একটা সময় দিতে হবে। সেটা আরও পরিষ্কার করে তিনি বলেন,  এখানে সাতদিন অপেক্ষা করতে হবে এরকম কোনো নিয়ম নেই। আমি যতোটুকু আইন বুঝেছি, মার্সি পিটিশনের জন্য রিভিউ পিটিশনের রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপির প্রয়োজন নেই। আসামিরা যদি বলেন, আমরা মার্সি পিটিশন করবো না যতোক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি পাবো- সেটা আইনের ধোপে ঠিকবো না-বলেন মন্ত্রী।

আইনমন্ত্রীর মতে, মুজাহিদ-সাকা চৌধুরীর ক্ষমা চাওয়ার জন্য সাতদিনের প্রয়োজন নেই। এতো সময় লাগার কথাও না। আর এর মধ্যেই সরকার সব ব্যবস্থা করে রাখবে বলেও জানান তিনি। আইনমন্ত্রী বলেন, এখন একটাই ব্যাপারে শুধু আশ্বস্ত হতে হবে যে, রিভিউয়ের পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি প্রয়োজন না রিভউয়ের আদেশের অংশটা প্রয়োজন। আর তারা যদি ক্ষমার আবেদন করেন তাহলে রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তের অপেক্ষার সময়টুকুই প্রয়োজন। বিষয়টি পরিষ্কার হতে রাতেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজি প্রিজনের সঙ্গে কথা বলবেন বলেও জানান তিনি। ব্রিফিংয়ের শুরুতে অবশ্য এ বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, গতবার যখন কামারুজ্জামানের রায় কার্যকর করা হয় তখন রিভিউ আবেদনের পূর্ণাঙ্গ কপি জেল কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিলো। এক্ষেত্রে সেটা অনুসরণ করা হবে কি না সে ব্যাপারেও আলোচনা করা হবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ