ষ্টাফ রিপোর্টার (বিডিসময়২৪ডটকম)
নির্বাচন পদ্ধতি ও বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে হওয়া মামলার মতো অমীমাংসিত বিষয়গুলো মীমাংসার শর্ত হিসেবে কৌশলে বিএনপির স্বীকৃতি আদায় করে নেবে সরকার। এজন্য বিভিন্ন চাপও থাকবে দশম সংসদ নির্বাচন বর্জনকারী বিএনপির ওপর। চলতি বছরের জুন-জুলাইয়ে সরকারকে বৈধতা দিতে বাধ্য হবে বিএনপি এ ধরনের আশাও করছে ক্ষমতাসীনরা। ক্ষমতাসীন দলের একাধিক নীতি-নির্ধারণী নেতা সরকারের নয়া এ কৌশলের কথা নিশ্চিত করেন। তবে বিএনপির স্বীকৃতি না পেলেও সরকারের কোনো সমস্যা হবে না বলে জানান দলের নেতারা। তারা বলছেন, বিএনপি তাদের নিজেদের স্বার্থেই সরকারকে সমর্থন দেবে। সূত্র জানায়, বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা-মামলা, আলোচনা বা সংলাপ, ভবিষ্যৎ নির্বাচন সবকিছুই হবে কেবল সরকারকে বৈধতাকে ঘিরে। সরকারের এ শর্ত মেনে নিয়েই এগুতে হবে বিএনপিকে। তাছাড়া আপাতত এসব ইস্যুর সমাধানের পথে যাবে না ক্ষমতাসীনরা।
বিএনপির সঙ্গে যে কোনো ইস্যুতে আলোচনা-সমঝোতায় যাওয়ার আগে বিএনপির কাছে বৈধতা চায় সরকার। বর্তমান সরকারের বৈধতা কেউ স্বীকার না করলে তাদের সঙ্গে আলোচনা বা সমঝোতা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সাংবিধানিক নির্বাচনের পর দেশে ও দেশের বাইরে সরকার গত নির্বাচনের বৈধতা পেলেও দশম সংসদ নির্বাচন বর্জনকারী বিএনপি এখনো সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি। বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া প্রকাশ্য জনসভা ও সংবাদ সম্মেলনেও বলেছেন সরকার অবৈধ। তবে তারা তাদের দাবিও জানাচ্ছেন এই সরকারের কাছেই। এ নিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখেও পড়েছেন। অবৈধ সরকারের কাছে দাবি কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘দাবি তো এক জায়গায় জানাতে হবে। কোনো অনির্দিষ্ট জায়গায় তো আর দাবি জানানো যায় না।’
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, বিএনপি সরকারকে মেনে নিয়েই উপজেলা নির্বাচনে আসছে। মৌখিক স্বীকৃতি না দিলেও তারা সরকারকে মেনে নিয়েছে। তারপরও প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কাছ থেকে দশম সংসদের বৈধতা আদায় করতে বিরোধী শিবিরে চাপ অব্যাহত থাকবে। এবং সরকার আরো কিছু কৌশলে এ বৈধতা আদায় করে নেবে।
আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, বিএনপি উপজেলা নির্বাচনে এসে সরকারের বৈধতার বিষয়ে মৌন সম্মতি দিয়েছে বিএনপি। একাদশ সংসদ নিয়ে কথা বলার আগে প্রকাশ্যে বৈধতা দিয়ে আসতে হবে। তারা বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে এই সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তাই অবৈধ বলার সুযোগ নেই। তাদের প্রশ্ন, অবৈধ হলে এই সরকারের কাছে বিএনপি কিভাবে সংলাপ এবং নির্বাচনের দাবি জানায়? আগামী নির্বাচন নিয়ে কোনো আলোচনা করতে হলে আগে অবশ্যই সরকারকে বৈধতা দিতে হবে।
দশম সংসদ নির্বাচন ও নবগঠিত সরকারের পক্ষে মোটামুটি বিদেশি সমর্থন আদায়ের পর এবার বিএনপির কাছ থেকে সরকারের বৈধতা নিতে কৌশল গ্রহণ করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এ ধরনের একটি ইঙ্গিত পাওয়া গেছে গত ২৫ জানুয়ারি রাজধানীতে একটি অনুষ্ঠানে সরকারের শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর বক্তব্যেও। ওইদিন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বিএনপিকে এ দেশে রাজনীতি করতে হলে নাকে খত দিয়ে করতে হবে।
আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা জানান, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপির স্বীকৃতি পেলেই মীমাংসার পথে হাঁটবে আওয়ামী লীগ। এ সরকারকে বৈধ বলতে বাধ্য করা হবে বিএনপিকেও। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ মানবকণ্ঠকে বলেন, সরকারের কাছ থেকে বিএনপিকে কোনো কিছু আদায় করতে হলে আগে সরকারকে নীতিগতভাবে মেনে নিতে হবে। দ্বৈতনীতি পরিহার করতে হবে। সরকারকে অবৈধ বলে দাবি আদায় করবে এটা হতে পারে না। সরকারকে বৈধ বলেই দাবি উত্থাপন করতে হবে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ বলেন, সরকারকে অবৈধ বলে দাবি আদায় করা যাবে না। দাবি আদায় করতে হলে আগে সরকারকে বৈধ হিসেবে মেনে নিতে হবে বিএনপিকে। তারপর দাবি দাওয়া উত্থাপন করতে হবে। আমরা আশা করছি বিএনপি অচিরেই সরকারকে সমর্থন দেবে। পরে রাজনৈতিক মীমাংসার ব্যাপারে আলোচনা হবে। জুন-জুলাইয়ে এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি হবে বলে জানান তিনি।
সূত্র জানায়, বৈধতা আদায়ের কৌশলে অনেকখানি এগিয়েছে সরকার। এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ বিএনপি উপজেলা নির্বাচনে এসে সরকারের বৈধতার বিষয়ে মৌন সম্মতি দিয়েছে। সূত্র জানায়, একাদশ সংসদ নিয়ে কথা বলার আগে প্রকাশ্যে বৈধতা দিয়ে আসতে হবে এটা আওয়ামী লীগের নীতিগত সিদ্ধান্ত। নির্বাচনের মাধ্যমে এই সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তাই অবৈধ বলার সুযোগ নেই। তাদের প্রশ্ন, অবৈধ হলে এই সরকারের কাছে বিএনপি কিভাবে সংলাপ এবং নির্বাচনের দাবি জানায়? আগামী নির্বাচন নিয়ে কোনো আলোচনা করতে হলে আগে বৈধতার প্রশ্ন আসে।
আর আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বর্তমান সরকারকে মেনে নিলেই বিএনপির সঙ্গে সংলাপ হতে পারে। অন্যথায় নয়। তিনি বলেন, সরকারের বৈধতার প্রশ্নে বিএনপিকে আগে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এ সরকারকে বৈধ বলে মেনে নিয়ে বিএনপি কোনো প্রস্তাব দিলে তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তার আগে নয়।