আমরণ অনশনের পঞ্চম দিনেও তুবা গ্রুপের শ্রমিকদের সঙ্গে দেখা করতে যায়নি তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ-এর প্রতিনিধি দল। বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনের পর দুই-একদিনের মধ্যে বাড্ডার হোসেন মার্কেটে তুবা গ্রুপের কারখানায় যাওয়ার কথা জানান বিজিএমইএ নেতারা। কিন্তু শুক্রবার বিকালেও আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে দেখা করতে সংগঠনের কোনো প্রতিনিধি দল সেখানে যায়নি।
শুক্রবার সকালে বিজিএমইএ-এর আরবিটেশন কমিটির চেয়ারম্যান আহাদ আলী আনসারী জানান, তুবা গ্রুপে সমিতির পক্ষে একটি প্রতিনিধি দল পরিদর্শনে যাবে। কিন্তু বিকেল সাড়ে পাচটা পর্যন্ত কোনো পরিদর্শনকারী দলই সেখানে যায়নি। অনশনরত শ্রমিকরা বলেন, বিজিএমইএ-এর কেউ এখানে এ পর্যন্ত আসেনি। তারা আমাদের কোনো খোঁজ-খবরও নিচ্ছে না। জানতে চাইলে আহাদ আলী বলেন, আমাদের ম্যানেজমেন্ট থেকে এই কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে। এ বিষয়ে ম্যানেজমেন্ট কথা বলবে। আমি আর কিছু বলতে চাই না।
বিজিএমইএ-এর সহ-সভাপতি (অর্থ) রিয়াজ বিন মাহমুদ বলেন, তুবায় গিয়ে শ্রমিকদের সাথে দেখা করা আমাদের দায়িত্ব নয়। আমরা চেষ্টা করছি যাতে তাদের টাকা পরিশোধ করা যায়। আর সেখানে এই মুহূর্তে যাওয়ার কোনো পরিস্থিতি নেই। এ বিষয়ে বিজিএমইএ এর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বেতন বোনাস না পেয়ে শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে আছেন। তাই পরিদর্শন কার্যক্রম বাতিল করা হয়েছে। যে কোনো বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ওই কর্মকর্তা জানান।
এসব বিষয়ে তুবায় আমরণ অনশনে অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশ টেক্সটাইল ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান ইসমাইল বলেন, তুবায় অনশনরত শ্রমিকরা আর্থিক ও শারীরিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। আর এক্ষেত্রে বিজিএমইএ এর দায়িত্ব ছিলো এসব শ্রমিকদের সঙ্গে অন্তত একবার দেখা করতে আসা।
তিনি বলেন, শ্রমিকদের সঙ্গে দেখা করতে না আসাতেই প্রশানিত হয়েছে বিজিএমইএ কতোটা দায়িত্ব পালন করছেন? বিব্রতকর পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ইসমাইল বলেন, আমরা গ্যারান্টি দিচ্ছি বিজিএমইএ এর প্রতিনিধি দল এখানে এলে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবে না। তিন মাসের বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে তুবা গ্রুপের শ্রমিকরা ঈদের আগের দিন থেকে আমরণ অনশন করছে। এরেমধ্যে ৬৬ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।




