রবিবার, আগস্ট ১৬, ২০২৬
প্রচ্ছদঅর্থ ও বানিজ্য সময়ব্যাংকগুলোর সংগৃহীত আমানতের তুলনায় ঋণ বিতরণ অনেক কম

ব্যাংকগুলোর সংগৃহীত আমানতের তুলনায় ঋণ বিতরণ অনেক কম

ব্যাংকগুলোর সংগৃহীত আমানতের তুলনায় ঋণ বিতরণ অনেক কম। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মে পর্যন্ত ব্যাংক খাতের ঋণ-আমানতের অনুপাত দাঁড়িয়েছে ৭০.২৫ শতাংশ। আগের মাসেই এর অনুপাত ছিল ৭০.৬৬ শতাংশ। ডিসেম্বরে তা ছিল ৭২ শতাংশের কাছাকাছি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মে পর্যন্ত দেশের ব্যাংকগুলোতে মোট ছয় লাখ ৪৮ হাজার ৬৪১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা আমানত গচ্ছিত ছিল। এ সময় ঋণ বিতরণ করা হয়েছে মাত্র চার লাখ ৭৩ হাজার ৮৬৩ কোটি ২২ লাখ টাকা। ফলে ঋণ ও আমানতের গড় অনুপাত (এডিআর) দাঁড়িয়েছে ৭০.২৫ শতাংশ।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বছরের তুলনায় ব্যাংকগুলোর গড় আমানত বেড়েছে ১৬.৪৮ শতাংশ এবং ঋণে প্রবৃদ্ধি ঘটেছে ৮.৯৭ শতাংশ।বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্য এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বিদায়ী অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত ১১ মাসে বেসরকারি খাতে ঋণ বিতরণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৯.৪১ শতাংশ। অর্থবছরের শেষে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১৬.৫ শতাংশ। অন্যান্য অর্থবছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধির এই সীমা কম হলেও সে পর্যন্ত পৌঁছানোর সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। ২০১২ সালের ৮ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত অনুযায়ী ব্যাংক ঋণের সুদহারের ঊর্ধ্বসীমা (ক্যাপ) তুলে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরপর হু-হু করে বাড়তে থাকে সুদের হার। এতে ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে এক ধরনের অনীহা তৈরি হয় বেসরকারি উদ্যোক্তাদের মধ্যে। এ নিয়ে বিভিন্ন ফোরামে দাবি উঠলেও গত দুই-আড়াই বছরে সুদের হার কমাতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের।

এদিকে ঋণ বিতরণে কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি না হওয়ায় সম্প্রতি বিভিন্ন ব্যাংক নিজ উদ্যোগে ঋণ ও অগ্রিমের সুদহার কমাতে শুরু করেছে। গত ৩০ জুন ঘোষণা দিয়ে সুদ কমিয়েছে রাষ্ট্রমালিকানাধীন সোনালী ব্যাংক। বিভিন্ন খাতের ঋণে ১ থেকে ২ শতাংশ পর্যন্ত সুদ কমিয়েছে ব্যাংকটি। রাষ্ট্র খাতের অন্য ব্যাংকগুলোও গত ১ জুলাই থেকে বিভিন্ন হারে সুদ কমিয়েছে বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার সুদ কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বেসরকারি খাতের পূবালী ব্যাংক। এখন থেকে ব্যাংকটি নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠায় প্রদেয় ঋণে সুদ নেবে ১৫ শতাংশ হারে। আগে এই হার ছিল সাড়ে ১৬ শতাংশ।

সুদ কমানোর ঘোষণা দেওয়ার সময় পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হেলাল আহমদ চৌধুরী বলেন, শিল্পে বিনিয়োগের জন্য পুঁজি প্রাপ্তির বিষয়টি সহজ করতে হবে। দেশে পরিবেশবান্ধব ও উৎপাদনমুখী কার্যক্রমের পরিধি বাড়ছে। নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠায় অর্থায়ন করছে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। সার্বিক বিবেচনায় বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে সুদের হার কমানো হয়েছে।

হেলাল আহমদ জানান, কৃষি ঋণে ১৩ শতাংশ, মহিলা উদ্যোক্তাদের ১০ শতাংশ, প্যাকিং ক্রেডিটে ৭ শতাংশ, মসলাজাতীয় কৃষিপণ্য উৎপাদনে ৪ শতাংশ সুদ নেওয়া হয়। পরিবেশ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নমূলক খাত ও ঋণের আকারভেদে এবং গ্রাহকের মান বিবেচনায় সুদের হার আরো কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

  • বিষয়:
  • UMo
আরও পড়ুন

সর্বশেষ