রবিবার, আগস্ট ১৬, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়তীব্র সমালোচনার মধ্যেই পাস হলো ২০১৪-১৫ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট

তীব্র সমালোচনার মধ্যেই পাস হলো ২০১৪-১৫ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট

সরকারি দল এবং বিরোধী দলের কয়েকজন সদস্যের তীব্র সমালোচনার মধ্যেই পাস হলো ২০১৪-১৫ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট। বিলটি পাসের জন্য অর্থমন্ত্রীর পক্ষে সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন অর্থপ্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান। পাসকৃত বাজেটের আকার ছিলো ৯ হাজার ৫০৮ কোটি ৫৭ লাখ ১২ হাজার টাকা। বাজেটে ২৭টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে এবার সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে পরিকল্পনা বিভাগে। এ বিভাগে বরাদ্দ ১ হাজার ৮১৯ কোটি ৯৬ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। এরপরেই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ছিলো ১ হাজার ৫৩৭ কোটি ২৪ লাখ ১৯ হাজার টাকা। ১ হাজার ৪২৩ কোটি ৬৯ লাখ ২৩ হাজার টাকা নিয়ে বাজেট বরাদ্দে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বিজ্ঞান প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।

পাসকৃত সম্পূরক বাজেটে মন্ত্রণালয় ও বিভাগসহ ২২টি মঞ্জুরি দাবির ওপর ১৭০টি ছাঁটাই প্রস্তাব দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৬টি মঞ্জ‍ুরি দাবির ওপর আলোচনা হয়। আনিত ছাঁটাই প্রস্তাবেও ৮ জন সদস্য তাদের যুক্তি তুলে ধরার চেষ্টা করেন, যদিও তাদের কোনো দাবিই ভোটে টেকেনি। পরে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সম্পূরক বাজেট পাসের জন্য ভোটে দেন। এরপর সরকারি দল ও বিরোধী দলের সবার উপস্থিতিতে সর্বসম্মতিক্রমে সম্পূরক বাজেট (২০১৪-১৫) পাস হয়।

বাজেট পাসের আগে সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সম্পূরক বাজেটের কঠোর সমালোচনা করেন সদস্যরা। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ, মো. সেলিম উদ্দিন। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, টাকা খরচ করে এখন এসেছেন বাজেট পাস করে নিতে। একই কথা বলেন অন্য দুই সদস্যও। পাসকৃত সম্পূরক বাজেটে খরচের দিক দিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১ হাজার ৩৭২ কোটি ৯৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। পঞ্চম স্থানে রয়েছে প্রতিরক্ষা ১ হাজার ২৭১ কোটি ১৭ লাখ ৫৫ হাজার টাকা।  বাজেট পাসের সময় সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদসহ অধিকাংশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

সম্পূরক বাজেটে সমালোচনাকারীদের জবাব দিতে গিয়ে অর্থপ্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, একজন সম্মানিত সদস্য বলেছেন টাকা খরচ করে এনে পাস করার জন্য ভোট চাইছেন। তিনি (সুরঞ্জিত) বলেছেন এটা বে-আইনি। এটা বেআইনি নয়, সংবিধানে রাষ্ট্রপতিকে এই ক্ষমতা দেওয়া আছে। তিনি বাজেট বরাদ্দ বাড়াতে বা কমাতে পারেন। আরও বলা হয়েছে কোন মন্ত্রণালয় কত খরচ করেছে কারা খরচ করতে পারেনি উল্লেখ করা হয়নি। কথাটি ঠিক। তবে এই বাজেট বিবরণীতে না থাকলেও অন্য একটি বড় বই আছে যেখানে বিস্তারিত আছে। তারপরেও কোন সদস্য প্রশ্ন করলে আমরা উত্তর দিতে প্রস্তুত আছি। আমরা স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চাই।

পাসকৃত সম্পূরক বাজেটে সুপ্রিম কোর্ট ১০ কোটি ৮০ লাখ ৫৫ হাজার টাকা, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ৭৮ কোটি ২৪ লাখ ৫৪ হাজার টাকা, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ ৮৭ কোটি ২১ লাখ ৮৯ হাজার টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ১ হাজার ৪২ কোটি ৮৩ লাখ ৩১ হাজার টাকা, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ৮৭ কোটি ৫৯ লাখ ৩ হাজার টাকা, বাণিজ্য মন্ত্রণায় ৩৫ কোটি ৩৯ লাখ ২৮ হাজার টাকা, রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ২২ লাখ ৯৩ হাজার টাকা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ৪৬ কোটি ৮৪ লাখ ৪৮ হাজার টাকা, সরকারি কর্ম কমিশন ৮ হাজার ১২৬ টাকা এবং দুর্নীতি দমন কমিশন ৫ কোটি ৯২ লাখ ৩০ হাজার টাকা মঞ্জুরি বরাদ্দ পেয়েছে।

  • বিষয়:
  • top
আরও পড়ুন

সর্বশেষ