শনিবার, অক্টোবর ২৪, ২০২৬
প্রচ্ছদঅর্থ ও বানিজ্য সময়পারটেক্স গ্রুপের ৫ ধরনের শিশু খাদ্যের অনুমোদন বাতিল করেছে সরকার

পারটেক্স গ্রুপের ৫ ধরনের শিশু খাদ্যের অনুমোদন বাতিল করেছে সরকার

পারটেক্স গ্রুপের ৫ ধরনের শিশু খাদ্যের অনুমোদন বাতিল করেছে সরকার। শিশু স্বাস্থ্যের জন্যে ক্ষতিকর হওয়াতে এসব পণ্য বন্ধ করা হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র  এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।  সূত্র জানান, পারটেক্সের ৫ ধরনের শিশু খাদ্য বাজারে ছিল। শূন্য থেকে ৬ মাস বয়সী শিশুদের বিকল্প খাদ্য যেমন ছিল, তেমনি ৭ থেকে ২৪ মাস বয়সী শিশুদের জন্যে ছিল পারটেক্সের পণ্য। এসব খাদ্য বেশিরভাগই গুঁড়ো দুধ ও সুজি জাতীয়। ৩ বছরের লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয় এ বছরই। লাইসেন্স নবায়ন করতে ইনস্টিটিউট অব পাবলিক হেলথ নিউট্রিশন (আইপিএইচএন) এর ডাইরেক্টর ডা. শাহনেওয়াজ এর শরনাপন্ন হয় পারটেক্স। শিশুর বিকল্প খাদ্য বাজারে ছাড়তে হলে আইপিএইচএন এর অনুমোদন প্রয়োজন হয়। তবে গুণগত মান না থাকায় এবং শিশুর স্বাস্থ্যের জন্যে ক্ষতিকর হওয়াতে এসব পণ্যকে আর অনুমোদন দেননি ডা. শাহনেওয়াজ। তিনি পণ্যগুলোর বাজারজাতকরণ বন্ধের নির্দেশ দেন।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত মাসেই এ ব্যাপারে পারটেক্স গ্রুপের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ৫ জনের একটি দল বেশ কয়েকবার ডা. শাহনেওয়াজের অফিসে আসেন। বিভিন্ন কৌশলে পণ্যগুলোকে বাজারে ছাড়ার অনুমতি চান। তবে শেষ পর্যন্ত অনুমোদন মেলেনি ওইসব শিশু খাদ্যের।  এদিকে সুপারশপগুলো ঘুরে দেখা যায়, পারটেক্সের ড্যানিশ গুঁড়ো দুধ রয়েছে বাজারে। তবে অন্য কোন শিশু খাদ্য দোকানগুলোতে দেখা যাচ্ছে না।

জন্মের পর থেকে ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শুধু মায়ের দুধই শিশুর একমাত্র পূর্ণাঙ্গ খাদ্য হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় সব পুষ্টিগুণ সে পেয়ে থাকে মায়ের দুধ থেকেই। ফলে শিশুর সুষম পুষ্টি নিশ্চিত করতে জন্মের পর থেকেই সে যাতে শুধু মায়ের দুধ গ্রহণ করে, তা নিশ্চিত করার বিষয়ে উদ্যোগ রয়েছে সারা বিশ্বেই। বাংলাদেশেও এ বিষয়ে সুস্পষ্ট আইন রয়েছে। আবার এসব বিকল্প শিশু খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানও তাদের শক্তি দিয়ে বাজারে রাখছে শিশু খাদ্য। চালাচ্ছে পণ্যের বিজ্ঞাপন।  বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক অ্যান্ড হেলথ সার্ভের সর্বশেষ ২০১১ সালের জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশে শিশুর জন্মের পর থেকে ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শুধু মায়ের দুধ খাওয়ানোর হার ৬৪ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্রেস্ট ফিডিং ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ‍ডা. এস কে রায় বলেন, ফর্মুলা ফুডগুলোতে কৃত্রিম স্বাদ ও গন্ধ যোগ করা হয়। এগুলো খেতে মিষ্টি হয়, তাই বাচ্চারা খেতে বেশি পছন্দ করে। কিন্তু এসব খাবার শিশুদের দৈহিক বৃদ্ধিতে বাধা হয় এবং শিশু খর্বকায় হয়।  সারা বিশ্বে শিশুদের সুষম পুষ্টি নিশ্চিত করতে ১৯৮১ সালে জেনেভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সদস্য দেশগুলো মাতৃদুগ্ধ বিকল্প খাদ্য বিপণন নিয়ন্ত্রণে ‘ইন্টারন্যাশনাল কোড অব মার্কেটিং অব ব্রেস্টমিল্ক সাবস্টিটিউটস’ নীতিমালা প্রণয়ন করে। ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশে ‘মাতৃদুগ্ধ বিকল্প খাদ্য (বিপণনের নীতিমালা) আইন’ প্রণয়ন করা হয়।

২০১৩ সালের ২২ অক্টোবর এ আইনটি সংশোধন করা হয়। তবে সংশোধিত আইনের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত ১৯৮৪ সালের আইনটি রহিত করা হয়েছে এই আইনেই।  আইন সম্পর্কে না জেনেই দোকানে বিকল্প গুঁড়ো দুধ ও ফর্মুলাগুলো বিক্রি করছেন সাধারণ দোকানি থেকে শুরু করে বিভিন্ন সুপার শপ। আগামী এক মাসের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রণয়ণ করে এসব বিকল্প শিশু খাদ্যের বিপণন নিয়ন্ত্রণ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য সচিব এম এম নিয়াজউদ্দিন।

  • বিষয়:
  • top
আরও পড়ুন

সর্বশেষ