সোমবার, সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬
প্রচ্ছদআরো খবর......গণজাগরণ মঞ্চের আনন্দ মিছিল

গণজাগরণ মঞ্চের আনন্দ মিছিল

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির রায় ঘোষণায় শাহবাগে আনন্দ মিছিল করেছে গণজাগরণ মঞ্চের দুই অংশ ও ছাত্রলীগ। রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকে শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের দুই অংশ জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান নেয়। তারা বিক্ষোভ করতে থাকে। এ সময় জাসদ ছাত্রলীগ ও অপরাজেয় বাংলাদেশ নামে দুটি সংগঠন আলাদা ব্যানার নিয়ে নিজামীর ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ করতে থাকে।

নিজামীর রায় ঘোষণার খবর শাহবাগে এসে পৌঁছালে সেখানে আনন্দের বন্যা বইয়ে যায়। তাঁরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন ও উল্লাস প্রকাশ করেন। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা টেলিভিশনে ট্রাইব্যুনালের খবর দেখছিলেন। টিভি স্ক্রলে নিজামীর ফাঁসির সংবাদ দেখানো মাত্র সেখানে উচ্ছ্বসিত ব্যক্তিদের চিৎকার শুরু হয়। নেতা-কর্মীরা মিছিলের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন।

শাহবাগ থেকে প্রথম আনন্দ মিছিল বের করে গণজাগরণ মঞ্চের কামাল পাশা চৌধুরী সমর্থক অংশটি। দুই অংশের মাঝামাঝি অবস্থান নেওয়া মহাজোট সরকারের ছাত্র সংগঠন ও ‘শাহবাগ আন্দোলনের’ নেতা-কর্মীরা এই অংশের মিছিলে যোগ দেন। এ সময় গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘আজকে এ বিচারে আমরা আনন্দিত হয়েছি, কেননা যে রায় প্রত্যাশিত ছিল সে রায় হয়েছে। এসব “নরপশু” মানুষ হত্যা করে বাংলাদেশে যে বিভীষিকাময় অবস্থা তৈরি করেছিল, বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে দুঃষহ করেছিল, তার সর্বোচ্চ শাস্তি হয়েছে, তা আমাদের আনন্দিত করেছে, খুশি করেছে।’

তবে ট্রাইব্যুনালে জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়ার পরও আপিল বিভাগে তাঁর শাস্তি কমে যাওয়াকে জনগণের একটি ‘ব্যথা’ হিসেবে উল্লেখ করেন মঞ্চের মুখপাত্র। তিনি বলেন, ‘একদিকে আমাদের একটি ব্যথার জায়গা রয়েছে, সাঈদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, তার পরও তাঁর সর্বোচ্চ শাস্তি আমরা পাইনি। সেই ব্যথা এখনো আমাদের রয়ে গেছে।’ পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে গণজাগরণ মঞ্চের এই অংশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) ঘুরে আবার শাহবাগে ফিরে আসে।

কামাল পাশা চৌধুরীর অংশটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ঘুরে শাহবাগে এসে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে। সেখানে কামাল পাশা ট্রাইব্যুনালকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘আমরা কাগুজে রায় দেখেছি, আমরা আর কাগুজে রায় দেখতে চাই না। বাস্তব রায় চাই। কাগজে-কলমে ফাঁসি চাই না, বাস্তবে ফাঁসি চাই।’ তিনি বলেন, ‘আমরা দেখতে চাই, নিজামীকে লটকে দেওয়া হয়েছে। কাগুজে রায় দেওয়ার পরে গোলাম আযম স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেছে। সাঈদী আর নিজামীর বেলায় আমরা সে কাগুজে রায় দেখতে চাই না।’

এ সময় মধুর ক্যানটিন থেকে ছাত্রলীগের একটি মিছিল ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ শেষে শাহবাগের দিকে আসে। শাহবাগ মোড় থেকে ঘুরে চারুকলার সামনে সমাবেশ করে তাঁরা। এ সময় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মেহেদী হাসান, সাধারণ সম্পাদক ওমর শরীফ বক্তব্য দেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ