সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস জঙ্গিবাদ বিশ্বশান্তি ও উন্নয়নের পথে প্রধান অন্তরায়। আর জলবায়ু পরিবর্তন মারাত্মক উন্নয়ন হুমকি হিসেবে আবির্ভূত। এ দু’টি চ্যালেঞ্জ কার্যকরভাবে মোকাবেলা করে নিরাপদ, সবুজ ও সমৃদ্ধ বিশ্ব গড়ার ডাক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদফতরে সংস্থার সাধারণ পরিষদের ৭০তম অধিবেশনে ভাষণ দিচ্ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে, ঢাকার সময় রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে ভাষণ শুরু করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বে মানব সভ্যতার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে আমরা সবচেয়ে বড় দু’টি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছি। প্রথমটি হচ্ছে সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস জঙ্গিবাদ। বিশ্বশান্তি ও উন্নয়নের পথে এটি প্রধান অন্তরায়। সন্ত্রাসীদের কোনো ধর্ম নেই। সন্ত্রাসবাদ এবং জঙ্গিবাদ একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সকল রাষ্ট্রকে একযোগে কাজ করতে হবে। আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে মারাত্মক উন্নয়ন হুমকি হিসেবে আবির্ভূত জলবায়ু পরিবর্তন। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চ্যালেঞ্জ কার্যকরভাবে মোকাবেলা করা সম্ভব না হলে, আমাদের উন্নয়ন প্রচেষ্টা এগিয়ে নেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব হবে না। এ বিশ্বকে নিরাপদ, আরও সবুজ এবং আরও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে আমাদের অবশ্যই সফলকাম হতে হবে। ‘শুধু জাতিসংঘ নয়, সামগ্রিক অর্থে সারাবিশ্বের জন্য এ বছরটি আমূল পরিবর্তনের’-কথাটি দিয়ে বক্তব্য শুরু করে শেখ হাসিনা বলেন, টেকসই উন্নয়নের জন্য এই বছরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জাতিসংঘের গৌরবান্বিত ইতিহাস তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের নিয়তি একইসূত্রে গাঁথা’- আমাদের পূর্বসূরীদের এই বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে যে বিশ্বসংস্থার গোড়াপত্তন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা এবং উন্নয়ন ও মানবাধিকারের অগ্রগতির জন্য জাতিসংঘ গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়ে আসছে। সত্তর বছর ধরে জাতিসংঘ মানব সম্প্রদায়ের জন্য আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে আছে। তিনি স্মরণ করেন আদ্দিস আবাবায় অনুষ্ঠিত উন্নয়নের জন্য অর্থায়ন শীর্ষক শীর্ষ-সম্মেলন এবং নিউইয়র্কে সদ্যসমাপ্ত ২০১৫-পরবর্তী উন্নয়ন শীর্ষ সম্মেলনের কথা। বলেন, গোটা বিশ্বের জনগণের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে নতুন আশার সঞ্চার করেছে এই উদ্যোগ। আর ভবিষ্যতের আশাবাদ করতেও ভোলেননি প্রধানমন্ত্রী। বলেন, এ বছরের শেষে প্যারিসে আমরা একটি অর্থবহ জলবায়ু চুক্তিতে উপনীত হওয়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছি। আমরা আশা করছি দারিদ্র্য নিরসন, জলবায়ু পরিবর্তন সীমিত রাখা এবং ধরিত্রীকে সুরক্ষার মাধ্যমে আমাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যত নিশ্চিত হবে।




