সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আপনারা প্রতিদিন খালেদা জিয়াকে গালিগালাজ করবেন, জিয়াউর রহমানকে খুনি বলবেন, তারেক রহমানকে কুলাঙ্গার বলবেন আর দেশের মানুষ বসে বসে তামাশা দেখবে। এখন থেকে মনে রাখবেন ইট মারলে পাটকেল খেতে হবে। বুধবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ২০ দলীয় জোট আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এ সমাবেশ আয়োজন করা হয়।
সরকার পাটকেল খেয়ে অস্থির হয়ে গেছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, কোন জিয়াউর রহমানকে আপনারা খুনি বলেন? ১৯৭১ সালে দেশকে বিপদের মুখে ফেলে আপনারা পালিয়ে যাওয়ার পর যে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন করেছিলেন, সেই জিয়াউর রহমানকে। কোন খালেদা জিয়াকে আপনারা গালিগালাজ করেন? যে খালেদা জিয়া দীর্ঘ নয় বছর স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রাম করে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছেন, সেই খালেদা জিয়াকে?
তিনি বলেন, ১৯৭২-১৯৭৫ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব যেখানে দেশকে তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিণত করেছিল, জিয়াউর রহমান সেখানে দেশকে অর্থনৈতিক উন্নয়ন এনে দিয়েছিলেন। গোটা বিশ্ব তখন বাংলাদেশকে উদীয়মান বাঘের সঙ্গে তুলনা করেছিল। সেই জিয়াউর রহমানকে খুনি বলার আগে মনে থাকে না যে ইট মারলে পাটকেল খেতে হবে।
হাসানুল হক ইনু ও রাশেদ খান মেননের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আপনারা এখন তারস্বরে জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে গালিগালাজ করছেন। আমরা এখন জানতে চাই, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত আপনাদের অবস্থান কী ছিল। শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার উৎখাতে আপনারা কি সশস্ত্র সংগ্রাম করেননি? তার বিরুদ্ধে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেননি?
বিচারকদের অভিশংসনের ক্ষমতায় সংসদের হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে আপনারা বলেছেন তত্ত্বাবধায়ক তুলে দিয়ে যে ভুলটা করেছেন সেটি সংশোধন করবেন সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার নির্বাচনের পর। হঠাৎ করে আবার কেন সংবিধান সংশোধন করে বিচারকদের অভিশংসন ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে নিচ্ছেন?
তিনি বলেন, আপনাদের উদ্দেশ্য আমরা জানি। বিচার বিভাগের কফিনে সর্বশেষ পেরেক দিতে চান। যাতে বিচারকরা আপনাদের বিরুদ্ধে সুচিন্তিত রায় না দিতে পারে। সংসদের হাতে বিচাপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা দেওয়া হলে মানুষ ন্যূনতম ইনসাফ পাবে না বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপির আন্দোলন করার ক্ষমতা নেই-সরকার দলীয় নেতাদের এমন বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, ক্ষমতার গদি ছেড়ে পুলিশ বাহিনী ছাড়া রাস্তায় আসুন। তারপর দেখা যাবে আন্দোলন করার ক্ষমতা কার কতটুকু আছে।
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর কাছ থেকে বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশ (বিজিবি)-কে প্রশিক্ষণ নিতে হবে-এমন একটি সংবাদের দিকে দৃষ্টি আকষর্ণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, যাদের হাত থেকে সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব পালন করবে বিজিবি তাদের কাছ থেকেই নাকি আবার বিজিবিকে প্রশিক্ষণ নিতে হবে।
ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মির্জা আব্বাসের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আব্দুল আউয়াল মিন্টু, বিএনপির অর্থনীতি বিষয়ক সম্পাদক আবদুস সালাম, যুব বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জামায়াত নেতা তাসনীম আলম, জাতীয় পার্টির (জাফর) মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার, ন্যাশনাল ডেমেক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) মহাসচিব আলমগীর মজুমদার, বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুইয়া প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব ও কেন্দ্রীয় বিএনপির স্বেচ্ছাসেবা বিষয়ক সম্পাদক হাবীব উন নবী খান সোহেল।




