এর আগে, সকাল সাড়ে নয়টার দিকে কয়েকশ’ ব্যাটারি রিকশা চালক-মালিক কর্ণেল হাট এলাকার কাট্টলী নুরুল হক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জড়ো হয়। পরে তারা সেখান থেকে একটি মিছিল নিয়ে সিটি গেইট এলাকার গোল্ডেন কন্টেইনার লিমিটেড প্রাঙ্গনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। বিক্ষোভের এক পর্যায়ে সড়ক অবরোধ করে সমাবেশ শুরু করে তারা।
সমাবেশে বক্তার বলেন, ব্যাটারি রিকশা গ্যারেজের জন্য সিটি কর্পোরেশন ট্রেড লাইসেন্স দিয়েছে। কিন্তু ব্যাটারি রিক্সার জন্য লাইসেন্স দিচ্ছে না। সিটি কর্পোরেশনের এ ধরণের সিদ্ধান্ত বৈষম্যমূলক। তারা বলেন, ব্যাটারি রিকশা বন্ধ করে ৬০ হাজার মানুষের পেটে লাথি মারা হয়েছে। এর দায় সরকারকে নিতে হবে। সমাবেশে চট্টগ্রাম রিকশা মালিক ফেডারেশনের সভাপতি সালামত আলী, চট্টগ্রাম রিকশা ও ব্যাটারি চালিত রিকশা চালক সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি আবদুল কাদের মজুমদারসহ চালক-মালিক নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
সমাবেশ ও অবরোধ চলাকালে বেলা সোয়া ১২টার দিকে সিটি গেইট এলাকার বাসায় সিটি মেয়র এম মনজুর আলমের সঙ্গে বৈঠকে বসেন চট্টগ্রাম রিকশা ও ব্যাটারি চালিত রিকশা চালক সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি আবদুল কাদের মজুমদারসহ চালক-মালিকদের কয়েকজন প্রতিনিধি। বৈঠকে এছাড়াও নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (পশ্চিম) এস এম তানভির আরাফাত, জাতীয় শ্রমিক লীগের মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম, সিটি কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিনসহ সিটি কর্পোরেশনের উর্ধ্বতন কয়েকজন কর্মকর্তা অংশ নেন। বেলা পৌনে একটার দিকে সে বৈঠক শেষ হয়। বৈঠক শেষ করে সড়কের উপর বিক্ষুব্ধ চালক-মালিকদের আশস্ত করে অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন নেতারা।
চট্টগ্রাম রিকশা ও ব্যাটারি চালিত রিকশা চালক সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি আবদুল কাদের মজুমদার জানান, মেয়র আগামীকাল (সোমবার) পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠকের জন্য প্যানেল মেয়র হাসান মোহাম্মদ হাসনী, কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিন এবং নিয়াজ মোহাম্মদ খানকে দায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা বৈঠকের ব্যাপারে আশাবাদী। বৈঠকে এ বিষয়ে কোন সুরাহা না হলে আমরা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করব।
নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (পশ্চিম) এস এম তানভির আরাফাত বলেন, পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকের ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার পর তারা অবরোধ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। অবরোধ চলাকালে কোন বিশৃঙ্খল ঘটনা ঘটেনি। সড়কে যান চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে। এদিকে, অবরোধ চলাকালে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। সিটি গেইট এলাকা থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কয়েক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।




