ষ্টাফ রিপোর্টার (বিডিসময়২৪ডটকম)
বিদ্যুৎ ও ভূমি উন্নয়ন ট্যাক্সের বকেয়া আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে সচিবসভায় এ নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা সাংবাদিকদের বলেন, সভায় সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিদ্যুৎ ও ভূমির বকেয়া বিল নিয়ে কথা হয়েছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বকেয়া বিল আদায়ের জন্য বলেছেন। এ ব্যাপারে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকেও সাহায্য করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিল বকেয়া রয়েছে। এসব বিল পরিশোধের যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। বিল পরিশোধে প্রয়োজনে অর্থ মন্ত্রণালয় প্রণোদনা দেবে। প্রাধিকার সহকারে বকেয়া পরিশোধ করতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
বেলা সাড়ে ১২টা থেকে শুরু হয়ে এ সভা চলে সোয়া ৪টা পর্যন্ত। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, বৈঠকে সুশাসন সংক্রান্ত আলোচনা হয়েছে। সচিবদের ব্যক্তিগত স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় ছিল না। সচিবগণ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি খোলামেলা কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী দিক নির্দেশনা ও গাইডলাইন দিয়েছেন।
সচিব বলেন, নতুন নতুন প্রযুক্তি-জ্ঞানকে আয়ত্তে নিয়ে তার ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রশিক্ষণের ওপরও জোর দিয়েছেন তিনি।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, নতুন টেকনোলজি জ্ঞানের যে প্রসার ঘটছে তা আয়ত্বে নিয়ে ব্যবহার করা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা বাড়ানোর কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।
সিভিল সার্ভিসে প্রশিক্ষণ বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়াও মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শন ও পরিবীক্ষণের উপর জোর দিয়েছেন। বিভিন্ন প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত সবাই কাজ করছে কিনা, সেটি পর্যবেক্ষনের জন্যে বলেছেন তিনি।
প্রকল্প বাছাই করার উপর গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন, উপকারভোগী যাতে বাদ না পড়ে। প্রকল্প গ্রহণকালে আন্তঃমন্ত্রণালয় আলোচনার ওপর গুরুত্বারোপ। এছাড়াও যথাযথভাবে প্রকল্প বাছাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
সূত্র জানায়, বৈঠকে ‘লাখো কণ্ঠে সোনার বাংলা’ আয়োজনের কথা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ আয়োজনের মাধ্যমে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার উন্মোচন ঘটেছে। এটাকে ধরে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
সিভিল সার্ভিস অ্যাক্ট প্রণয়নের কাজ ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। মোশাররাফ হোসাইন বলেন, আমরা অনেক দূর এগিয়ে গেছি। প্রধানমন্ত্রী কিছু অনুশাসন দিয়েছেন, সেগুলো পরিপালন করে বাস্তবায়ন করবো।
সচিবদের সঙ্গে বৈঠকে খাদ্যে ভেজালের বিষয়টি উঠে এসেছে। খাদ্যে ভেজাল নিয়ন্ত্রণে সচেতনতার পাশাপাশি ইনফোর্সমেন্টের উপর জোর দেন তিনি। নিবিড় পর্যবেক্ষণেরও নির্দেশ দেন। সূত্র জানান, এ কাজে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সংযুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বিগত পাঁচ বছরের প্রধানমন্ত্রী সরকারে ভিশন, ফিলোসপি, পলিসি, প্রোগ্রাম বাস্তাবয়নের প্রশংসা করেছেন।
দেশের ক্রান্তিলগ্নে নির্বাচনের আগে, পরে জনপ্রশাসনের ভূমিকার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। গণতন্ত্র এবং সাংবিধানিক ধারাকে অব্যাহত রাখতে তিনি প্রশাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের প্রশংসা করেন। বৈঠকে ৬১ জন সচিব উপস্থিত ছিলেন, যাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ২৩ জন।




