ষ্টাফ রিপোর্টার (বিডিসময়২৪ডটকম)
আগামীকাল বৃহস্পতিবার সারা দেশে ১১৫টি উপজেলায় ভোট অনুষ্ঠিত হবে তাতে জয়-পরাজয় বাংলাদেশের রাজনীতির গতিধারা পাল্টে দিতে পারে। বিশেষ করে এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয়-পরাজয় রচনা করতে পারে নতুন রোডম্যাপ। সেই রোডম্যাপ হতে পারে আন্দোলনের, হতে পারে নতুন নির্বাচনের।
দ্বিতীয় দফার এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বড় ধরনের পরাজয়ের শিকার হতে পারে-জনমনে এখন এই ধারণাই বদ্ধমূল। আবার আওয়ামী লীগ জয় ‘ছিনিয়ে’ নিতে পারে, আশে সেই আশঙ্কাও বিএনপিতে।
এর কারণও স্পষ্ট। গোপালগঞ্জেই আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীর পরাজয় হয়েছে। শেখ হাসিনার নিজ নির্বাচনী এলাকা পীরগঞ্জেও পরাজয় ঠেকাতে পারেনি আওয়ামী লীগ।
ফলে জয়ের জন্য এখন আওয়ামী লীগ মরিয়া। সামনের উপজেলা নির্বাচনগুলোতে কোনো ছাড় দিতে চায় না দলটি। ১৯ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত প্রথমপর্বে উপজেলা নির্বাচনে পরাজয় সরকারের নীতি-নির্ধারকদের মধ্যে হতাশা তৈরি করে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর আসনে সরকারদলীয় প্রার্থীর পরাজয় তার মাত্রা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।
তবে শেষ পর্যন্ত প্রহসন মার্কা কোনো নির্বাচন হলে আবার রাজনীতির মাঠ গরম হতে পারে। আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে দৃশ্যত ঝিমিয়ে পড়া বিএনপি-জামায়াত। এ আন্দোলনে যেমন জনসমর্থন থাকতে পারে তেমনি মিলতে পারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থনও।
এছাড়া এ উপজেলায় ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর কর্মীরা ভোটার ও অন্য প্রার্থীর এজেন্টদের ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার হুমকি দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে স্থানীয়ভাবে।
১১৫ উপজেলায় ভোটযুদ্ধে ১৩৫২ প্রার্থী
উপজেলা নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে বৃহস্পতিবার ভোটযুদ্ধে লড়বেন ১ হাজার ৩৫২ জন প্রার্থী। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৫০৫ জন, ভাইস-চেয়ারম্যান ৫১১ জন, ভাইস-চেয়ারম্যান (মহিলা) পদে ৩৩৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
সকাল ৮ থেকে বিকেল ৪ পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ করা হবে। ভোট গ্রহণের দিন ওই এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
এ উপজেলাগুলোতে ভোটার ১ কোটি ৯৬ লাখ ৬২ হাজার ৬৪৮ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯৮ লাখ ৪০ হাজার ৮৬৮ জন। মহিলা ভোটার ৯৮ লাখ ২১ হাজার ৭৮০ জন। ৮ হাজার ৬৩টি ভোটকেন্দ্রের ৫১ হাজার ৩১৫টি ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ করা হবে।
নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইসি ভোটকেন্দ্রে বিভিন্ন বাহিনীর ১৪ জন করে ফোর্স মোতায়েন করবে। একই সঙ্গে প্রতি উপজেলায় থাকছে ১ প্লাটুন করে সেনাবাহিনী। ইতোমধ্যে মাঠে নামানো হয়েছে র্যাপব, বিজিবি ও সেনাবাহনী।
ইসির জনসংযোগ শাখা জানায়, সেনাবাহিনীর প্রতি স্ট্রাইকিং ফোর্সের একজন কমান্ডিং অফিসার ও একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট থাকবে।
এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ, পার্বত্য এলাকা, দ্বীপাঞ্চল ও হাওর এলাকায় কেন্দ্র প্রতি ১৫ জন ফোর্স মোতয়েন করা হবে। ভোটগ্রহণের দিন অপরাধ রোধ ও শাস্তি প্রদানের জন্য মাঠে থাকবে ৪৬৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ১১৬ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট।
ভোট গ্রহণের জন্য ইতোমধ্যেই ৮ হাজার ১৩৬ জন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, ৫৪ হাজার ৪৩৬ জন সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা এবং পোলিং অফিসারসহ ১ লাখ ৮ হাজার ৮৭২ জনকে নিয়োগ করেছে ইসি।
উল্লেখ্য, দ্বিতীয় ধাপে ১১৭ উপজেলায় ভোটগ্রহণের কথা থাকলেও আইন-শৃঙ্খলা ও সীমান্ত জটিলতার কারণে কক্সবাজারের মহেশখালী এবং চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলায় ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। সেখানে ভোট হবে ১ মার্চ।




