শনিবার, অক্টোবর ২৪, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়মুজাহিদের আপিল মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন ২৪ মে

মুজাহিদের আপিল মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন ২৪ মে

মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের আপিল মামলায় আসামিপক্ষের পেপারবুক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। এরপর যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপন শুরু করেছেন রাষ্ট্রপক্ষ। আগামী ২৪ মে পর্যন্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন মুলতবি করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চে এ শুনানি চলছে। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন- বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। সোমবার  পেপারবুক শেষ করেন মুজাহিদের আইনজীবী এস এম শাহজাহান। গত ২৯ এপ্রিল শুরু করে তিনি ছয় কার্যদিবসে ট্রাইব্যুনালের রায় ও রায় সংক্রান্ত নথিপত্র পাঠ শেষ করলেন। এরপর যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য সময়ের আবেদন জানান তিনি।

এ সময় রাষ্ট্রপক্ষকে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের আদেশ দেন আপিল বিভাগ। এরপর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিনি মুজাহিদের বিরুদ্ধে ১ ও ৩ নম্বর অভিযোগের বিষয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেছেন। আগামী ২৪ মে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবেন আসামিপক্ষ। তাদের শেষ হলে ফের শুরু হবে রাষ্ট্রপক্ষের অসমাপ্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন। ২০১৩ সালের ১৭ জুলাই মুজাহিদকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। পরে একই বছরের ১১ আগস্ট খালাস চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন মুজাহিদ। তবে সর্বোচ্চ সাজা হওয়ায় আপিল করেননি রাষ্ট্রপক্ষ। ট্রাইব্যুনালের পুরো রায়ের বিরুদ্ধে ১১৫টি যুক্তি নিয়ে আপিল করেন মুজাহিদ। ট্রাইব্যুনাল যেসব কারণে সাজা দিয়েছেন, তার আইনগত ও ঘটনাগত ভিত্তি নেই বলেও দাবি করেন তিনি। মূল আপিল ৯৫ পৃষ্ঠার, এর সঙ্গে ৩ হাজার ৮০০ পৃষ্ঠার ডকুমেন্ট দাখিল করা হয়েছে।

মুজাহিদের বিরুদ্ধে আনা ৭টি অভিযোগের মধ্যে ৫টি প্রমাণিত হয়েছে এবং ২টি প্রসিকিউশন প্রমাণ করতে পারেননি বলে বলে ট্রাইব্যুনালের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১, ৩, ৫, ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এবং ২ ও ৪ নম্বর অভিযোগ প্রসিকিউশন প্রমাণ করতে পারেননি। প্রমাণিত ১ নম্বর অভিযোগকে ৬ এর সঙ্গে সংযুক্ত করে এ দু’টি অভিযোগে সমন্বিতভাবে ও ৭ নম্বর অভিযোগে মুজাহিদকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড, ৫ নম্বর অভিযোগে যাবজ্জীবন এবং ৩ নম্বর অভিযোগে ৫ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। প্রমাণিত না হওয়া ২ ও ৪ নম্বর অভিযোগে খালাস পেয়েছেন মুজাহিদ।

  • বিষয়:
  • top
আরও পড়ুন

সর্বশেষ