বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়জনকণ্ঠের বিরুদ্ধে রুলের রায় ১৩ আগস্ট

জনকণ্ঠের বিরুদ্ধে রুলের রায় ১৩ আগস্ট

বিচার বিভাগ নিয়ে ‘কুৎসা রটনামূলক’ কলাম প্রকাশের মাধ্যমে আদালত অবমাননার অভিযোগে দৈনিক জনকণ্ঠের বিরুদ্ধে জারি করা রুলের শুনানি শেষ হয়েছে। আগামী ১৩ আগস্ট রায়ের দিন ধার্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে ছয় সদস্যের বৃহত্তর (লার্জার) আপিল বেঞ্চ সোমবার রায়ের এ দিন ধার্য করেন।

আদালতের তলবে রুলের জবাব দিতে হাজির ছিলেন পত্রিকাটির সম্পাদক-প্রকাশক  ও মুদ্রাকর মোহাম্মদ আতিকউল্লাহ খান মাসুদ (এম এ খান মাসুদ) এবং নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায়। আদালতের আদেশে জনকণ্ঠের পক্ষের আইনজীবী সালাহ উদ্দিন দোলন ও অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড শিরিন আফরোজ ওই কলামের বিষয়ে সব ধরনের তথ্য-উপাত্ত এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সালাউদ্দিন কাদের সাকা চৌধুরী সম্পর্কে জনকণ্ঠে প্রকাশিত সকল প্রতিবেদনের কপি দাখিল করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিনি আদালতের আদেশে জনকণ্ঠের বিরুদ্ধে রুল জারির পর থেকে গণমাধ্যমে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনের কপি দাখিল করেন।

রায়ের দিন ধার্যের পর জনকণ্ঠের আইনজীবী সালাহউদ্দিন দোলন সাংবাদিকদের বলেন, সত্যের ওপর ভিত্তি করে লেখা রিপোর্ট আদালত অবমাননা নয়। জনকণ্ঠ আদালত অবমাননা করেনি। তাই আদালত অবমাননার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চাওয়া হয়েছে। এছাড়া আদালতে জনকণ্ঠের কলামের সপক্ষে তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করা হয়েছে।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে প্রধান বিচারপতিকে বিদেশে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছিল কি না- তা জানতে চেয়েছিলেন আপিল বিভাগ। আমি প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে জেনেছি, প্রধান বিচারপতিকে বিদেশ যেতে কখনো বাধা দেওয়া হয়নি। তিনি আরো বলেন, জনকণ্ঠের কলামে আদালত অবমাননা হয়েছে। এজন্য তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন তিনি। গত ১৬ জুলাই ‘সাকার পরিবারের তৎপরতা।। পালাবার পথ কমে গেছে’ শিরোনামে একটি কলাম প্রকাশ করে দৈনিক জনকণ্ঠ। এর লেখক নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায়।

জনকণ্ঠের ওই কলামের একটি স্থানে বলা হয়েছে, ‘পিতা মুজিব! তোমার কন্যাকে এখানেও ক্রশে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। তাই যদি না হয়, তাহলে কিভাবে যারা বিচার করছেন সেই বিচারকদের একজনের সঙ্গে গিয়ে দেখা করে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবারের লোকেরা? তারা কোন পথে বিচারকের কাছে ঢোকে, আইএসআই ও উলফা পথে না অন্য পথে? ভিকটিমের পরিবারের লোকদেরকে কি কখনও কোন বিচারপতি সাক্ষাৎ দেয়। বিচারকের এথিকসে পড়ে! কেন শেখ হাসিনার সরকারকে কোন কোন বিচারপতির এ মুহূর্তের বিদেশ সফর ঠেকাতে ব্যস্ত হতে হয়। যে সফরের উদ্যোক্তা জামায়াত-বিএনপির অর্গানাইজেশান। কেন বিতর্কিত ব্যবসায়ী আগে গিয়ে সেখানে অবস্থান নেয়। কী ঘটতে যাচ্ছে সেখানে। ক্যামেরনই পরোক্ষভাবে বলছেন সকল সন্ত্রাসীর একটি অভয়ারণ্য হয়েছে লন্ডন’।

কলামের এসব বক্তব্যে আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে ওই দু’জনের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তা জানতে চেয়ে গত ২৯ জুলাই সুয়োমোটো রুল জারি করেন আপিল বিভাগ। ৩ আগস্ট হাজির হয়ে এ রুলের জবাব দাখিলের জন্য তাদেরকে তলব করা হয়। ৩ আগস্ট তারা হাজির হয়ে জবাবের জন্য প্রথমে তিন মাস এবং পরে দুই সপ্তাহ সময় চাইলে তা নামঞ্জুর করে ৯ আগস্ট জবাব দেওয়ার আদেশ দেন আদালত। রোববার এ রুলের শুনানি আপিল বিভাগের ছয় সদস্যের বৃহত্তর বেঞ্চে সোমবার অনুষ্ঠিত হবে বলে আদেশ দেন প্রধান বিচারপতি।

  • বিষয়:
  • top
আরও পড়ুন

সর্বশেষ