ব্রেকিং নিউজ

সরকার ৩১৫০০ কোটি টাকার ঋণ নেবে ব্যাংক থেকে

ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণের পরিধি বাড়াচ্ছে সরকার। নতুন অর্থবছরে সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ৩১,৫০০ কোটি টাকার ঋণ নেবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ২৪,৭৭৬ কোটি টাকা নিট ঋণ নিয়েছে সরকার, যা গত অর্থবছরের বাজেটে ২৩,০০০ কোটি টাকার ঋণ লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। সে হিসেবে সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে লক্ষ্যমাত্রার ২,০০০ কোটি টাকা বেশি ঋণ নিয়েছে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ২৮,৫০০ কোটি টাকা করা হয়। আর ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকার ৩১,৫০০ কোটি টাকার ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ জানান, ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ নেয়ার প্রবণতা কমানো দরকার। যদি তা করতে পারে তবে মূল্যস্ফীতি কমবে। কারণ ঋণের জোগান দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে নতুন নোট ছাপিয়ে সরকারকে সরবরাহ করতে হয়। এটা সঙ্কোচনমূলক মুদ্রানীতির পরিপন্থি।

তিনি বলেন, সরকারের চাহিদামাফিক ঋণের ৬০% পিডি ব্যাংক পূরণ করার পর বাকি ৪০% নন-পিডিদের ঋণ দিতে হয়। এদিকে চলতি অর্থবছরের শেষ সময়ে সরকারের ব্যাংক লোন কমেছে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরের ১১ মাসে (জুলাই-মে) ব্যাংকিং খাত থেকে সরকার ২১,৪৭০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। তবে এ সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে পরিশোধ করায় সরকারের নিট ঋণ নেয়ার পরিমাণ ৪,২৬২ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১১,৭৫৩ কোটি টাকা।

এ অবস্থায় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ মুহূর্তে সরকারের ঋণে কোন উদ্বেগের বিষয় নেই এবং সরকারের ঋণ গ্রহণের মাত্রা এখনও বেশ পরিমিত রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে সরকার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে মোট ঋণ নিয়েছে ৯৮,০৪৮ কোটি  টাকা, যা গত জুন শেষে ছিল ৭৬,৫৭৮ কোটি ১৮ লাখ টাকা। সে হিসেবে ব্যাংক থেকে নেয়া মোট ঋণের পরিমাণ ২১,৪৭০ কোটি ১৭ লাখ টাকা বেড়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ সময়ে ব্যাংকিং খাত থেকে সরকারের নিট ঋণ রয়েছে ৪,২৬২ কোটি ৭ লাখ টাকা। ওই সময় পর্যন্ত ব্যাংকিং খাত থেকে সরকার ঋণ নিয়েছে ১ লাখ ১২,০৭৭ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছর শেষে ছিল ১ লাখ ৩,৪১৮ কোটি টাকা।

এ সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার বদলে উল্টো ধার শোধ করেছে সরকার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পাওনা হিসেবে ১৭,২০৮ কোটি ১১ লাখ টাকার ঋণ হিসেবে সরকার পরিশোধ করেছে। সূত্র জানায়, দেশের ব্যাংকগুলোর কাছে বর্তমানে পর্যাপ্ত তারল্য উদ্বৃত্ত রয়েছে। আর বিনিয়োগ মন্দা পরিস্থিতিতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এ অর্থ সরকারের ট্রেজারিতে বিনিয়োগ করেছে। আগে ব্যাংকগুলো সরকারকে ঋণ দিতে অনীহা দেখালেও বর্তমানে রীতিমতো প্রতিযোগিতা লেগে গেছে। তবে জাতীয় সঞ্চয়পত্র বিক্রির পরিমাণ কয়েক গুণ বাড়ায় সরকারের ব্যাংকঋণে আগ্রহ কমেছে। তার পরও সরকারের প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থানে ব্যাংকগুলো স্বল্প সুদে বিনিয়োগ করছে।

দেখা যায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন আর সরকারকে ঋণ দিচ্ছে না, উল্টো আগের দেয়া ঋণ পরিশোধ করছে সরকার। বর্তমানে বিনিয়োগ মন্দা পরিস্থিতিতে ঋণের চাহিদা কমে যাওয়ায় সরকারের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড ট্রেজারি বিল বা বিভিন্ন বন্ডে বিনিয়োগ করে অনেক ব্যাংক কিছু মুনাফা করার চেষ্টা করেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ব্যাংক ব্যবস্থায় ঋণের বোঝা চাপালে তার দায় ঠেকে তহবিল ব্যবস্থাপনায়। তিনি বলেন, সরকারের ঋণ দিয়ে যে পরিমাণ মুনাফা করা হচ্ছে, আমানত সংগ্রহ করতে ব্যয় হচ্ছে তার চেয়ে বেশি। এতে দেখা যাচ্ছে, সরকারের ঋণ দিতে গিয়ে তাদের নিট লোকসান হচ্ছে। সে লোকসান সমন্বয় করা হয় বেসরকারি খাত থেকে চড়া সুদের মাধ্যমে।

About bdsomoy