সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়২০২১ সালের আগেই বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে : জয়

২০২১ সালের আগেই বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে : জয়

ষ্টাফ  রিপোর্টার  (বিডিসময়২৪ডটকম)

অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিলেন প্রধানমন্ত্রীপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। অবহেলিত উত্তরবঙ্গে গ্যাস এনে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন,  উত্তরবঙ্গকে আমি পিছিয়ে যেতে দেবো না। আমি সজীব ওয়াজেদ জয় উত্তরবঙ্গকে দেখে রাখবো। এ অঞ্চলে অভাব থাকবে না। রোববার বিকেলে জিলা স্কুল মাঠে রংপুর জেলা আওয়ামী লীগ ও রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

আওয়ামী লীগ টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর রংপুরে এটিই জয়ের প্রথম সফর। জয়ের গ্যাস এনে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ও উত্তরবঙ্গকে দেখে রাখার ঘোষণার পর উপস্থিত জনতা উল্লাসে ফেটে পড়েন। স্লোগান ও হাততালি দিয়ে উল্লাস প্রকাশ করতে থাকেন তারা।

সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, উত্তরবঙ্গে আমরা গ্যাস এনে দেব। আমার একটা ব্যক্তিগত স্বপ্ন আছে, উত্তরবঙ্গে আমি ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার চাই। কারখানা বসাতে চাই। আরো কর্মসংস্থ‍ানের ব্যবস্থা করতে চাই। ২০২১ সালের আগেই বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে বলে মন্তব্য করে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, আমার নানার সোনার বাংলার স্বপ্ন পূরণ করবো। আমার ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণ করবো।

উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রীপুত্র বলেন, ‘বলেছিলাম ‘মুই ফির আসিম’, আমি ফিরে এসেছি। রংপুরকে বিভাগ করা, রংপুর সিটি করপোরেশন, রংপুর বিশ্ববিদ্যালয় করার ওয়াদা করেছিলাম। সে ওয়াদা পূরণ করেছি। বিগত সময়ে রংপুরের উন্নয়নের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই উত্তরবঙ্গে মঙ্গায় প্রত্যেক বছর মানুষ না খেয়ে মারা যেত। আমাদের ওয়াদা ছিলো উত্তরবঙ্গ থেকে ‘মঙ্গা’ শব্দটি মুছে ফেলবো। আমরা মঙ্গা শব্দটি মুছে ফেলেছি। আগে দেখতাম পানির অভাবে মাঠ শুকিয়ে আছে। এখন ক্ষেতে পানি আছে। মাঠে সবুজ ফসল আছে। কৃষকরা বিদ্যুৎ পাচ্ছে, আজ এখানে কৃষকদের অভাব নেই।

বিদ্যুতের উন্নয়নের কথা তুলে ধরে জয় বলেন, আগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং ছিলো। দেশে আজ বিদ্যুতের অভাব নেই, রংপুর বিদ্যুতের অভাব নেই। আমরা পর্যায়ক্রমে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেব। তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বলেছিলাম। ওয়াদা পূরণ করেছি। ইউনিয়ন তথ্যকেন্দ্র করেছি। আমরা মানুষের হাতে মোবাইল ফোন তুলে দিয়েছি। আজকে ১১’শ টাকায় মোবাইল ফোন পাওয়া যায়। দেশে ১১ কোটি মোবাইল সাবস্‌ক্রাইবার রয়েছে।

বক্তব্যে জয় শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানসহ বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে বলেন, ডিজিটাল পদ্ধতিতে রংপুর মেডিকেল কলেজের উন্নয়ন করেছি। এখন আর মানুষকে চিকিৎসার জন্য বাইরে যেতে হয় না। উপজেলা নির্বাচন নিয়ে খালেদা জিয়ার বক্তব্যের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রীপুত্র বলেন, আজ বিএনপিনেত্রী খালেদা জিয়া খুব আমাদের বিরুদ্ধে বলে যাচ্ছেন। উপজেলা নির্বাচন নিয়ে তিনি বিভিন্ন কথা বলছেন। বেগম জিয়া উপজেলা আইন বাতিল করেছিলেন। তিনি উপজেলা নির্বাচনে বিশ্বাস করেন না।

জাতীয় নির্বাচনে ভোটে অংশ নেওয়ার রংপুরবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে জয় বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে তারা (বিএনপি-জামায়াত) গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে মানুষ মেরেছে, তারা মানুষ মেরে, নৈরাজ্য করে মানুষকে হতাশ করতে চেয়েছিলো। তারপরও মানুষ ভোট দিয়েছে।

রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, নসরুল হামিদ বিপু, জুনায়েদ আহমেদ পলক, ইকবালুর রহিম, এসএম কামাল, রেজাউল করিম রাজু, শফিউর রহমান শফি, তুষার কান্তি মন্ডল, প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন, টিপু মুন্সি, আহসানুল হক ডিউক, মাহমুদুল হাসান রিপন, সিদ্দিকী নাজমুল আলম প্রমুখ।

এর আগে দুপুর থেকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা দলে দলে জনসভাস্থলে আসতে শুরু করেন। জনসভার শুরুর আগেই সমাবেশ স্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। ব্যাপক উৎসাহ ও আগ্রহ নিয়ে নারী পুরুষ নির্বিশেষে সর্বস্তরের জনগণ এ সমাবেশে অংশ নেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ